kalerkantho


লিবিয়ায় গুলিতে চার বাংলাদেশি নিহত

কূটনৈতিক ও নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৮ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



লিবিয়ায় গুলিতে চার বাংলাদেশি নিহত

লিবিয়ার বেনগাজিতে গতকাল রবিবার বিবদমান দুই গোষ্ঠীর সংঘাতের মধ্যে পড়ে চার বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে তিনজনের পরিচয় পাওয়া গেছে।

তাঁরা হলেন রাজবাড়ীর মো. আবদুর রহিম, ময়মনসিংহ/ঝিনাইদহের মো. হুমায়ন কবির এবং যশোরের মো. হাসান। লিবিয়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল (অব.) শহীদুল হকের বরাত দিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানায়। নিহত অন্য বাংলাদেশির পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে বলে জানায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ওই বাংলাদেশিরা গতকাল সংঘাতময় এলাকায় একটি মিলিশিয়া গোষ্ঠীর সামনে গিয়ে পড়েন। মিলিশিয়ারা তাঁদের থামতে বললে তাঁরা ভয়ে পালাতে যান। সে সময় মিলিশিয়ারা তাঁদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে চারজন নিহত হন।

লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাস গতকাল ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানায়, রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্টের সহযোগিতায় মরদেহগুলো উদ্ধার করে বেনগাজি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়েছে। বাংলাদেশ দূতাবাস মরদেহগুলো দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দূতাবাসগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও নিহতদের মরদেহ প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া তদারকির জন্য দূতাবাস একটি হটলাইন (+২১৮৯৪৪৬৪২১৫৪) খুলেছে।

লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসের কাউন্সিলর (শ্রম) এ এস এম আশরাফুল ইসলাম গতকাল চার বাংলাদেশি নিহত হওয়া প্রসঙ্গে জানান, সেখানে নিয়মিতই সংঘর্ষ হচ্ছে। প্রকৃত তথ্য পাওয়ার সহজ কোনো উপায় নেই। তিনি বলেন, নিহতদের সহকর্মীদের কাছ থেকে ফোন পেয়ে দূতাবাস বিষয়টি জানতে পারে। ওই কর্মীরা অস্ত্রধারীদের দেখে দ্রুত সংঘাতময় স্থান ছেড়ে যাওয়ার সময় অস্ত্রধারীদের হামলার শিকার হন। ওই কর্মীরা অন্য দেশের কর্মীদের সঙ্গে থাকতেন। তাঁরা তাঁদের আশ্রয়স্থল থেকে বাইরে বের হওয়ার চেষ্টা করছিলেন।

জনশক্তি রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি বায়রার : এদিকে লিবিয়ায় গতকাল চার বাংলাদেশি নিহত হওয়ার মধ্যেই সেখানকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে এসেছে দাবি করে দেশটিতে জনশক্তি রপ্তানিতে সরকারি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সির (বায়রা) নেতারা। রাজধানীর ইস্কাটনের বায়রা কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তাঁরা বলেছেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞায় লিবিয়ায় বাংলাদেশের সব ধরনের জনশক্তি রপ্তানি বন্ধ রয়েছে। এতে আড়াই শ এজেন্সির চার হাজার স্টাম্পিং করা ভিসার মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেছে।

তাঁরা বলেন, লিবিয়ায় বর্তমানে ৪০ হাজার বাংলাদেশি কাজ করছে। সেখানে বর্তমানে স্বাভাবিক পরিস্থিতি বিরাজ করছে। তাই সরকার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না করলে লিবিয়ার পুরো শ্রমবাজার প্রতিযোগী অন্য দেশগুলোর দখলে চলে যাবে।

বায়রা সভাপতি আবুল বাশার বলেন, ‘বাংলাদেশের কর্মীদের জন্য লিবিয়া একটি বৃহত্তম শ্রমবাজার। সেখানে বাংলাদেশের প্রায় ৪০ হাজার কর্মী বসবাস করছেন। তাঁরা ছুটিতে দেশে আসছেন, আবার ফিরে যাচ্ছেন। এতে তাঁদের কোনো অসুবিধা হচ্ছে না। ’

লিবিয়ায় ‘আইএসের হাতে অপহৃত’ ঠাকুরগাঁওয়ের আসাদ : আমাদের ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি জানান, ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার ক্ষুদ্র গুয়ারগাঁও গ্রামের আসাদ আলী সরকার রাসেলকে (২৪) লিবিয়ায় জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস) অপহরণ করেছে। লিবিয়া থেকে এ খবর আসার পর থেকে আসাদের পরিবার চরম উদ্বেগে রয়েছে।

আসাদের বাবা আব্বাস আলী জানান, আসাদ লিবিয়ার ত্রিপোলি শহরের পাশের উপশহর মিসরাতায় গত ২৫ মার্চ রাত ৮টায় (বাংলাদেশ সময় রাত ১২টা) তাঁর পাঁচ বন্ধুসহ বাজার করতে যান। সেখানে  থেকে ফেরার সময় কয়েকজন ব্যক্তি হঠাৎ সেখানে হাজির হয়ে আসাদ ও তাঁর এক বন্ধুকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়।

পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ প্রশাসনের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা গতকাল দুপুরে  আসাদদের বাড়ি পরিদর্শন করেন। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ বি এম ইফতেখারুল ইসলাম জানান, এটি আইএসের কাজ কি না, তা সঠিকভাবে বলা যাচ্ছে না। আসাদকে উদ্ধারে সরকারের উচ্চ মহলে জানানো হয়েছে।


মন্তব্য