kalerkantho


‘এ ধরনের ম্যাচ কেউহারে না’

বেঙ্গালুরু থেকে প্রতিনিধি   

২৪ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



কালের সাক্ষী হয়ে আছেন তিনি কত বছর ধরে! বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের অনেক অবিস্মরণীয় মুহূর্তে ছিলেন মাঠে। ছিলেন আবার বিস্মরণযোগ্য বহু ম্যাচেও।

কিন্তু কাল বেঙ্গালুরুতে ভারতের কাছে যেভাবে এক রানে হারল দল, এমন কিছু কি কখনো দেখেছেন মাশরাফি বিন মর্তুজা?

চোখে-মুখে রাজ্যের বিষণ্নতা মেখে এলেন সংবাদ সম্মেলনে। বিজয়ী সম্রাট না হয়ে পরাজিত সেনাপতিহিসেবে। এরপর ওই প্রশ্নের মুখে পড়ে রাজ্যের আবেগ এসে যেন ভর করে মাশরাফির কণ্ঠে, ‘আমার মনে হয় শুধু আমার না, ড্রেসিং রুমে যারা আছে তাদের সবার জন্যেই ম্যাচটি হতাশার। শেষ ৩ বলে লাগবে ২ রান। তখনো দুই সেট ব্যাটসম্যান ক্রিজে। আরো এক ব্যাটসম্যান লাইনআপে ছিল। ওই অবস্থায় ৩ উইকেট হারানো সবার জন্যেই খুব কঠিন ম্যাচ। ’ আরেক প্রশ্নের উত্তরে আবার যোগ করেন, ‘আমরা যারা খেলোয়াড় আছি, সবার জন্যেই এটা বড় আঘাত। এ ধরনের ম্যাচ কেউ হারে না।

কেউ হারত না। এখন বোঝানো খুব কঠিন। তবে এটা হতাশাজনক। ’

এই হারের খলনায়ক মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদ উল্লাহর মতো দুই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার। নির্বোধের মতো দুটো শট খেলে তীরে ঘেঁষা তরীকে ডুবিয়ে দেন তাঁরা। অধিনায়ক মাশরাফি অবশ্য কাউকে আলাদা করে দায়ী করেন না, ‘আমি কাউকে দায়ী করছি না। তবে আমাদের দিকে সব কিছু আসতে পারত। ’ অমন ঝুঁকিপূর্ণ শট না খেলে মাথা ঠাণ্ডা করে খেললে ম্যাচটি জিতত বলে হাহাকার আরো বেশি তাঁর, ‘হিসেব করে ব্যাটিং করলে তা ঝুঁকিহীন হতো। তখন ফিল্ডার একজনও ওপরে ছিল না; সবাই বাইরে। ওই বলে এক রান হলে হয়তো আমরা ভালো পজিশনে থাকতাম। আমাদের ২ বলে ১ রান লাগত। ওই অবস্থায় এমন চিন্তা করলেই ভালো হতো। আমরা তা করতে পারিনি। ’

শেষ তিনটি বল বাদ দিয়ে পুরো ম্যাচে ছিল বাংলাদেশের দাপট। শেষবেলার পরাজয়ে সেটি এখন চলে যাবে আলোচনার আড়ালে। ধরা কণ্ঠে ওই আধিপত্যের কথা মনে করিয়ে দিয়ে মাশরাফির গলা চিরে বেরোয় আফসোস, ‘শেষ ৩ বল বাদ দিলে পুরো ম্যাচ আমরা অসাধারণ খেলেছি। জেতার জন্যে যতটুকু যতটুকু দরকার ছিল আমরা ঠিক ততটুকু ততটুকু করেছি। হয়তো বা ওদের দুই ওভার আমাদেরকে ম্যাচ থেকে দূরে নিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু আমরা আবার ফিরে এসেছি। প্রত্যেকটি বল ঠিকমতো খেলতে পেরেছি। আমি মনে করি, ওই তিনটি বল বাদ দিলে ম্যাচ জিততে হলে যতটুকু করা দরকার ততটুকু আমরা ঠিকমতোই করেছি। ’

কাল ব্যাটিং অর্ডারে ছিল নানা অদল-বদল। সৌম্য সরকারকে পেছনে দিয়ে মোহাম্মদ মিঠুনকে পাঠান ওপেনিংয়ে। আবার অধিনায়ক নেমে যান পাঁচ নম্বরে। কারণটা ব্যাখ্যা করেন মাশরাফি, ‘মিঠুন যেহেতু আগের ম্যাচে ভালো ব্যাটিং করেছে তাই সৌম্যকে পাঁচে নামিয়ে নিয়ে আসি। ওই সময়ে আমি গিয়েছিলাম ডানহাতি-বামহাতি কম্বিনেশন রেখে ব্যাটিং করতে। স্পিনাররা বোলিং করছিল। আমি আক্রমণ করার জন্যে গিয়েছিলাম। ’ আবার শুভাগত-মুশফিকের ব্যাটিং অর্ডারে জায়গা বদলের ব্যাখা অধিনায়কের কাছে এমন, ‘ওই সময়ে সেনসেবল ব্যাটসম্যান যাওয়ার দরকার ছিল। মুশফিক আমাদের অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান। ওই সময়ে শুভাগতের জায়গায় ও যাবে। বলের থেকে তখন রান বেশি লাগত। ওভারঅল আমরা তো সব কিছুই কভার করে ফেলেছি। কিন্তু ওই ৩ বলেই ম্যাচ হেরেছি। ’

এই খেলাটি জিতলে তাসকিন-ইস্যুতে মানসিকভাবে হলেও বড় জয় হতো বাংলাদেশের। তবে মাশরাফি বললেন, তাঁরা মন থেকে বিষয়টা ঝেড়েই মাঠে নেমেছিলেন, ‘আমরা মানসিকতা ঠিক করে নিয়েছিলাম। তাসকিনের বিষয়ে যদি করার থাকে তা বিসিবি করবে। আমরা বিসিবিকে জানিয়েছি। বিসিবি আইসিসির সঙ্গে বসে কী করবে সেটা তারা সিদ্ধান্ত নেবে। আইসিসি যেটা মনে করেছে সেটা করেছে। ’

এমন হারের ধাক্কা সামলানো সহজ না। কিন্তু ক্রিকেট তো আর থেমে থাকবে না। নীল বেদনায় পুড়েও সেটি মনে করিয়ে দেন মাশরাফি, ‘আমাদেরকে অবশ্যই ফিরে আসতে হবে। বাংলাদেশ ক্রিকেট তো এখানেই থেমে যেতে পারে না। আমাদেরকে এ অবস্থা থেকে এগিয়ে যেতে হবে। ’

বাংলাদেশের ক্রিকেট এগিয়ে যাবে ঠিকই। কিন্তু বেঙ্গালুরুর এই ম্যাচে ভারতের কাছে হারের আফসোস যাবে না কখনো। কখনোই না।


মন্তব্য