kalerkantho


বাধা অতিক্রম করেই এগিয়ে যাব : প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৮ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



বাধা অতিক্রম করেই এগিয়ে যাব : প্রধানমন্ত্রী

স্বাধীনতার পরাজিত শক্তি এবং দেশের ভেতরে-বাইরে তাদের দোসর ও ষড়যন্ত্রকারীদের সৃষ্ট প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে সরকার এগিয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, ‘ওই পরাজিত শক্তির দোসর বা যুদ্ধাপরাধী, তারা তো এমনিতেই থেমে যাবে না।

তারা সব সময় সক্রিয় থাকবে—এটা আমাদের মাথায় রেখেই চলতে হবে। তাদের মোকাবিলা করেই আমাদের চলতে হবে এবং আমরা সেভাবেই এগিয়ে যাচ্ছি। ’ তিনি বলেন, ‘প্রতিবন্ধকতা যে শুধু আমাদের দেশের ভেতর থেকে তা তো না, ভেতরে-বাইরে অনেক জায়গা থেকেই এ রকম বাধা আসবে; কিন্তু সে বাধা অতিক্রম করেই আমরা এগিয়ে যাব। ’

স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে গতকাল রবিবার বিকেলে খামারবাড়ীতে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন দলীয় প্রধান।

ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে বিএনপির ভূমিকার সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘যার যার প্রতীক নিয়ে ইলেকশন, সেই ইলেকশনেও খুব যে তাদের গরজ তা-ও তো দেখছি না। কেমন যেন একটা ভাসা ভাসা ভাব। শুধু বিরুদ্ধে বক্তৃতা দিয়েই যাচ্ছে—এটা হলো না, ওটা হলো না। কিন্তু ইলেকশনে তাদের কর্মকাণ্ডটা কোথায়? শুধু নালিশ করা। তো নালিশ করে কী হয়েছে?’ ওই সময় একটি প্রবাদ শুনিয়ে তিনি বলেন, ‘নালিশ করে বালিশ পায়, ভাঙা জুতার বাড়ি খায়।

বিএনপির কাউন্সিলে অতিথি হিসেবে উপস্থিত এক ব্রিটিশ এমপিকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শুধু নালিশ করে যাচ্ছে, কাদের কাছে নালিশ করে? কোথাকার কোন ব্রিটিশ এমপি। এক ব্রিটিশ এমপি নিয়ে আসছে, সে কিন্তু এক্সপেল হয়ে গেছে। সে তার দেশে অপকর্মের জন্য এক্সপেলড। সাংবাদিকরা একটু খোঁজ নিয়ে দেখতে পারেন, যারে নিয়ে এলো আহ্লাদ করে তার অবস্থাটা কোথায়। একটু খোঁজ নিয়ে দেখেন, সে এক্সপেলড, ব্রিটিশ পার্লামেন্ট থেকে তিন মাসের জন্য এক্সপেলড হয়ে গেছে। মানে রতনে রতন চেনে, কী জিনিস আনতে হবে সেটা তারা ভালো জানে। ’

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শেখ হাসিনা বলেন, ‘একটা কথা মনে রাখতে হবে, আজকে যখন আমরা স্বাধীনতার চেতনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি, দেশ যখন উন্নয়নের পথে, পাশাপাশি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার আমরা শুরু করেছি। নানাভাবে আমাদের সরকারকে হেয় করার একটা চেষ্টা বা সরকারকে ব্যতিব্যস্ত করার একটা চেষ্টা অব্যাহত থাকবে, এটা স্বাভাবিক। ’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এগিয়ে যাচ্ছি বলেই আজকে সারা বিশ্বের দৃষ্টি বাংলাদেশের দিকে। উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে তারা বাংলাদেশকে দেখছে। অনেকের কাছে এটা মনে হয় বিস্ময় যে এটা কী করে পারি? এখানে একটা কথা আমি বলতে চাই, পারি একটাই কারণ, সেটা হলো আমরা নীতি-আদর্শ নিয়ে চলি। আর সেই নীতি-আদর্শ নিয়ে, দেশের মানুষের সেবা করব সেই মনোভাব নিয়ে কাজ করি। ক্ষমতা মানে নিজের ভাগ্য গড়া না, ক্ষমতা আমাদের কাছে হচ্ছে দেশের মানুষের ভাগ্য গড়ে তোলা, মানুষের কল্যাণ করা; যেটা জাতির পিতা আমাদের শিখিয়ে দিয়ে গেছেন। ’

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ইঙ্গিত করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘যারা পরাজিত শক্তির দোসর ছিল, তাদের তো এটা ভালো লাগবে না, ভালো না লাগারই কথা। আজকে কেউ একজন বক্তৃতায় বললেন, আমাদের কোনো একটি দলের নেত্রী স্মৃতিসৌধে গেছেন, মুখে নাকি হাসি নাই। হাসি থাকবে কোথা থেকে? তার যারা পেয়ারের লোক, একে একে তাদের ফাঁসি হচ্ছে, একে একে যুদ্ধাপরাধীদের সাজা হচ্ছে এবং জনগণের সমর্থন তাদের প্রতি নাই। মানুষকে পুড়িয়ে, জ্বালিয়ে হত্যা করে। যখন মানুষ পুড়েছে তখন তার মুখে হাসি ছিল। তখন তাকে আপনারা দেখতে পাননি সবাই। কারণ সে নিজেই নিজেকে অবরুদ্ধ করে রেখেছিল। তখন নিশ্চয় তার মুখে হায়েনার হাসি ছিল যে সে দেশের মানুষ পোড়াচ্ছে, মানুষ মারতে পারছে। মানুষ পোড়াতে পারলেই তার মুখে হাসি ফোটে। মানুষের ভালো দেখলে তার মুখে হাসি ফোটে না। মানুষের ভালো দেখলেই তার হাসি নিভে যায়। এখন যখন মানুষের মুখে হাসি আছে, তার মুখে হাসি নাই। এটাই স্বাভাবিক। এর চেয়ে বেশি কিছু তার কাছ থেকে আশা করা যায় না। কারণ তার হৃদয়ে তো আছে পেয়ারে পাকিস্তান, আর তো কিছু নাই। ’

স্বাধীনতাসংগ্রামের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিলাম; কিন্তু আমাদের ওপরেই খবরদারি চালাত পাকিস্তানিরা। আমাদের অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ে ওই পশ্চিমাঞ্চলে তারা ব্যবহার করত, আর এ দেশের মানুষ বঞ্চিত ছিল। আমাদের ওপর বাংলা ভাষা কেড়ে নেওয়ার যে আঘাতটা এলো সেটা আর কিছুই না। আমাদের আলাদা যে জাতিসত্তা, আমাদের ভাষা, সংস্কৃতি, আমাদের অস্তিত্ব কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা। সেখান থেকেই এই আন্দোলনের শুরু। যখনই বাঙালিরা এক হয়েছে, তাদের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হয়েছে। সব থেকে দুর্ভাগ্যের বিষয়, এই খেলায় এ দেশের কিছু বাঙালি, আমাদেরই কিছু মানুষ সব সময় ওই পাকিস্তানিদের তাঁবেদারি করেছে, তাদের পদলেহন করেছে, তোষামোদি-খোশামোদি করেছে, আর এ দেশের মানুষের সঙ্গে মোনাফেকি করেছে। ’

আওয়ামী লীগপ্রধান বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু এটা ভালো করেই বুঝতেন, তিনি বুঝেছিলেন এই পশ্চিমাদের সঙ্গে থাকা যাবে না। তিনি বাংলাদেশকে কিভাবে সৃষ্টি করবেন সেটা তাঁর পরিকল্পনায় ছিল। এ কারণে সব সময় তিনি কী পদ পেলেন না পেলেন সেগুলোর দিকে কখনো চিন্তা করেননি। ’

বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পর এ দেশে সামরিক শাসনের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মিলিটারি ডিক্টেটররা যখন ক্ষমতায় আসে, একটা কাজ তারা করে, একটা এলিট শ্রেণি তৈরি করে। ইলিগ্যালি তাদের পয়সা বানানোর সুযোগ করে দিয়ে তাদের সৃষ্টি করে এদের গুণগান গাওয়ার জন্য। কাজেই ব্যাংকের যে ঋণখেলাপি এগুলো তাদেরই সৃষ্টি ছিল। তারাই এভাবে লোভ-লালসা দিয়ে একটি শ্রেণি তৈরি করে গিয়েছিল, যারা শুধু তাদের গুণগান গাবে। ’

সরকারপ্রধান বলেন, ‘অনেক রক্ত, অনেক ব্যথা, অনেক বেদনার মধ্য দিয়ে আমরা এই স্বাধীনতা অর্জন করেছি। এত রক্ত কখনো বৃথা যেতে পারে না, এত আত্মত্যাগ কখনো বৃথা যেতে পারে না। কাজেই আমরা তা বৃথা যেতে দেব না। এই বাংলাদেশকে আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গড়ে তুলব, জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলব—এটাই আজকের দিনে আমাদের প্রতিজ্ঞা। ’

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী। বক্তব্য দেন দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম প্রমুখ। আলোচনা সভা পরিচালনা করেন দলের কেন্দ্রীয় নেতা ড. হাছান মাহমুদ ও অসীম কুমার উকিল।

 


মন্তব্য