kalerkantho


ফিলিপাইনের সেই ব্যাংক ম্যানেজার ও ডেপুটি চাকরিচ্যুত

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৩ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



ফিলিপাইনের সেই ব্যাংক ম্যানেজার ও ডেপুটি চাকরিচ্যুত

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের অর্থ চুরিতে সহায়তার অভিযোগে ফিলিপাইনের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশন (আরসিবিসি) জুপিটার স্ট্রিট শাখার ম্যানেজার মায়া সান্তোস-দেগুইতো ও তাঁর ডেপুটি অ্যাঙ্গেলা তরেসকে বরখাস্ত করেছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। অর্থ চুরিতে জড়িত থাকার অভিযোগে ফিলিপাইনের ব্যবসায়ী কিম অং এবং চীনা নাগরিক ক্যাসিনো মালিক ওয়েকাং জুর বিরুদ্ধে মামলা করেছে ফিলিপাইনের অর্থ পাচার রোধ কাউন্সিল (এএমএলসি)।

 

অন্যদিকে রিজার্ভের অর্থ চুরির যে দুই কোটি ডলার শ্রীলঙ্কার একটি এনজিওর নামে হ্যাকাররা সরাতে চেয়েছিল, শালিকা ফাউন্ডেশন নামের সেই এনজিওর পরিচালকদের দেশ ত্যাগে গতকাল নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন কলম্বোর চিফ ম্যাজিস্ট্রেট।

গতকাল ফিলিপাইনের রিজাল ব্যাংকের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ব্যাংকের নীতি ও কার্যপ্রণালী লঙ্ঘন এবং বাণিজ্যিক কাগজপত্র জাল করার দায়ে ওই দুই কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হলো, যা গতকাল মঙ্গলবার থেকেই কার্যকর হয়েছে। একইভাবে অভিযুক্ত অন্য কর্মকর্তাদেরও অপরাধ অনুযায়ী বরখাস্ত বা অন্য যেকোনো শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে। তবে তা নিশ্চিত হবে বাংলাদেশ ব্যাংকের চুরি করা অর্থ স্থানান্তর নিয়ে ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ তদন্ত শেষে।

ব্যাংকটি দাবি করেছে, মায়া সান্তোস-দেগুইতো ও অ্যাঙ্গেলা তরেস ব্যাংকের আইন লঙ্ঘন করেছেন এবং তাঁরা ভুয়া হিসাব খোলার সুযোগ দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের আট কোটি ১০ লাখ ডলার পাচারে সহায়তা প্রদান করেছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে আদালতেও যথাযথ অভিযোগ আনা হবে।

বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে ফিলিপাইনের সিনেটের ব্লু রিবন কমিটি এবং অর্থপাচার রোধ কাউন্সিলসহ সরকারের অন্যান্য সংস্থা তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি অভিযুক্ত আরসিবিসির কর্তৃপক্ষও অভ্যন্তরীণ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

আরসিবিসির জুপিটার স্ট্রিট শাখার মাধ্যমে অর্থপাচারের ঘটনা প্রকাশিত হওয়ার পর দেশ ছাড়তে চেয়েছিলেন ওই শাখার ম্যানেজার মায়া সান্তোস-দেগুইতো।

কিন্তু দেশটির গোয়েন্দারা তাঁকে বিমানবন্দরে আটকে দেয়। এরপর এ ঘটনা নিয়ে তিনি সিনেটের শুনানির মুখে পড়েন। সিনেটে জিজ্ঞাসাবাদে মায়া দাবি করেন, ব্যাংকটির প্রেসিডেন্ট লরেঞ্জো তান তাঁকে এ অর্থ স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে লরেঞ্জো তান এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

সিনেট কমিটি বলছে, মায়া ঘটনার শিকার নাকি জড়িত, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে এটা নিশ্চিত যে মূল পরিকল্পনাকারী তিনি নন, তাঁর সঙ্গে আরো অনেকেই জড়িত। এ প্রসঙ্গে সিনেটর রালফ রেক্টো  বলেন, ‘এটি একটি ভয়াবহ ঘটনা, যা শুধু ফিলিপাইন থেকে হতে পারে না। ’

দুজনের বিরুদ্ধে মামলা : ফিলিপাইনের ব্যবসায়ী কিম অং এবং চীনা নাগরিক ক্যাসিনো মালিক ওয়েকাং জুর বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের আট কোটি ১০ লাখ ডলার চুরির অভিযোগে গতকাল একটি মামলা করেছে ফিলিপাইনের অর্থপাচার রোধ কাউন্সিল (এএমএলসি)। দেশটির বিচার বিভাগের সঙ্গে সম্মিলিতভাবে এ নিয়ে দ্বিতীয় মামলা করা হলো তাঁদের বিরুদ্ধে।

এএমএলসি জানিয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের চুরি হওয়া অর্থ মানি এক্সচেঞ্জ কম্পানি ফিলরেমের মাধ্যমে ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে ১১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে ইস্টার্ন হাওয়াই লেজার কম্পানির অ্যাকাউন্টে আসে, যার পরিমাণ এক বিলিয়ন পেসো। আর সিনেটের শুনানিতে প্রধান অভিযুক্ত কিম অং এ প্রতিষ্ঠানের মালিক। অবৈধভাবে এ অর্থ এসেছে, তা অংয়ের জানা ছিল বলেও জানিয়েছে কাউন্সিল। এ ছাড়া ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ১১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ক্যাসিনো মালিক ওয়েকিং জুর অ্যাকাউন্টে তিন কোটি ডলার পাঠায় ফিলরেম। এ দুই ব্যক্তি যে অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িত, তা প্রমাণ এবং মামলার জন্য যথেষ্ট বলে মনে করছে কাউন্সিল।

অর্থ চুরিতে শালিকা ফাউন্ডেশনের যোগসাজশ? এদিকে শ্রীলঙ্কার শালিকা ফাউন্ডেশন নামের একটি এনজিওর নামে হ্যাকাররা বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের দুই কোটি ডলার সরানোর চেষ্টা করেছিল, কিন্তু একটি বানান ভুলের কারণে শ্রীলঙ্কার ব্যাংক কর্মকর্তাদের সন্দেহ হয়, আর তাতেই বাংলাদেশের ওই ডলারগুলো লোপাটের হাত থেকে রক্ষা পায়। বিষয়টি তদন্ত করছে শ্রীলঙ্কার গোয়েন্দা সংস্থা। তারা বলছে, অর্থপাচারের এ চেষ্টার সঙ্গে শালিকা ফাউন্ডেশনের যোগসাজশ রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

গোয়েন্দা সংস্থার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল কলম্বোর চিফ ম্যাজিস্ট্রেট গিহান পিলাপিতিয়া শালিকা ফাউন্ডেশনের ছয় পরিচালককে দেশ ত্যাগের নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন।

প্রসঙ্গত, গত ৪ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টার পর সুইফট মেসেজিং সিস্টেমে জালিয়াতির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংক থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের ১০১ মিলিয়ন ডলার বা ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার অর্থ চুরি যাওয়ার ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে দুই কোটি ডলার যায় শ্রীলঙ্কায়, যা পরে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। আর ফিলিপাইনে যাওয়া আট কোটি ১০ লাখ ডলারের মধ্যে মাত্র ৬৮ হাজার ডলার এ পর্যন্ত ফেরত এসেছে বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ফিলিপাইনের রিজাল ব্যাংকের চারটি অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে পাচার হওয়া ওই টাকার বেশির ভাগই এরই মধ্যে জুয়ার আসর হয়ে অন্য দেশে চলে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


মন্তব্য