kalerkantho


সামনে আজ ভারত চ্যালেঞ্জ

২৩ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



সামনে আজ ভারত চ্যালেঞ্জ

: ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের কি জেতা সম্ভব? —১৯৮৩ বিশ্বকাপে কিন্তু ভারত চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল।

উত্তরদাতার নাম সৈয়দ কিরমানি; ভারতের সেই বিশ্বকাপজয়ী দলের উইকেটরক্ষক।

বেঙ্গালুরুর আজকের ম্যাচ নিয়ে করা প্রশ্নে উত্তরটা দেন তিনি এক লাইনে। কিন্তু এর অন্তর্নিহিত অর্থ বুঝে নিতে সমস্যা হয় না এতটুকুন। আজ জিততে হলে অলৌকিক কিছু করতে হবে বাংলাদেশকে। ‘মিরাকল অ্যাট লর্ডস’-এর মতো ‘মিরাকল অ্যাট বেঙ্গালুরু’!

কিরমানির মতো কিংবদন্তি বলছেন বটে, কিন্তু সত্যিই কি ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের জয় এখন আর অমন অলৌকিক কিছু? তাহলে গত বছর ওয়ানডে সিরিজে মহেন্দ্র সিং ধোনির দলকে কী করে পর পর দুই ম্যাচে হারায় মাশরাফি বিন মর্তুজার দল? কী করে জেতে সিরিজ? কী করে তাতে বাংলার ক্রিকেটপাগল আমজনতার মনে এই বিশ্বাস আরো শেকড় ছড়ায় যে ষড়যন্ত্র না হলে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ঠিকই জিতত বাংলাদেশ? কেনই-বা এবার তাসকিন আহমেদের বোলিং অ্যাকশন অবৈধ ঘোষণা করায় এর সঙ্গেও ষড়যন্ত্রের যোগসূত্র খোঁজা হয়?

ভারতকে হারানো তাই এখন বাংলাদেশের জন্য খুবই লৌকিক বাস্তবতা। এটি ভারত জানে, বাংলাদেশ বিশ্বাস করে। এই দুই দলের লড়াই বরং ক্রমশ পাচ্ছে ভিন্ন এক মাত্রা। কে জানে, ভারত-পাকিস্তানের ক্রিকেট দ্বৈরথটাই না কালক্রমে প্রতিস্থাপিত হয়ে যায় বাংলাদেশ-ভারত দিয়ে!

মেলবোর্নের পর ষড়যন্ত্র-তত্ত্ব বাজার পায় প্রবলভাবে। সেই আগুনে বাতাস দেওয়ার জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো তো রয়েছেই। এবার যখন তাসকিনকে নিষিদ্ধ করা হয়, একইভাবে হামলে পড়ে ওই মাধ্যমগুলো।

বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচ সামনে রেখে এ নিয়ে কাল প্রশ্ন করা হয় আশিষ নেহরাকে। উত্তরটা খুব মজা করেই দেন কাল ভারতের প্রতিনিধি হয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসা অভিজ্ঞ এই পেসার, ‘প্রশ্নটি ভুল মানুষকে করেছেন। কারণ আমি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করি না। ফেসবুক, টুইটার, ইন্সটাগ্রামে অ্যাকাউন্ট নেই। ওখানে তাই এ ম্যাচ নিয়ে কী সব লেখা হচ্ছে, কিচ্ছু জানি না। ’ সাকিব আল হাসান আবার সেটি জানেন ভালোভাবে। তবে এ নিয়ে তাঁর দলের যে কোনো হেলদোল নেই, বুঝিয়ে দেন সেটি। বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচের এই যুদ্ধ যুদ্ধ ভাব নিয়েও একেবারে নির্বিকার এই অলরাউন্ডার, ‘আমার কাছে মনে হয় না, কোনো খেলোয়াড় এগুলো নিয়ে চিন্তা করে। এটা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসে। মানুষের মুখে শোনা কথা। আমি কখনোই অনুভব করি না, কোনো খেলোয়াড় এভাবে চিন্তা করে কোনো একটি ম্যাচ নিয়ে। আমি নিশ্চিত, ভারতীয় দলের কেউও এটা নিয়ে এভাবে চিন্তা করে না। ’

সাকিব বলেছেন নিজ দলের কথা। দায়িত্ব নিয়ে অনুমান করেছেন ভারতীয় ক্রিকেটারদের মানসিক অবস্থাও। তবু আজকের ম্যাচটি যে অন্য আরেকটি ক্রিকেট-দ্বৈরথ, এ কথা বিশ্বাস করার কোনো কারণ নেই। মাঠের বাইরের এতসব ‘মসলা’ যোগ হওয়ার কারণ লড়াইটি হয়ে উঠেছে ‘ঝাঁজালো’। তাতে কেউ কাউকে এক বিন্দু ছাড় দেবে না নিশ্চিত। আবার এক দলের ভাবনায় জয় কেবল আনুষ্ঠানিকতা, অন্য দলের চিন্তায় নিয়তির কাছে আত্মসমর্পণের অপেক্ষা—এমনটাও তো নয়।

ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ সামনে রেখে কাল অনুশীলন করেনি বাংলাদেশ। সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার আনুষ্ঠানিকতা সারার জন্য এসেছিলেন কেবল সাকিব। ভারত অবশ্য অনুশীলন করে দলেবলে। সেটি করবে না কেন! নিউজিল্যান্ডের কাছে হেরে বিশ্বকাপে তাদের শুরু খুব বাজে। পাকিস্তানের বিপক্ষে জয়ে কক্ষপথে ফেরা। এই অবস্থায় সেমিফাইনালে উঠতে হলে আজকের ম্যাচে জয় খুব প্রয়োজন স্বাগতিকদের। আর তাতে প্রতিপক্ষকে সমীহ করার কথাই জানান নেহরা, ‘সবাই জানে বাংলাদেশ খুব ভালো করছে। পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে এশিয়া কাপের ফাইনালে খেলেছে ওরা। গত ২-৩-৪ বছরে বাংলাদেশের ক্রিকেট যেভাবে এগিয়ে, সেটা অসাধারণ। বাংলাদেশকে হালকাভাবে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই, আমাদের পুরোটা দিয়েই খেলতে হবে ওদের হারাতে হলে। ’

নকআউট পর্ব শুরুর আগে সেমিফাইনালে খেলার লক্ষ্যের ঘোষণা তো দিয়েছিলেন মাশরাফিও। কিন্তু পরিবর্তিত বাস্তবতায় সেই সম্ভাবনার রং ফিকে হয়ে গেছে অনেকটা। পাকিস্তান ও অস্ট্রেলিয়ার কাছে দুই ম্যাচ হেরে; এর চেয়েও বড় ব্যাপার তাসকিনকে হারিয়ে। সহঅধিনায়ক সাকিব অবশ্য অত বড় পরিসরে না ভেবে মনোযোগ দিচ্ছেন ভারতের বিপক্ষে খেলায়, ‘সেমিফাইনাল খেলা এখনো গাণিতিকভাবে সম্ভব। কিন্তু আমরা সবাই জানি এখনকার বাস্তবতা কী। ব্যাপারটি খুব কঠিন। আমরা আপাতত কালকের ম্যাচ নিয়ে চিন্তা করছি। এরপর ভাবব পরবর্তী ম্যাচ নিয়ে। হয়তো নির্দিষ্ট একটি টার্গেট সবার থাকেই। তবে আমার মনে হয়, এসব ক্ষেত্রে প্রত্যেক দলই একটি একটি করে ম্যাচ নিয়ে চিন্তা করে। ’

দুই গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ের পাশাপাশি গত ম্যাচে তামিম ইকবালকেও পায়নি বাংলাদেশ। বদহজমের কারণে শরীরে জ্বর এসে যায় তাঁর। এখন সেই ওপেনারের অবস্থা উন্নতির দিকে। যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য আজকের ম্যাচের আগ পর্যন্তই অপেক্ষা করবে বাংলাদেশ।

আর অপেক্ষা করবে ‘আশ্চর্য’ কোনো সাফল্যের। ভারতকে হারানো বাংলাদেশের জন্য আর অলৌকিক না হলেও বর্তমান বাস্তবতায় আশ্চর্য তো বটেই। মূল পর্বের টানা দুই ম্যাচ হারার জন্য। দুই খেলোয়াড়কে হারিয়ে ভঙ্গুর মানসিক অবস্থার কারণে।

তবে বাংলাদেশ-ভারত দ্বৈরথটা ক্রমশ যখন হয়ে উঠছে ভারত-পাকিস্তানের সমতুল্য—তখন খেলা শেষ হওয়ার আগে এর ‘শেষ’ না দেখাই ভালো!


মন্তব্য