kalerkantho


রিজার্ভের অর্থ ফিরে পেতে নিউ ইয়র্কে মামলার প্রস্তুতি

আবুল কাশেম   

২৯ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



রিজার্ভের অর্থ ফিরে পেতে নিউ ইয়র্কে মামলার প্রস্তুতি

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বা মজুদ থেকে চুরি হওয়া অর্থ উদ্ধার করার লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউ ইয়র্কের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ক্ষতিপূরণ চেয়ে এ মামলা করা হবে।

মামলা করার ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে নিউ ইয়র্ক শহরের একজন লিগ্যাল কাউন্সিল বা আইনজীবী নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গভর্নর ড. ফজলে কবির জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেনকে চিঠি দিয়ে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে অনুরোধ করেছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের সুইফট রুমের এক প্রতিবেদনে অর্থ স্থানান্তরের ক্ষেত্রে নিউ ইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের দুর্বলতা চিহ্নিত হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করার এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এদিকে চুরি হওয়া এই অর্থ আইনি প্রক্রিয়ায় উদ্ধার করার উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার দপ্তর ও বিশ্বব্যাংক সহায়তা দেবে বলে জানা গেছে। এ ছাড়া রিজার্ভ চুরির ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করার লক্ষ্যে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড অ্যালার্ট জারির উদ্যোগ নেবে এ-সংক্রান্ত মামলার তদন্তকারী সংস্থা সিআইডি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সিআইডিকে ই-মেইলে সব তথ্য দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। অন্যদিকে রিজার্ভের অর্থ অবৈধভাবে স্থানান্তরের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে তথ্য দিতে বিশ্বব্যাপী অর্থপাচার প্রতিরোধী সংস্থা এগমন্ট গ্রুপের ১৫০টি সদস্য দেশকে অনুরোধ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ফিন্যানশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। পাশাপাশি রিজার্ভ চুরির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান ফিলিপাইন থেকে হংকংয়ে অর্থ পাঠিয়েছে কি না, তা জানানোর জন্য হংকংয়ের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থাকে অনুরোধ করা হয়েছে। রিজার্ভ চুরি নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন গত ১৬ মার্চ অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

ওই প্রতিবেদনের তথ্য, চুরি হওয়া অর্থ উদ্ধারে সিআইডি, বাংলাদেশ ব্যাংক ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের এক বিশেষ সভার সিদ্ধান্ত এবং অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের নেওয়া উদ্যোগ বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য জানা গেছে।

ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের ভূমিকা সম্পর্কে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো বাংলাদেশ ব্যাংকের সুইফট রুমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘কোনো রকম যাচাই-বাছাই না করেই ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অননুমোদিত পাঁচটি পেমেন্ট ইনস্ট্রাকশন পাওয়ার ভিত্তিতে ১০ কোটি ডলার স্থানান্তর করেছে। আমরা মনে করি, ফেডারেল রিজার্ভের দিক থেকে এটা বড় দুর্বলতা। তাই আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ে আমাদের আইনগত দাবি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে। ’ 

এর আগে মামলা করার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস এবং কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআইয়ের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা করেছে। বিশ্বব্যাংকের সদর দপ্তর ও ঢাকা মিশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও আলোচনা করে সহায়তা চেয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। স্টোলেন অ্যাসেট রিকভারি ইনিশিয়েটিভ (স্টার) নামে বিশ্বব্যাংক ও জাতিসংঘের এক যৌথ কর্মসূচির আওতায় অর্থ উদ্ধার প্রক্রিয়ায় সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বিশ্বব্যাংক কর্মকর্তারা। বাংলাদেশ ব্যাংকের আইটি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও সহযোগিতা দেবে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

জানা গেছে, নিউ ইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের বিরুদ্ধে মামলায় পেমেন্ট নির্দেশনা যাচাই না করেই অর্থ স্থানান্তর করার অভিযোগ তুলে ক্ষতিপূরণ দাবি করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ ঘটনায় সম্পৃক্ত নিউ ইয়র্কের আরো চারটি ব্যাংককে অভিযুক্ত করে ক্ষতিপূরণ চাওয়া হবে। ব্যাংকগুলো হলো ওয়েলস ফার্গো নিউ ইয়র্ক ইন্টারন্যাশনাল, ব্যাংক অব নিউ ইয়র্ক মেলন, সিটি ব্যাংক নিউ ইয়র্ক সিটি ও ডিবিটিসিও আমেরিকাস নিউ ইয়র্ক সিটি। চুরি হওয়া ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে এসব ব্যাংকের মাধ্যমে ফিলিপাইনের রিজাল ব্যাংকে স্থানান্তর হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের ভূমিকা সম্পর্কে বলা হয়েছে, রিজার্ভ চুরির পর গত ৬ ফেব্রুয়ারি সুইফট কেস নম্বর ১০৫২২৯২৬ খোলার সঙ্গে সঙ্গে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের সুইফট সাপোর্ট কেস ম্যানেজারকে দ্রুত অসুবিধার কথা জানানো হয়। ওই দিন ফেডারেল রিজার্ভের ওয়েবসাইট থেকে নম্বর সংগ্রহ করে টেলিফোন করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয় বাংলাদেশ ব্যাংক। পরে দুপুর ১টা ৩১ মিনিটে অবৈধ পেমেন্ট ইনস্ট্রাকশনের ৩৫টি আদেশের বিপরীতে অর্থ ছাড় না করতে ই-মেইল পাঠানো হয় রিজার্ভ ব্যাংকের কাছে। সব মিলিয়ে তখন চারটি ই-মেইল ও বিকেল ৫টার সময় একটি ফ্যাক্সবার্তা পাঠানো হয়। ৭ ফেব্রুয়ারি সুইফট সিস্টেম বন্ধ ছিল। তা সত্ত্বেও টেলিফোনে রিজার্ভ ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ৮ ফেব্রুয়ারি রিজার্ভ ব্যাংকের সুইফট সিস্টেম থেকে সাড়া পাওয়া যায়। ওই দিন সুইফট সিস্টেম চালু করার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংক ৩৫টি পেমেন্ট ইনস্ট্রাকশনের বিপরীতে অর্থ পাঠানো বন্ধ করা এবং কোনো অর্থ পাঠিয়ে থাকলে তা ফেরত আনার অনুরোধ জানিয়ে রিজার্ভ ব্যাংকসহ নিউ ইয়র্কের অন্য চারটি ব্যাংককে একটি বার্তা পাঠায়। ফেডারেল রিজার্ভের তরফ থেকে যেসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা জানিয়ে ৯ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংককে একটি বার্তা পাঠানো হয়। ৪ ফেব্রুয়ারির পর রিজার্ভ ব্যাংকের তরফ থেকে ৯ ফেব্রুয়ারি এই বার্তা পাঠানোর আগে আর কোনো যোগাযোগ করা হয়নি। ওই দিন রিজার্ভ ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে টেলিকনফারেন্সে কথা বলতে চায়। সন্ধ্যার দিকে ওই টেলিকনফারেন্সের সময় বাংলাদেশ ব্যাংক রিজার্ভ চুরি নিয়ে স্পষ্ট ধারণা পায়। পরের দিনও রিজার্ভ ব্যাংকের সঙ্গে আরেকটি টেলিকনফারেন্স হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে নিরাপদে লেনদেনের জন্য একটি প্রটোকল সই করার ওপর জোর দিচ্ছিল ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক, যার ভিত্তিতে পেমেন্ট ইনস্ট্রাকশনগুলো যাচাই-বাছাই করা হবে। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে এটি কার্যকর করা হয়েছে। তবে প্রটোকলটি অস্থায়ী। লেনদেনের ক্ষেত্রে বহুমুখী যাচাই ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক ‘সিকিউরিটি প্রসিডিউরস ফর দি অথেনটিকেশন অব ফান্ডস ট্রান্সফার ইনস্ট্রাকশনস’ নামে নতুন প্রটোকল সই করতে রাজি হয়েছে।    

ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকসহ নিউ ইয়র্কের অন্য চারটি ব্যাংকের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে বলে বিভিন্ন সময় সাংবাদিকদের জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি বলেছেন, পেমেন্ট ইনস্ট্রাকশনগুলো সঠিক কি না, তা যাচাই না করেই রিজার্ভ ব্যাংক টাকা ছাড় করেছে। তাই রিজার্ভ ব্যাংকের অবশ্যই দায় আছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, রিজার্ভ ব্যাংক অবশ্যই দায় এড়াতে পারে না। কারণ একটি দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের টাকা ফিলিপাইনের রিজাল ব্যাংকে কোনো ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে ছাড় করার আগে অবশ্যই যাচাই করা দরকার ছিল। কারণ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের টাকা সাধারণত কোনো ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে যায় না, প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্টে যায়। আর বাংলাদেশ ব্যাংকের টাকা ক্যাসিনোতে যাবে জেনেও ফিলিপাইনের রিজাল ব্যাংক তা তুলে নিতে দিয়েছে, তারাও দায় এড়াতে পারে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র শুভঙ্কর সাহা জানান, রিজার্ভের চুরি হওয়া অর্থ উদ্ধারে সহায়তা চেয়ে গভর্নর ফজলে কবির জাতিসংঘে বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি ও যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের বোর্ড অব গভর্ন্যান্সের চেয়ারম্যানকে চিঠি দিয়েছেন। অর্থ উদ্ধারে সহায়তার পাশাপাশি কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য চিঠিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

রিজার্ভ চুরির অন্তর্বর্তীকালীন তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৮টি যৌক্তিক পেমেন্ট ইনস্ট্রাকশন (পিআই) নিষ্পত্তি করার পর গত ৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে সুইফট রুমের কার্যক্রম বন্ধ করেন কর্মকর্তারা। পরের দুদিন ছিল শুক্র ও শনিবার। ৬ ফেব্রুয়ারি সুইফট রুমের (ব্যাক অফিস অব দ্য ডিলিং রুম) কিছু বিষয় সন্দেহ জাগায়। এর মধ্যে রিজার্ভ ব্যাংক পাঠানো এমটি (মানি ট্রান্সফার)-৯৫০ নামের একটি ফাইল দেখা যায় ভাইরাস আক্রান্ত। ফাইলটি খোলা যায়নি। প্রিন্টার কানেকশন বিচ্ছিন্ন ছিল এবং প্রিন্ট কমান্ড কাজ করছিল না। ‘সন্দেহজনক লেনদেন’ নামে ৪ ফেব্রুয়ারি ফেডারেল রিজার্ভ থেকে দুটি বার্তা আসে। সব পেমেন্ট ইনস্ট্রাকশন আসে এমটি ১০৩ সুইফট মেসেজ থেকে, যার অর্থ হলো টাকা যাবে ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে, কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে নয়। মূলত যে অ্যাকাউন্টে যাবে, সেই অ্যাকাউন্ট সম্পর্কে কোনো তথ্য না থাকায় ফেডারেল রিজার্ভ ৮৫ কোটি ডলারের ৩০টি আদেশ ব্লক করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে যাচাই-বাছাই না করেই ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার স্থানান্তর করে রিজার্ভ ব্যাংক।

অন্য চারটি ব্যাংকের মধ্যে ওয়েলস ফার্গো ব্যাংকের মাধ্যমে রিজাল ব্যাংকে মাইকেল এফ ক্রুজের অ্যাকাউন্টে (নম্বর : ৯০১৩-৫৪৭-০৪৭) ৬০ লাখ ৩৯ ডলার ১২ সেন্ট এবং আলফ্রেড এস ভারজারার অ্যাকাউন্টে (নম্বর : ৯০১৩-৫৪৭-০৯৮) দুই কোটি ডলার ঢোকে। ব্যাংক অব নিউ ইয়র্ক মেলনের মাধ্যমে রিজাল ব্যাংকে জেসি ক্রিস্টফার এম লাগ্রোসাসের অ্যাকাউন্টে (৯০১৩-৫৪৭-০৫৫) ঢোকে তিন কোটি ৩৯ ডলার ১২ সেন্ট। সিটি ব্যাংক নিউ ইয়র্ক সিটির মাধ্যমে রিজাল ব্যাংকে ইনরিকো টি ভাসকুয়েজের অ্যাকাউন্টে (নম্বর : ৯০১৩-৫৪৭-১৫৬) যায় দুই কোটি ৫০ লাখ এক হাজার ৫৮৩ ডলার ৮৮ সেন্ট। আর ডিবিটিসিও আমেরিকাস নিউ ইয়র্ক সিটির মাধ্যমে শ্রীলঙ্কার প্যাস এশিয়া ব্যাংকিং করপোরেশনে শালিকা ফাউন্ডেশনের অ্যাকাউন্টে ঢোকে দুই কোটি ডলার। তবে এ ক্ষেত্রে ইংরেজিতে ‘ফাউন্ডেশন’ বানান ভুল হওয়ায় ওই অর্থ বাংলাদেশকে ফেরত দেয় শ্রীলঙ্কা।  

জানা যায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্ভার হ্যাক করে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে চুরি হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারের জন্য গত ১৬ মার্চ বিএফআইইউয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা মোহা. রাজী হাসানের কক্ষে এক বিশেষ সভা হয়। ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ফেরদৌস খান, সিআইডি, বাংলাদেশ পুলিশের ডিআইজি পর্যায়ের এক কর্মকর্তা, বিশেষ পুলিশ সুপারসহ সিআইডি ও বিএফআইইউয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। সভায় চুরি হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারের জন্য আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়। অপরাধ সম্পর্কিত বিষয়ে পারস্পরিক সহায়তা আইন, ২০১২-এর আওতায় ফিলিপাইনের কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের কাছে বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ হিসেবে অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস চুরি হওয়া রিজার্ভ পুনরুদ্ধারে সহায়তা চাইবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক এরই মধ্যে অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসকে প্রয়োজনীয় সব নথিপত্র পাঠিয়েছে। রিজার্ভ চুরির ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট জারির উদ্যোগ নেবে সিআইডি। রেড অ্যালার্ট জারি করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সিআইডিকে ই-মেইলে সব তথ্য দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বিশ্বব্যাপী অর্থপাচার প্রতিরোধী সংস্থা এগমন্ট গ্রুপের সদস্যসংখ্যা বাংলাদেশসহ ১৫১টি দেশ। রিজার্ভের অর্থ অবৈধভাবে স্থানান্তরের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে তথ্য দিতে এসব দেশকে অনুরোধ করেছে বিএফআইইউ। পাশাপাশি রিজার্ভ চুরির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান ফিলিপাইন থেকে হংকংয়ে অর্থ পাঠিয়েছে কি না, তা জানানোর জন্য হংকংয়ের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থাকে অনুরোধ করা হয়েছে। আর শ্রীলঙ্কার শালিকা ফাউন্ডেশন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে দেশটিকে।

অর্থ মন্ত্রণালয়কে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, রিজার্ভের চুরি হওয়া অর্থ উদ্ধারে এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপ অন মানি লন্ডারিংয়ের (এপিজি) সহায়তাও চেয়েছে বাংলাদেশ। এপিজির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ডেভিড শ্যানন সব ধরনের সহায়তা করার আশ্বাস দিয়ে ই-মেইল পাঠিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ফিলিপাইন কর্তৃপক্ষ যাতে ‘অ্যাসেট ট্রেসিং অ্যান্ড ফ্রিজিং’ বা সম্পদ চিহ্নিত করে তা জব্দ করতে উদ্যোগ নেয়, সে জন্য এপিজিকে আরো একটি ই-মেইল পাঠিয়েছেন আবু হেনা মোহা. রাজী হাসান।

রিজার্ভ চুরির বিস্তারিত বিবরণসংবলিত প্রতিবেদনের কপি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কেও দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তাতে সন্তুষ্ট অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত নোট লিখেছেন, ‘ধন্যবাদ। বাংলাদেশ ব্যাংক হতে প্রাপ্ত প্রতিবেদন শুধু পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নয়, ফিলিপাইনে আমাদের দূতাবাসকেও পাঠানো উচিত হবে। ’ অর্থমন্ত্রীর এ নোট পেয়ে প্রতিবেদনটি ফিলিপাইন দূতাবাসেও পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তারা।

বাংলাদেশ ব্যাংককে ফিলিপাইন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রিজাল ব্যাংকে হিসাব খোলার সময় মাইকেল এফ ক্রুজ মাকাতি সিটির আলিয়া এভিনিউয়ের কনভার্জি বিল্ডিংয়ের ঠিকানা দেয়। লাগ্রোসাস একই শহরের মাগালানিস ভিলেজ, ভাসকুয়েজ হুমাবন স্ট্রিটের ঠিকানা এবং ভারজারা হুমাবন স্ট্রিটের ভেলেরো কার পার্ক ২-এর নিচতলার ঠিকানা দেয়। বাস্তবে এসব ঠিকানায় কেউই কখনো থাকেনি।  

 


মন্তব্য