kalerkantho

ফল বিশ্লেষণ

ভোট পড়েছে ৭৩.৮২%

বিশেষ প্রতিনিধি   

২৪ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



ভোট পড়েছে ৭৩.৮২%

ইউপি নির্বাচনের প্রথম ধাপে ভোট পড়েছে ৭৩.৮২ শতাংশ। ৭১২টির মধ্যে ৫২২ ইউপির ফলাফলে আওয়ামী লীগ ৩৯৪, বিএনপি ৩৫, জাতীয় পার্টি-জেপি সাত, জাসদ তিন, ওয়ার্কার্স পার্টি দুই, জাতীয় পার্টি এক, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এক ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা (এদের বেশির ভাগই আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী) ৭৯টিতে জয় পেয়েছেন। ভোট প্রাপ্তির হার আ. লীগ ৩৪.০৩%, বিএনপি ১০.৪৭% এবং স্বতন্ত্র ১৪.৪৪ শতাংশ। গতকাল বুধবার নির্বাচন কমিশন সচিব এই ফলাফল জানিয়ে বলেন, ‘ভোটের এই হারই বলে দিচ্ছে নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। আমরা এই ফলাফল গ্রহণ করেছি। ভোটকেন্দ্রগুলোতে নারীদের ব্যাপক উপস্থিতি ছিল বিস্ময়কর—যা গণতন্ত্রকে এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে। ’

নির্বাচন কমিশনের তথ্যানুসারে ৫২২টি ইউপির ফলাফলে জাতীয় পার্টি জেপি সাতটিতে জয়ী (ভোট প্রাপ্তির হার ০.৬০%), বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি কোনো ইউপিতে জয়ী হতে পারেনি (ভোট প্রাপ্তির হার ০.০৪%), বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ৩৯৪টিতে জয়ী (ভোট প্রাপ্তির হার ৩৪.০৩%), বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি ৩৫টিতে জয়ী (ভোট প্রাপ্তির হার ১০.৪৭%), বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি দুটিতে জয়ী (ভোট প্রাপ্তির হার ০.৩২%), বিকল্প ধারা বাংলাদেশ কোনো ইউপিতে জয়ী হতে পারেনি (ভোট প্রাপ্তির হার ০.০০৩৬%), জাতীয় পার্টি একটিতে জয়ী (ভোট প্রাপ্তির হার ০.৫৫%), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ তিনটিতে জয়ী (ভোট প্রাপ্তির হার ০.৩৪%), জাকের পার্টি কোনো ইউপিতে জয়ী হতে পারেনি (ভোট প্রাপ্তির হার ০.০০০৫%), বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপি কোনো ইউপিতে জয় পায়নি (ভোট প্রাপ্তির হার ০.০১০০%), বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন কোনো ইউপিতে জয়ী হতে পারেনি (ভোট প্রাপ্তির হার (০.০০০৮%), জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম কোনোটিতে জয় পায়নি (ভোট প্রাপ্তির হার ০.০১০৭%), বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি কোনো ইউপিতে জয়ী হতে পারেনি (ভোট প্রাপ্তির হার ০.০০১৫%),  বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি কোনোটিতে জয়ী হতে পারেনি (ভোট প্রাপ্তির হার ০.০০১৬%), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ একটিতে জয়ী (ভোট প্রাপ্তির হার ১.৪৬%), বাংলাদেশ বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি কোনো ইউপিতে জয়ী হতে পারেনি (ভোট প্রাপ্তির হার ০.০০১০%), বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ) কোনো ইউপিতে জয়ী হতে পারেনি (ভোট প্রাপ্তির হার ০.০৬৪৫%), স্বতন্ত্র ৭৯ ইউপিতে জয়ী (ভোট প্রাপ্তির হার ১৪.৪৪%)।

নির্বাচন কমিশন সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম গতকাল বিকেলে প্রথম দফা ইউপি নির্বাচন সম্পর্কে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘৭১২ ইউপির এ নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে ৫০২টির ফলাফল আমাদের কাছে এসেছে। এই ফলাফল অনুসারে ভোট প্রদানের হার ৭৩.৮২ শতাংশ। টার্ন আউট দেখার মতো ছিল। সকাল বেলা থেকে অনেক ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। নারী ভোটারদের উপস্থিতি ছিল বিস্ময়কর।

সচিব বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার গতকাল (গত মঙ্গলবার) বলেছেন, নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। কিছু কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা হয়েছে, সহিংসতা হয়েছে। ইসির নির্দেশনা ছিল রাতে কেউ জোর করে ব্যালট পেপারে সিল মারলে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে ভোট বন্ধ করে দেওয়া হবে। একটি জেলায় (সাতক্ষীরা) এ কারণে বেশ কিছু কেন্দ্র বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ওই জেলার ১৪টি বন্ধ কেন্দ্রের মধ্যে ১৩টিতে রাতে ব্যালট পেপারে জোর করে সিল মারার ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে দুটিতে পুলিশ গুলি করে। ১১টিতে পুলিশ যথাযথ দায়িত্ব পালন করেনি। ওই কেন্দ্রগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেন্দ্রগুলোতে আবার ভোট নেওয়া হবে। কিছু কেন্দ্র বন্ধ করা হয়েছে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার কারণে। মোট ৬৫ কেন্দ্রের ভোট বন্ধ করে দেওয়া হয়। বাকি কেন্দ্রগুলোতে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে।

এ নির্বাচনে ব্যাপক সহিংসতা, কেন্দ্র দখল, ব্যালট ছিনতাইসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। ১১ জনের প্রাণ গেছে। এর দায়ভার কার? এ প্রশ্নে সচিব বলেন, ‘নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব থাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। প্রয়োজন হলে তারা শক্তি প্রয়োগ করবে সেটাই নিয়ম। তিনটি ঘটনা ঘটেছে ভোটগ্রহণের পর। ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের ওপর আক্রমণ করে ভোটের মালামাল ছিনিয়ে নিলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বাধা দেবে এটাই নিয়ম। সে দায়িত্ব যথাযথভাবে পালিত হয়েছে কি না সে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। ওই তদন্তের ফলাফলের জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। ’

প্রথম ধাপের এ নির্বাচনের অভিজ্ঞতা থেকে পরের ধাপের নির্বাচনগুলো সম্পর্কে কী পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছেন—এ প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, ‘আমাদেরকে চার হাজারের বেশি ইউপির নির্বাচন করতে হবে। প্রথম ধাপের প্রভাব পরের ধাপগুলোতেও পড়তে পারে। সে জন্য বেটার কিছু ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে বিকল্প ব্যবস্থা চালু হয়েছে। অনলাইনে মনোনয়নপত্র গ্রহণের জন্য সফটওয়্যার প্রস্তুত। এর নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পর এটি চালু হবে। কমিশন আচরণবিধি প্রতিপালনের বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। এটি যথাযথভাবে প্রতিপালনের সুবিধার্থে বৃহস্পতিবার (আজ) থেকে ম্যাজিস্ট্রেটদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা হচ্ছে।


মন্তব্য