kalerkantho


ফেডারেলের দায় নিয়ে কংগ্রেসওম্যানের প্রশ্ন

বাংলাদেশ নিশ্চিত করার আগেই কেন অর্থ স্থানান্তর

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

২৪ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক তার অর্থ অন্যত্র স্থানান্তরের পাঁচটি আদেশ নিশ্চিত করার আগেই নিউ ইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক কেন তা কার্যকর করল, এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নিউ ইয়র্ক থেকে নির্বাচিত যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের সদস্য ক্যারোলিন বি ম্যালোনি। গত মঙ্গলবার নিউ ইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম সি ডুডলেকে লেখা চিঠিতে তিনি এ প্রশ্ন তোলেন।

নিউ ইয়র্কের ওই ব্যাংক থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ অন্যত্র স্থানান্তরের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি এ চিঠি লিখেন। চিঠিতে নিউ ইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করা ২৫০ বিদেশি কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও বিদেশি সংস্থার আস্থার সংকট সৃষ্টির আশঙ্কা করেছেন তিনি। চিঠিটি কংগ্রেসওম্যান ম্যালোনির সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে।

চিঠিতে ম্যালোনি চারটি প্রশ্ন তুলেছেন। প্রথমত, বিদেশি কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ স্থানান্তরের জন্য কেবল সুইফটের কাছ থেকে যথার্থতার বার্তা পাওয়াই কি যথেষ্ট? ভবিষ্যতে এ ধরনের সাইবার চুরি ঠেকাতে আরো যথার্থতা যাচাই করা কি প্রয়োজন নয়? দ্বিতীয়ত, অর্থ স্থানান্তরের প্রথম পাঁচটি আদেশ আটকে না দিয়ে শেষ ৩০টি আদেশ  কার্যকর প্রক্রিয়া কেন আটকে দেওয়া হয়েছিল? তৃতীয়ত, গণমাধ্যমের  প্রতিবেদনগুলোতে ইঙ্গিত রয়েছে যে  নিউ ইয়র্ক ফেডারেল ব্যাংক অর্থ স্থানান্তরের ৩৫টি আদেশ পুনরায় নিশ্চিত করতে বাংলাদেশকে অনুরোধ করেছিল। কিন্তু বাংলাদেশের কাছ থেকে কোনো ধরনের নিশ্চিত বার্তা পাওয়ার আগেই অর্থ স্থানান্তরের প্রথম পাঁচটি আদেশ কার্যকর করা হয়। নিউ ইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভ কেন বাংলাদেশ ব্যাংককে অর্থ স্থানান্তরের আদেশ পুনরায় নিশ্চিত করার অনুরোধ জানিয়েছিল এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে জবাব পাওয়ার আগেই কেন অর্থ স্থানান্তরের প্রথম পাঁচটি আদেশ কার্যকর করেছিল? বিদেশি কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর অ্যাকাউন্ট থেকে বড় অঙ্কের অর্থ স্থানান্তরের বিষয়টি পুনরায় নিশ্চিত করার বিষয়ে নিউ ইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভের কী নীতি রয়েছে এবং এ ক্ষেত্রে (বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অর্থ স্থানান্তরের) ওই নীতি অনুসরণ করা হয়েছে কি? চতুর্থত, নিউ ইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক কেন দৃশ্যত ভুল বানান সত্ত্বেও ২০ মিলিয়ন ডলার স্থানান্তরের একটি আদেশ নিয়ে প্রশ্ন তোলেনি, যা পরে অন্য একটি ব্যাংক তুলেছে?

ম্যালোনি লিখেছেন, নিউ ইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করা বাংলাদেশ ব্যাংকসহ অন্য বিদেশি কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর গোপনীয়তা রক্ষা এবং গুরুত্বপূর্ণ এসব ইস্যু আরো ভালোভাবে অনুধাবনের জন্য তিনি ওই ব্যাংকটির যথার্থ একজন সদস্যের কাছ থেকে গোপনীয় ব্রিফিংয়ের জন্য শ্রদ্ধার সঙ্গে অনুরোধ জানিয়েছেন।

চিঠির শুরুতে তিনি নিউ ইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় আট কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি যাওয়ার কথা উল্লেখ করেন। তিনি লিখেছেন, গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৪ ফেব্রুয়ারি সাইবার অপরাধীরা সুইফট ফিন্যানশিয়াল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের মাধ্যমে ৯৫ কোটি ১০ লাখ ডলার নিউ ইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে অন্য কিছু দেশের বেসরকারি কিছু অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরের আদেশ পাঠায়।

নিউ ইয়র্কে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক এর মধ্যে পাঁচটি আদেশ কার্যকর করে ফিলিপাইনের চারটি বেসরকারি অ্যাকাউন্টে এবং শ্রীলঙ্কার একটি বেসরকারি সংস্থার অ্যাকাউন্টে ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার স্থানান্তর করে। নিউ ইয়র্কে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক ৮৫ কোটি ডলার স্থানান্তরের অন্য ৩০টি আদেশ বাস্তবায়ন করে সেগুলো পুনরায় নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংককে অনুরোধ জানিয়েছিল। সৌভাগ্যজনকভাবে আরেকটি ব্যাংক শ্রীলঙ্কার একটি অ্যাকাউন্টে দুই কোটি ডলার স্থানান্তরের আদেশে বানান ভুল নিয়ে প্রশ্ন তোলার পর তা কার্যকর স্থগিত করা হয়। তবে ফিলিপাইনের চারটি বেসরকারি অ্যাকাউন্টে আট কোটি ১০ লাখ ডলার সফলভাবে স্থানান্তর করা হয়। অপরাধীরা ফিলিপাইনের ক্যাসিনোর মাধ্যমে ওই অর্থ হাতিয়ে নেয়।


মন্তব্য