kalerkantho

25th march banner

শ্যামপুরের বাসায় শিক্ষার্থী খুন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৯ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



শ্যামপুরের বাসায় শিক্ষার্থী খুন

রাজধানীর কদমতলীর দনিয়া এলাকার একটি বাসা থেকে গতকাল মো. স্বাধীন (১৭) নামে এক শিক্ষার্থীর গলাকাটা লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। সে এ বছর সমিরননেছা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। খুনের ঘটনার সময় বাসাটিতে স্বাধীন একা অবস্থান করছিল বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছে। বন্ধু অথবা পরিচিতজনের হাতেই স্বাধীন খুন হয়েছে বলে মনে করছে পুলিশ। এ ক্ষেত্রে স্বাধীনের বাবা সোহেল মিয়াকেও সন্দেহ করছে পুলিশ। গতকাল রাতে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছে। তবে গত রাত পর্যন্ত পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

কদমতলী থানার ওসি কাজী ওয়াজেদ আলী বলেন, ‘সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১১টার মধ্যে যেকোনো সময় স্বাধীনকে হত্যা করা হয়েছে। আলামত দেখে মনে হচ্ছে খুনি তার পরিচিত ছিল। হত্যার কারণ স্পষ্ট নয়। সন্দেহভাজন দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ’

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, স্বাধীনের বাবা সোহেল মিয়া শ্যামপুরের একটি ফিলিং স্টেশনের কর্মী। মা রিনা বেগম গৃহিণী। দুই ভাইয়ের মধ্যে স্বাধীন ছিল ছোট। তাদের গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুরের পালং এলাকায়। ঢাকায় দক্ষিণ দনিয়ার পাটেরবাগ ক্লাব রোডের ৭৯৮/২ নম্বর বাড়ির নিচতলায় ভাড়া থাকে স্বাধীনের পরিবার। দুই কক্ষের এ বাসা থেকেই গতকাল দুপুর ১টার দিকে স্বাধীনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। লাশের পাশেই ছিল একটি রক্তাক্ত বঁটি। মা রিনা বেগম জানান, সকাল ৮টার দিকে স্বামী সোহেল কর্মস্থলের উদ্দেশে বের হয়ে যান। এরপর ১০টার দিকে তিনি যান পাটেরবাগ এলাকায় ভাইয়ের বাসায়। এ সময় স্বাধীন টিভি দেখছিল। দুপুর পৌনে ১২টার দিকে পুলিশ স্বাধীনের নানি নাজমা বেগমের মোবাইল ফোনে কল করে বাসায় আসতে বলে। দ্রুত বাসায় ফিরে দেখতে পান দরজার সামনে স্বাধীনের রক্তাক্ত নিথর দেহ পড়ে আছে।

এক নারী প্রতিবেশী জানান, সকাল পৌনে ১১টার দিকে দক্ষিণ পাশের ইউনিটের তিন মহিলা দেখতে পান সিঁড়ির কাছে স্বাধীন ছটফট করছে। মহিলারা রাস্তায় গিয়ে লোকজনদের বিষয়টি জানালে পুলিশসহ অন্যরা আসে। সম্প্রতি কবুতর চুরি নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে স্বাধীনের বিরোধ হয়েছিল বলে প্রতিবেশীরা পুলিশকে জানিয়েছে।

কদমতলী থানার এসআই তৌহিদুল আরেফিন জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্বাধীনের মোবাইল ফোনটি লাশের পাশে পড়ে থাকতে দেখে। তাতে ডায়াল কলে সকাল ১০টার দিকে এক বন্ধুর নম্বর দেখা গেছে। ওই বন্ধুকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।


মন্তব্য