kalerkantho


সাক্ষাৎকার : নসরুল হামিদ বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

পরিবেশ ঠিক রেখে উন্নয়ন বড় চ্যালেঞ্জ

২৯ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



পরিবেশ ঠিক রেখে উন্নয়ন বড় চ্যালেঞ্জ

১৯৭২ সালে বাংলাদেশে উৎপাদিত হতো মাত্র ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। বড় বড় শহরের কিছু ভাগ্যবান মানুষ এ বিদ্যুতের সুবিধা পেতেন।

এখন বিদ্যুৎ উৎপাদন আট হাজার মেগাওয়াটে পৌঁছেছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলেও এখন সহজলভ্য বিদ্যুৎ। দেশের ৭৩ শতাংশ মানুষ বিদ্যুতের আওতায়। আওয়ামী লীগের ২০০৯ সালের নির্বাচনী ইশতেহার ‘ভিশন ২০২১’ অনুযায়ী সরকার পরিকল্পনা করেছিল ২০২০ সালের মধ্যে সবার বাড়িতে জ্বলবে বিদ্যুতের বাতি। ত্বরিতগতির কারণে ২০১৮ সালের মধ্যেই কিছু পাহাড়ি ও উপকূলীয় দুর্গম এলাকা বাদে সবখানে পৌঁছে যাবে বিদ্যুৎ। অথচ মাত্র দুই বছর আগেও খোদ রাজধানীতে দফায় দফায় যেত বিদ্যুৎ। লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ ছিল মানুষ। বিদ্যুৎ বিভাগ এখন পরিকল্পনা নিয়েছে ২০২৫ সালের মধ্যে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের। বিদ্যুতে কিভাবে অভাবনীয় উন্নতি? সে কথাই জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ

সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।

এ ছাড়া তিনি বলেছেন রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে বিতর্কসহ নানা বিষয়ে। নসরুল হামিদের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন কালের কণ্ঠের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক আরিফুজ্জামান তুহিন।

উন্নয়ন ও পরিবেশ মুখোমুখি দাঁড়িয়ে যাচ্ছে। আমাদের উন্নয়ন যেমন দরকার, তেমনি পরিবেশও দরকার। সে ক্ষেত্রে এ সরকারের দৃষ্টিভঙ্গিটা কী?

নসরুল হামিদ : এই সরকার পরিবেশবান্ধব সরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার থেকে পরিবেশবান্ধব কেউ হতে পারে না এই বাংলাদেশে। পরিবেশ ঠিক রেখে উন্নয়নও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এটি একটি ছোট্ট দেশ। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে বাংলাদেশ ঝুঁকিতে আছে। ফলে সবার আগে পরিবেশ রক্ষার ব্যাপারটি আসা দরকার। আমাদের যত উন্নয়ন অবকাঠামো তৈরি হবে ও হচ্ছে, তা কিন্তু পরিবেশের কথাটি মাথায় রেখেই করা হচ্ছে। পরিবেশকে বাঁচিয়ে রেখেই উন্নয়ন, এর কোনো বিকল্প নেই।

তবে কি রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের ফলে সুন্দরবনের কোনো ক্ষতি হবে না মনে করেন?

নসরুল হামিদ : যে জায়গায় বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে তা রামপাল, বাগেরহাটে। দেশের আইন অনুযায়ী সুন্দরবনের ১০ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা যাবে না। এই ১০ কিলোমিটার হলো রেড এরিয়া জোন। আমাদের বিদ্যুৎকেন্দ্র ১০ কিলোমিটার থেকে আরো চার কিলোমিটার দূরে অর্থাৎ সুন্দরবন থেকে ১৪ কিলোমিটার দূরে। এ ছাড়া ইউনেসকোর যে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট সেটি এই কেন্দ্র থেকে ৮০ কিলোমিটার দূরে। আমরা কেন্দ্র নির্মাণে সুপারক্রিটিক্যাল টেকনোলজি ব্যবহার করছি। কেন্দ্রের জন্য যে কয়লা আসবে, তা কিন্তু ঢেকে আসবে। ফলে এ কেন্দ্রের কোনো প্রভাব সুন্দরবনের ওপর পড়বে না।

গত সাত বছরে রেকর্ড পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে—এই গ্রীষ্মে ঢাকাসহ বড় শহরগুলোতে অতীতের তুলনায় লোডশেডিং নেই বলা চলে। বিদ্যুৎ খাতে এই সাফল্যের পেছনে আসলে কী?

নসরুল হামিদ : এই সাফল্যের মূল কারিগর হলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ যখন জনগণের বিপুল সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করে তখন আমাদের কাছে জনগণের বড় ধরনের প্রত্যাশা তৈরি হয়। ওই নির্বাচনে আমরা দিন বদলের যে সনদ দিয়েছিলাম সেখানেও বিদ্যুৎ উৎপাদনের ওপর জোর দেওয়া হয়েছিল। ২০০৯ সালে কিন্তু গড়ে তিন হাজার মেগাওয়াটের মতো ছিল বিদ্যুৎ উৎপাদনের রেকর্ড। তখন প্রতিদিনই সংবাদপত্রে লোডশেডিংয়ের খবর থাকত বড় করে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে তখন দীর্ঘ, মধ্য ও স্বল্পমেয়াদে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা করা হলো। এরপর আমরা দ্রুত বিদ্যুৎ উৎপাদনে মনোযোগ দিলাম। তখনই আমরা বলেছিলাম, দেশে লোডশেড থাকবে না। আজ দেশে কোনো লোডশেডিং নেই, কিন্তু এর পরও বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে মাঝে মধ্যে। এর কারণ হলো বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ আমরা গত সাত বছরে উৎপাদন করেছি, সে তুলনায় আমাদের সঞ্চালন ও বিতরণ লাইন নেই। এখন আমরা সঞ্চালন ও বিতরণ লাইন স্থাপনে মনোযোগ দিচ্ছি।

পরিকল্পনায় তো ভালো ভালো কথা লেখা থাকে। কিন্তু পরিকল্পনা বাস্তবায়নেই সমস্যা দেখা যায়, দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়। এসবের কারণে কিন্তু গত বিএনপি আমলে মাত্র দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা গেছে। আপনাদের সরকার এ সমস্যা কিভাবে মোকাবিলা করল?

নসরুল হামিদ : এখানেও একটি বিশেষ পরিকল্পনা ছিল প্রধানমন্ত্রীর। কারণ কোনো পরিকল্পনা নেওয়া হলে তা বাস্তবায়নে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা যেমন আছে, তেমনি ছোটখাটো কারণে দীর্ঘসূত্রতাও তৈরি হয়ে থাকে। এ জন্য আমরা জরুরি জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ আইন পাস করি। মূলত এ আইনটি আমাদের বিদ্যুৎ উৎপাদন দ্রুত হওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এই দ্রুত আইন না করলে বিদ্যুতে এত সাফল্য আনা যেত না। তখন কিন্তু এর দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রী নিজে নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, প্রয়োজনে দোষ আমার ওপরে পড়বে। আপনারা বিদ্যুৎ উৎপাদন করুন। আজকে যখন কেউ দেখছেন বিদ্যুৎ যাচ্ছে না, তিনি আসলে এখন কল্পনাও করতে পারবেন না সাত বছর আগে কী পরিস্থিতি ছিল। আর আমরা কিভাবে এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করে সামনে এলাম।

প্রতি মাসে প্রায় চার লাখ গ্রাহককে বিদ্যুতের সংযোগ দেওয়া হচ্ছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওয়াদা ছিল ২০২১ সালে সব ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া হবে। যেভাবে কাজ হচ্ছে তাতে ওই সময়ের আগেই ২০১৮ সালের মধ্যেই সবার ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে যাবে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি নির্দেশনা দিয়েছেন, কোন খাতে কখন আমরা কোথায় যাব, সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশ কোথায় যাবে। এই দিকনির্দেশনা বিদ্যুৎসহ সব খাতের উন্নয়নে ভূমিকা রেখেছে। এই দিকনির্দেশনা ধরে ২০২১ সালে আমরা মধ্য আয়ের দেশে গেলে কত বিদ্যুতের প্রয়োজন হবে, ২০৩১ আসলে কী হবে, ২০৪১ সালে যদি উন্নত দেশ হয় তাহলে বিদ্যুতের ব্যবহার কী পর্যায়ের হবে, এই দিকনির্দেশনা ধরেই বিদ্যুতের উৎপাদন হয়েছে। আমরা দীর্ঘ, মধ্য ও স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েছিলাম। স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হওয়ায় আমরা বিদ্যুতের উৎপাদনে একটি ভালো জায়গায় এসেছি। এখন মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সময়। বিদ্যুতের উৎপাদনের এই পরিকল্পনার সঙ্গে সঞ্চালন ও বিতরণব্যবস্থাকে উন্নত করার কাজ কিন্তু চলছে। একই সঙ্গে এই বিপুল কর্মযজ্ঞ পরিচালনার জন্য আমাদের যে মানবসম্পদের প্রয়োজন তাও ঢেলে সাজানোর প্রক্রিয়ায় আমরা আছি।

বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদনের সঙ্গে সঞ্চালন ও বিতরণব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি—আপনি বললেন ঢেলে সাজানোর প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। প্রক্রিয়াটা কী পর্যায়ে আছে?

নসরুল হামিদ : প্রথমে আমরা বিদ্যুৎ উৎপাদনের ওপর মনোযোগ দিয়েছি—সেটাই তখন চ্যালেঞ্জ ছিল। এখন আমাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দেওয়া। শুধু নিরবচ্ছিন্নই নয়—একই সঙ্গে আমাদের বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের ওপরও জোর দিতে হবে। এখন ঢাকা শহরে যদি নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দিতে হয় এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে হয় তাহলে ঢাকার বিদ্যুতের সব লাইন ভূগর্ভে নিয়ে যেতে হবে। মাটির নিচে সাবস্টেশন করতে হবে। এখানে অন্তত ২০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে হবে। ঢাকার পর বিভিন্ন শহর রয়েছে, এ ছাড়া যেখানে এখনো বিদ্যুৎ যায়নি সেখানে নতুন সংযোগ দিতে হবে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দেওয়া হলে শুধু ঢাকা শহরেই চাহিদা বাড়বে ২০ শতাংশ। এ ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে অর্থের জোগান দিতে হবে। এখন নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে ধরুন ৫০ হাজার কিলোমিটার লাইন টেনে ফেলব, টাকা থাকলেও সেটি আমরা পারছি না। কারণ এটি করতে যা যা দরকার, যেমন ধরুন যে পরিমাণ খাম্বা দরকার তা সরবরাহ করার মতো কোনো প্রতিষ্ঠান দেশে নেই। বিদ্যুৎ সেক্টরে গত সাত বছরে যে পরিমাণ ফ্যাক্টরি, লোকবল, সাপ্লাইয়ার তৈরি হয়েছে তা কিন্তু বিশাল কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছে। কিন্তু এর পরও আরো দ্রুত কাজ করার জন্য আমাদের কিন্তু সেই পরিমাণ প্রতিষ্ঠান নেই যারা এসব অবকাঠামো নির্মাণে কাজ করতে পারে। যা আছে এটি আরো তিন গুণ বাড়াতে হবে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে এখন কনট্রাক্টর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এখন প্রতি মাসে চার লাখ নতুন গ্রাহককে বিদ্যুতের সংযোগ দেওয়া হচ্ছে। এই চার লাখ কানেকশন দিতে হিমশিম খেয়ে যাচ্ছি আমরা। সঞ্চালন, বিতরণ ও উৎপাদনকে আমরা একটি সামগ্রিক পরিকল্পনার মধ্যে এনেছি।

আপনি এই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দুই বছর পার করেছেন। কিভাবে মূল্যায়ন করবেন নিজেকে?

নসরুল হামিদ : আমরা এখন নতুন ক্যাম্পেইনে যাচ্ছি, সেটি হলো সাশ্রয়ী ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ। ২০২৫ সালের মধ্যে আমরা সাশ্রয় ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারব। এটাই এখন আমাদের মূল ক্যাম্পেইন হবে। এখন কিন্তু আমাদের মাথায় লোডশেডিং নেই। কারণ এটি আমরা জয় করেছি। বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে হবে। আমরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের ব্যাপারে প্রচার চালাব। বিদ্যুৎ বিভাগের ওয়েবসাইট নতুন করে হচ্ছে। এটি সার্ভিস ওরিয়েন্টেড ওয়েবসাইট করা হচ্ছে। এগুলো যে একটা সার্ভিস, জনগণের সেবা—সেই মনোভাব বাস্তবেই থাকতে হবে।

ঢাকাসহ বড় শহরে এখন বিদ্যুতের পরিস্থিতির অনেক উন্নতি হয়েছে। কিন্তু ঝড়-বৃষ্টি নামলেই বিদ্যুৎ চলে যায়। এটি কেন?

নসরুল হামিদ : এটি সত্য যে ঝড়-বৃষ্টি এলে বিদ্যুৎ চলে যায়। অর্থাৎ ঝড়-বৃষ্টিকে মোকাবিলা করতে এখনো আমরা সক্ষম নই। কিন্তু এটি কেন থাকবে? আমরা নতুন প্রযুক্তি ও আধুনিক ব্যবস্থা গড়ে তুললে প্রাকৃতিক এসব বাধা বিদ্যুৎ সরবরাহে কোনো বিঘ্ন সৃষ্টি করতে পারবে না। এ কারণে আমরা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য কাজ করছি। আশা করি, ২০২৫ সালের মধ্যে এটি সম্ভব হবে।

ভারত থেকে এখন ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি হচ্ছে—ভবিষ্যতে ভারতের জলবিদ্যুতে বিনিয়োগের সম্ভাবনার বিষয়গুলো কিভাবে দেখছেন?

নসরুল হামিদ : ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোতে লাখের ওপরে মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে সেখানে কাজ চলছে। আমরা এরই মধ্যে ভারত থেকে ৬০০ মেগাওয়াট আমদানি করছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের জলবিদ্যুতে এক বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের সম্ভাব্যতা দেখার সম্মতি দিয়েছেন। এর অর্থ ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জলবিদ্যুতে আমাদের বিনিয়োগ সম্ভাব্যতা এখন আমরা যাচাই করব। যদি সেখানে বিনিয়োগ করা যায় তাহলে কিন্তু কম টাকায় বিদ্যুৎ আনা যাবে। এ ছাড়া নেপাল ও ভুটান থেকে বিদ্যুৎ আমদানির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আমাদের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে আস্থার, বিশ্বাসের। ভবিষ্যতের দক্ষিণ এশিয়া হবে আঞ্চলিক সহযোগিতার দৃষ্টান্ত। ২০৩০ সালের মধ্যে এসব দেশ থেকে ছয় হাজার ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আনবে সরকার।

বাপেক্সকে শক্তিশালী ও কার্যকর করতে আপনাদের পরিকল্পা কী?

নসরুল হামিদ : আমরা এখন যোগ্য লোক খুঁজছি বাপেক্সের জন্য। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাপেক্সকে শক্তিশালী করতে রিগ কিনে দিয়েছেন। বাপেক্সের লোক দরকার। সেই যোগ্য লোকই এখন আমরা সন্ধান করছি। যে রিগ আছে এর পাশাপাশি পুরনোগুলোর স্থানে নতুন রিগ আনার চেষ্টা আমরা করছি। ১০৮টি ড্রিলিং জয়েন্ট ভেঞ্চারে হবে, এগুলো বাপেক্সকে সঙ্গে রেখেই করা হবে। এতে বাপেক্সের সামর্থ্য বাড়বে। মাগনামাতে যৌথভাবে স্টাটঅয়েলের সঙ্গে বাপেক্সের কাজ করার সম্ভাবনা আছে।

দেশের বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাতের সেবাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে গ্রাহক হয়রানি হয়ে থাকে। সম্প্রতি দায়িত্বে অবহেলার জন্য তিতাস গ্যাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এটি নিরসনে আপনাদের কী পরিকল্পনা?

নসরুল হামিদ : সেবার জায়গাটাই তারা (তিতাসকে উদ্দেশ করে) বুঝতই না। এটি যে একটি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান এই ধারণাটাই তাদের ছিল না। আর এটি না থাকাটাই সাভাবিক। কারণ তিতাসের এত বড় একটি অঞ্চলে গ্যাস বিতরণ করে এটি একই সঙ্গে তারা মনোপলি করে আসছিল। বিদ্যুতের উৎপাদনের ক্ষেত্রে বেসরকারি কম্পানিগুলো আসায় কিন্তু পরিস্থিতি পাল্টে গেছে; এককভাবে সরকারি নিয়ন্ত্রণে থাকলে এই পরিবর্তন হতো না। আমি মনে করি, সেবা খাতের যেসব সরকারি প্রতিষ্ঠান আছে সেগুলোকে পাবলিক প্রাইভেটের মাধ্যমে সমন্বয় সাধন করা উচিত। তাহলে পরিস্থিতি আমূল পাল্টে যাবে। আমরা সেদিকেই এগোচ্ছি। আমরা চাই দেশের বিদ্যুৎ ও গ্যাসসহ সকল সেবা খাত জনগণের কথা মাথায় রেখে কাজ করুক।


মন্তব্য