kalerkantho

শুক্রবার । ২০ জানুয়ারি ২০১৭ । ৭ মাঘ ১৪২৩। ২১ রবিউস সানি ১৪৩৮।


এবার ব্রাসেলস রক্তাক্ত

বিমানবন্দর ও পাতাল রেলে জঙ্গি হামলায় নিহত ৩৫

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৩ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



এবার ব্রাসেলস রক্তাক্ত

ব্রাসেলসে মেট্রো স্টেশনের বাইরে বোমায় আহত এক নারীকে সহায়তা করছেন নিরাপত্তাকর্মী। ছবি : এএফপি

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের পর এবার বোমায় কাঁপল বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলস। গতকাল মঙ্গলবার কাছাকাছি সময়ে ব্রাসেলসের বিমানবন্দর এবং পাতাল রেলে বোমা হামলা চালায় জঙ্গিরা। তিন দফা বোমা হামলায় কমপক্ষে ৩৫ জন নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে। আহত হয়েছে অন্তত ২৩০ জন।

হামলার পর ব্রাসেলসে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তাৎক্ষণিক পুরো ইউরোপের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদর দপ্তর এই শহরেই। বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী চার্লস মাইকেল এই হামলাকে ‘অন্ধ, হিংস্র ও কাপুরুষোচিত’ বলে অভিহিত করেছেন। হামলার ঘটনায় তিন দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে।

মাত্র চার দিন আগে গত শুক্রবার ব্রাসেলসে নাটকীয়ভাবে ধরা পড়েন প্যারিস হামলার একমাত্র জীবিত পরিকল্পনাকারী সালাহ আবদেসলাম। চার মাস ধরে পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) এই সদস্য। আবদেসলাম ধরা পড়ার পর থেকেই ব্রাসেলসে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদেও তিনি ব্রাসেলসে হামলার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন। গতকাল আইএস ব্রাসেলসে হামলার দায় স্বীকার করেছে।

গতকাল স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় জাভেনতেম বিমানবন্দরের মূল হলে পর পর দুই দফা বোমার বিস্ফোরণ ঘটে। সরকারি কৌঁসুলি ফ্রেডারিক ভ্যান লিউ জানান, এর মধ্যে অন্তত একটি আত্মঘাতী হামলা ছিল। তৃতীয় হামলাটি চালানো হয় এর ঘণ্টা খানেক পর মালবিক পাতাল রেল স্টেশনে একটি ট্রেনে। সকালের ব্যাস্ত সময়ে স্টেশন তখন ভিড়ে ঠাসা। স্টেশনটি ইইউ সদর দপ্তরের মূল ভবনের কাছেই।

ব্রাসেলস ফায়ার সার্ভিসের মুখপাত্র পিয়েরে মেইস জানিয়েছেন, বিমানবন্দরে অন্তত ১৪ জন নিহত এবং ৫৫ জন আহত হয়েছে। ট্রেনে প্রাণ হারিয়েছে ২১ জন এবং আহত ১০৬। এর মধ্যে কোনো বিদেশি আছে কি না জানা যায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, হতাহতদের রক্তে ভাসতে দেখেছে তারা। চারপাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল শরীরের বিভিন্ন অংশ। আতঙ্ক, ভীতি আর কান্নার শব্দ ছাড়া আর কিছুই শোনা যাচ্ছিল না।

বিমানবন্দরের ব্যাগেজ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলফোনস লিওরা বলেন, ‘এক ব্যক্তি আরবি কিছু বলার পরপরই বিস্ফোরণের আওয়াজ পেলাম। বহু মানুষ হাত বা পা হারিয়েছে। এক লোককে দেখলাম, তার দুটি পা-ই উড়ে গেছে। ’

হামলা-পরবর্তী পরিস্থিতি : বেলজিয়ামে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বিস্ফোরণের পরপরই পুরো শহরের বিমান, রেল ও বাস সার্ভিস বন্ধ করে দেওয়া হয়। নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে বেলজিয়ামের পরমাণু প্রকল্প এবং ইইউ ভবনগুলোতে। ইইউ কার্যালয় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পরিচয়পত্রসহ তাদের কর্মী ছাড়া কাউকে ঢুকতে বা বের হতে দেওয়া হচ্ছে না। অতি ব্যবহারের কারণে মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক জ্যাম হয়ে যাওয়ায় অনলাইনে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া লন্ডন, প্যারিস, ফ্রাংকফুর্ট, আমস্টারডামসহ ইউরোপজুড়ে বিমানবন্দরগুলোতে নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা হয়। আটলান্টিকের ওপারেও নিউ ইয়র্ক ও ওয়াশিংটনের বিমান ও রেলস্টেশনের নিরাপত্তাব্যবস্থাও জোরদার করা হয়।

নিন্দা-সমবেদনা : ঘটনার পরপরই এর তীব্র নিন্দা জানায় কায়রো আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়। এক বিবৃতিতে বলা হয়, ইসলামে ধৈর্যের যে শিক্ষা দেওয়া হয়েছে তাকে ভয়াবহভাবে লঙ্ঘন করেছে এই হামলা।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ এই হামলা শুধু ব্রাসেলস নয়, পুরো ইউরোপের ওপর চালানো হয়েছে বলে মন্তব্য করেন। গত নভেম্বরে প্যারিসে হামলায় নিহত হয় ১৩০ জন। আইএস সে হামলার দায় স্বীকার করলেও ব্রাসেলসের বিষয়ে এখনো কোনো জঙ্গিগোষ্ঠীই মুখ খোলেনি।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন কোনো অবস্থাতেই এই জঙ্গিদের জয়ী হতে দেওয়া যায় না বলে মন্তব্য করেছেন। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াই জোরদারের তাগিদ দিয়েছে রাশিয়া ও তুরস্ক। সূত্র : বিবিসি, এএফপি, রয়টার্স ও নিউ ইয়র্ক টাইমস

 


মন্তব্য