kalerkantho


নির্বাচনে গুলিতে ১০ প্রাণ ক্ষয়

৬৫ কেন্দ্রের ভোট স্থগিত, ৪৭ ইউপিতে ৪৯ প্রার্থীর বর্জন

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৩ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



নির্বাচনে গুলিতে ১০ প্রাণ ক্ষয়

বাঞ্ছারামপুরের সাতবিলা কেন্দ্রের ব্যালট পুকুরে (বাঁয়ে); পঞ্চগড়ে নাতবউয়ের কোলে চড়ে ভোটকেন্দ্রে শতবর্ষী মেহেরন। ছবি : কালের কণ্ঠ

বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ, সহিংসতা, কেন্দ্র দখল, ব্যালট ছিনতাইয়ের ঘটনার মধ্য দিয়ে গতকাল মঙ্গলবার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রথম ধাপের ভোট গ্রহণ হয়েছে। অন্তত ২০টি জেলায় সহিংসতার ঘটনায় গুলিতে প্রাণ গেছে নারীসহ ১০ জনের। আহত হয়েছে ছয় শতাধিক। এর মধ্যে গুলিবিদ্ধ রয়েছে ৩৫ জনের মতো।

সবচেয়ে বড় সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার ধানীসাফা ইউনিয়নের সাফা ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে। গত রাত সাড়ে ৮টার দিকে ভোট গণনার সময় বিক্ষোভের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলিতে নিহত হয়েছে কমপক্ষে পাঁচজন। গুলিবিদ্ধ কয়েকজনকে গুরুতর অবস্থায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রাত ৯টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরির দ্বীপ ও মণ্ডলপাড়া এলাকায় গোলাগুলিতে দুজন নিহত হয়েছে। রাত সাড়ে ১০টার দিকে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে ফলাফল ঘোষণার পর পরাজিত সদস্যের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে এক নারী নিহত হয়েছে। এর আগে ভোটগ্রহণের সময় কেন্দ্র দখল নিয়ে সংঘর্ষে ঝালকাঠি ও নেত্রকোনায় গুলিতে নিহত হয় আরো দুজন।   সহিংসতা ও ভোট জালিয়াতির ঘটনায় নির্বাচন কমিশন প্রায় সাত হাজার ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৬৫টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করেছে। আর ৪৭টি ইউপিতে ৪৯ জন প্রার্থী ভোট বর্জন করেছেন।

এবারই প্রথম দলীয় প্রতীকে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন হচ্ছে। মোট ছয়টি ধাপে সারা দেশের চার হাজার ২৭৯টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন শেষ হবে আগামী জুনে। প্রথম ধাপে গতকাল মঙ্গলবার ৭১২টি ইউপিতে নির্বাচন হয়েছে। এগুলোর মধ্যে শতাধিক ইউপিতে বিএনপির কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ছিল না। ৫৪টি ইউপিতে এরই মধ্যে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।

নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, সার্বিকভাবে এ নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। একই সঙ্গে বিক্ষিপ্ত সহিংসতায় নিহত ও আহত হওয়ার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে।

অন্যদিকে বিএনপির অভিযোগ, ৭১২টি ইউনিয়নের বেশির ভাগেই কারচুপি হয়েছে। গতকাল বিকেলে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমানের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে দেখা করে এই অভিযোগ করে। আবদুল্লাহ আল নোমান পরে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের অনুরোধ ছিল, নির্বাচন কমিশন অন্তত একটা উদাহরণ সৃষ্টি করুক। ৫০টি ইউনিয়নের হলেও নির্বাচন বাতিল করে প্রমাণ করুক যে কমিশন আসলেই নিরপেক্ষতা বজায় রাখার চেষ্টা করছে। যারা সন্ত্রাস করে নির্বাচনকে নিজের পক্ষে নিতে চেয়েছে, কমিশন তাদের চাওয়া পূরণ করেনি। কমিশন যদি এটা করতে পারে, তাহলে তাদের ওপর জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস ফিরে আসবে। ’

এর আগে গতকাল দুপুরে জাতীয় পার্টির (জাপা) সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট মো. রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়ার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল নির্বাচন কমিশনে লিখিত অভিযোগ জমা দেয়। রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া সাংবাদিকদের বলেন, ‘ইসির ওপর কোনো আস্থা নেই। আমরা অভিযোগ করেছি কিন্তু কতটুকু কাজ হবে জানি না। নির্বাচন সুষ্ঠু হবে বলে মনে করি না। ’

কক্সবাজার-টেকনাফে নিহত ২ : কক্সবাজারের টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরির দ্বীপে গত রাত ৯টার দিকে দুই মেম্বার পদপ্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এ সময় গোলাগুলিতে মোহাম্মদ সলিম (২২) নামের একজন নিহত হন। তিনি শাহপরির দ্বীপের দুদু মিয়ার পুত্র। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ওই ইউনিয়নের মণ্ডলপাড়া নামক স্থানে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকে। এ সময় খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী উপস্থিত হলে ত্রিমুখী সংঘর্ষ বেধে যায়। এতে আবদুল গফুর (৩৫) নামের আরেক যুবক গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। একই সঙ্গে আহত হয় আরো ২০ জন। গফুর মণ্ডলপাড়ার আমীর হামজার ছেলে।

টেকনাফ থানার ওসি আবদুল মজিদ জানান, শাহপরির দ্বীপের সেলিম ও নুরুল আমিন মেম্বারের সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষ ঘটে। এ ছাড়া এর আগে সহিংসতার সবচেয়ে বেশি ঘটনা ঘটেছে কুতুবদিয়া দ্বীপে। এখানে গোলাগুলিতে কমপক্ষে ১০ জন, উত্তর ধুরুং ইউনিয়নের ৪০ জন, বড় মহেশখালী ইউনিয়নে ৩০ জন ও টেকনাফ সদর ইউনিয়নে ২০ জন আহত হয়েছে।

সিরাজগঞ্জে নারী নিহত : সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণার পর পরাজিত সদস্যের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে এক মহিলা নিহত ও অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে। রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার ধানগড়া ইউনিয়নের জয়ানপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত নোনাই বেগম জয়েনপুর গ্রামের ইনসাব আলীর স্ত্রী।

৯ নম্বর ওয়ার্ডের বিজয়ী ইউপি সদস্য নবাব আলী অভিযোগ করে বলেন, সিলিং ফ্যান প্রতীক নিয়ে তিনি নির্বাচনে জয়লাভ করেছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সামিদুল ইসলাম (ফুটবল) পরাজয় মেনে না নিয়ে দেশি অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তাঁর কর্মী-সমর্থক ও আত্মীয়স্বজনের ওপর হামলা চালান। হামলাকারীদের লাঠির আঘাতে ঘটনাস্থলেই শাশুড়ি নোনাই বেগম মারা যান এবং অন্য ১০ জন আহত হয়। তাদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় মালেক নামের এক ব্যক্তিকে বগুড়ায় পাঠানো হয়েছে।

এর আগে রায়গঞ্জ উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের মধ্যে ব্রহ্মগাছা ইউনিয়নের জানকিগাঁতী কেন্দ্রে সরকারদলীয় প্রার্থীর পক্ষে জোর করে ভোট দিতে বাধা দিলে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পাঙ্গাশী ইউনিয়নের ব্যাংনাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী আ. সালাম জোর করে ভোট নেওয়ার চেষ্টা করলে অন্য দুই স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকরা একজোট হয়ে তাঁকে মারধর করে আটকে রাখে। আহত হন এক আনসার সদস্য।

ঝালকাঠিতে নিহত ১ : ঝালকাঠি সদর উপজেলার নবগ্রাম ইউনিয়নের কালিয়ান্দার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের পাশে দুই ইউপি সদস্যের কর্মী-সমর্থকদের সংঘর্ষে আবুল কাশেম সিকদার (৫৫) নামের একজন নিহত হয়েছেন। তিনি কালিয়ান্দার ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য পদপ্রার্থী চুন্নু সিকাদারের ভাই। গতকাল দুপুর ২টার দিকে নবগ্রাম ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য প্রার্থী সজীব হোসেনের সমর্থকরা দলবল দিয়ে জাল ভোট দিচ্ছিল। এতে বাধা দেয় প্রতিদ্বন্দ্বী চুন্নু সিকদারের সমর্থকরা। এ সময় সজীব হোসেনের সমর্থকরা লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায় চুন্নু সিকদারের সমর্থকদের ওপর। পুলিশ লাঠিপেটা করে উভয় পক্ষের কর্মী-সমর্থকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। কিছুক্ষণ পরেই ভোটকেন্দ্র থেকে একটু দূরে ফের দুই পক্ষের সংঘর্ষ বাধে। এতে আবুল কাশেম সিকদার নিহত হন। সংঘর্ষে আহত হয় কমপক্ষে পাঁচজন।

এদিকে সকালে প্রথম দফায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ঝালকাঠির চার উপজেলার ৩১টি ইউনিয়নে ভোটগ্রহণের শুরু থেকেই আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থীর কর্মীদের বিরুদ্ধে কেন্দ্র দখল করে ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নিয়ে সিল মারার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অন্যদিকে কেন্দ্র দখল ও ভোট জালিয়াতির অভিযোগ এনে বিএনপি এবং আওয়ামী লীগের বিদ্রোহীসহ ৩০ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী ভোট বর্জন করেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। এ ছাড়া নলছিটি উপজেলার দপদপিয়া ইউনিয়নের উত্তর তিমিরকাঠি, গোহালকাঠি, কাঁঠালিয়ার চেঁচরিরামপুর ইউনিয়নের সিকদারহাট কেন্দ্রে ইউপি সদস্য প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে অর্ধশত ব্যক্তি আহত হয়েছে।

নেত্রকোনায় নিহত ১ : নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হলেও গতকাল সন্ধ্যা ৭টার দিকে সদর উপজেলা ইউনিয়নের আদাউরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গুলিবিদ্ধ হয়ে আবু কাওসার নামের একজনের মৃত্যু হয়েছে। তিনি আওয়ামী লীগ প্রার্থী আবু ইসাকের ভাই।

নেত্রকোনা জেলা পুলিশ সুপার জয়দেব চৌধুরী জানান, আদাউরা কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ প্রার্থী আবু ইসাকের সমর্থকরা সন্ধ্যার দিকে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করে ব্যালট বাক্স ছিনিয়ে নিতে চাইলে পুলিশ শটগানের ফাঁকা গুলি ছোড়ে। এ সময় দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে গুলি-পাল্টা গুলির ঘটনা ঘটে। এ সময় আওয়ামী লীগ প্রার্থী আবু ইসাকের ভাই আবু কাওসার গুলিবিদ্ধ হন। তাঁকে খালিয়াজুরী সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন।

ভোলা : ভোলার পাঁচ উপজেলার ৩২টি ইউনিয়নের প্রায় ১০০টি কেন্দ্রে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। এতে তিনজন গুলিবিদ্ধসহ অন্তত তিন শতাধিক কর্মী-সমর্থক আহত হয়েছেন। এর মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা গুরুতর। বেশির ভাগ কেন্দ্রে মেম্বার প্রার্থীদের দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টা-পাল্টা ধাওয়া, গুলিবর্ষণ, বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ভোলা সদরের কলঘাট, চরসামাইয়া, ভেলুমিয়া, বাপ্তা, পশ্চিম ইলিশা, বাঘারহাট, উত্তর দিঘলদী, ধনিয়া ইউনিয়নে সংঘর্ষে দেড় শতাধিক কর্মী-সমর্থক আহত হন। এর মধ্যে বাপ্তার একটি কেন্দ্রে আধা ঘণ্টা ভোটগ্রহণ বন্ধ রাখা হয়। এদিকে লালমোহন উপজেলায় ধলীগৌরনগর ইউনিয়নে প্রতিপক্ষ এক সমর্থকের কবজি কাটার ঘটনা ঘটেছে। এই ইউনিয়নে সংঘর্ষে আহত হয়েছেন আরো ১৫ জন। দৌলতখানের চরখলিফা ও চরপাতা ইউনিয়নে ৩০ জন, বোরহানউদ্দিনের কুতুবা, সাচড়া, কাচিয়া ও টবগী ইউনিয়নে গুলিবিদ্ধসহ ৪০ জন, চরফ্যাশনের চরকলমি এবং এওয়াজপুর, নজরুলনগর ইউনিয়নে সংঘর্ষে অন্তত ৫০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

খুলনা : পাইকগাছার হরিঢালী ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীর লোকজন হামলা চালিয়ে কেন্দ্র দখল করে নেয়। সোলাদানা ইউপিতে ভোটকেন্দ্র দখলের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে তারবান্ধা স্কুলে হামলা, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। বটিয়াঘাটার সুরখালী ইউনিয়নের গাওঘরা কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ ও ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীর মধ্যে দুই দফা গোলাগুলি হয়। এতে আটজন আহত হয়েছে। তেরখাদার সদর ইউনিয়নে আটলিয়া কেন্দ্রে দুই সদস্য পদপ্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। দিঘলিয়ার যোগীপোল ইউনিয়নে দুই চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীর লোকজন মুখোমুখি অবস্থান নিলে পুলিশ গুলি ছোড়ে। এতে এক নারীসহ সাতজন আহত হয়।

সাতক্ষীরা : তালার কুমিরা ইউনিয়নের ভাগবাহ ভোটকেন্দ্রে ব্যালটে নৌকা প্রতীকে সিল মারার সময় পুলিশের গুলিতে একজন আহত হয়েছেন। আটক করা হয়েছে দুজনকে। খলিলনগর ইউনিয়নে ললতা স্কুল কেন্দ্র দখল করে সিল মেরেছে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর লোকজন। শ্যামনগরের কৈখালী ইউনিয়নে ইচ্ছামতো সিল মেরেছে আওয়ামী লীগের কর্মীরা। কলারোয়ার কেরালকাতা ইউনিয়নের বলিয়ানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর লোকজন বোমা ফাটায়। এতে আটজন আহত হয়। পরে বিদ্রোহী প্রার্থীর লোকজনের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়। তখন পুলিশ গুলি ছুড়লে আহত হয় একজন। দেয়াড়া ইউনিয়নের বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর বাড়ি লক্ষ্য করে পাঁচটি বোমা নিক্ষেপ করা হয়। তবে এতে হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

নোয়াখালীতে ভোটের আগে গুলি : হাতিয়ার চর কিং বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রের বাইরে সন্ত্রাসীদের গুলিতে কেন্দ্রের সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার আবদুল আউয়াল ও পোলিং অফিসার শাহাদাৎ হোসেনকে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। পায়ে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দুজনকে হাতিয়া উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে সে কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ যথারীতি হয়েছে। জাহাজমারা ইউনিয়নের জাহাজমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের বাইরে আওয়ামী লীগ ও দলটির বিদ্রোহী প্রার্থীর লোকজনের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়েছে। এ ছাড়া হাতিয়ার কয়েকটি স্থানে কেন্দ্রের বাইরে সদস্য প্রার্থীদের লোকজনের মধ্যে ছোটখাট সংঘর্ষ হয়েছে। সুবর্ণ চরের চরজব্বর ইউনিয়নের বিএনপি এজেন্টদের ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। একদল যুবক একটি কেন্দ্রে প্রবেশ করে জাল ভোট দেওয়ার ও ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। একই ইউনিয়নের সমিতির বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে লোকজন ভেতরে ঢুকে সিল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।

নিজের রাইফেলের গুলিতে আনসার সদস্য নিহত : বরিশালের বানারীপাড়ায় বিশারকান্দি ইউনিয়নের মুরারবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে নিজের রাইফেলের গুলিতে নিহত হয়েছেন আল আমিন  হোসেন (৪০) নামের এক আনসার সদস্য। তিনি একই ইউনিয়নের উমারেরপাড় এলাকার আবদুল মালেকের ছেলে। থানার ওসি জিয়াউল আহসান বলেন, কেন্দ্রের বাইরে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছিলেন আল আমিন। ওই সময় চেয়ারে ঘুমিয়ে পড়লে অসাবধানতাবশত হাতে থাকা রাইফেলের ট্রিগারে চাপ পড়ে গুলি বের হয়। এতে আল আমিন ঘটনাস্থলেই মারা যান।

বরিশাল : সদর উপজেলার রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়নের পপুলার মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে জাল ভোট দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে পাঁচজন আহত হয়েছে। বাকেরগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতি ইউনিয়নের রামগঞ্জ এআরকে জনতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, গোয়াখালী প্রাথমিক স্কুল ও চরামুদ্দি ইউনিয়নের ডাব্লিউবি হাই স্কুল কেন্দ্রে ব্যালট পেপারে সিল মারার চেষ্টা চলে। একপর্যায়ে পুলিশ গুলি চালায়। বাবুগঞ্জের চাঁদপাশা ইউনিয়নের চাঁদপাশা মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর পোলিং এজেন্ট শাওন হাসানকে কেন্দ্র থেকে ডেকে এনে সরকারি দলের কর্মীরা কুপিয়ে আহত করে। উজিরপুরের হারতা ইউনিয়নের জামবাড়ী কেন্দ্রে ওয়ার্কার্স পার্টি ও আওয়ামী লীগের প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। সাতলা ইউনিয়নের জামবাড়ী সরকারি প্রথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এই দুই দলের প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে ওয়ার্কার্স পার্টির ১১ নেতাকর্মী আহত হয়েছে। বানারীপাড়া উপজেলার সৈয়দকাঠি ইউনিয়নের আউয়ার বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দুই ইউপি সদস্যের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ রাবার বুলেট ছোড়ে। পশ্চিম সৈয়দকাঠি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দুই সদস্য পদপ্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। আগৈলঝাড়া উপজেলার রত্নপুর ইউনিয়নের ত্রিমুখ এলাকায় দুই সদস্যের সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। মুলাদী উপজেলার ছবিপুরে ইউপি সদস্যদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়। কেন্দ্রর সামনে ককটেল ফাটানো হয়। পুলিশ ফাঁকা গুলি ছোড়ে। এ ছাড়া এই উপজেলার গাছুয়া, চরকালেখাতে সদস্য পদপ্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

কুমিল্লা : দেবীদ্বার উপজেলার বরকামতার প্রেমু ওয়ার্ডে সদস্য পদপ্রার্থী আমির হোসেন ও রুস্তম আলীর সমর্থকদের সংঘর্ষের সময় কুপিয়ে জখম করা হয় একজনকে। ফতেহাবাদ ইউনিয়নের বড়কান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দুই সদস্য প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে দুজন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। আহত হয়েছে আরো তিনজন।

পিরোজপুর : মঠবাড়িয়া উপজেলার ধানীসফা ইউনিয়নে হাজীবাড়ির এবতেদায়ি মাদ্রাসা ভোটকেন্দ্রে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর মধ্যে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে পুলিশ গুলি ছোড়ে। এতে দুজন আহত হয়েছে। কাউখালীর চিড়াপাড়া ইউনিয়নের বড় বেকুটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে নৌকা সমর্থকরা সাতটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়। মধ্য বড় মাছুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে পুলিশ গুলি চালায়। এতে আহত হয় একজন। ভাণ্ডারিয়ার ইকড়ি ইউনিয়নে কেন্দ্র দখল, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আওয়ামী লীগ প্রার্থীর জাল ভোট দেওয়ার ও কেন্দ্র দখলের চেষ্টার জের ধরে হওয়া এই সংঘর্ষে অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছে।

পটুয়াখালী : সদর উপজেলার মরিচবুনিয়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর লোকজন বাজারঘোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র দখলের চেষ্টা করলে বিএনপির লোকজনের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে প্রিসাইডিং অফিসারসহ ১০ জন আহত হয়। গলাচিপার ডাকুয়া ইউনিয়নে পাড় ডাকুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রটি আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর লোকজন দখলের চেষ্টার জের ধরে সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় পুলিশ ফাঁকা গুলি ছোড়ে। একই ইউনিয়নের হোগলা বুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রও দখলের চেষ্টা করে সরকারি দলের কর্মীরা। এ নিয়ে স্থানীয় সদস্য পদপ্রার্থীদের কর্মীদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়। বাউফলের সূর্যমণি নিউ মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে ব্যালট ছিনতাই করে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর লোকজন। এতে কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত হয়ে যায়। কই উপজেলার নওমালা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের ব্যালট ছিনতাইয়ের ঘটনায় ভোট হয়নি। এদিকে পটুয়াখালীর কলাপাড়ার চাকামইয়া ইউনিয়নে চুঙ্গাপাশা মাদ্রাসা কেন্দ্রে সশস্ত্র হামলা চালিয়ে ব্যালট বাক্স ছিনতাই ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ সাত রাউন্ড শটগানের ছররা গুলি ছোড়ে। এ ছাড়া সংঘর্ষে এক মেম্বার প্রার্থীসহ পাঁচজন গুলিবিদ্ধসহ ১৫ জন আহত হয়েছেন।  

বাগেরহাট : বাগেরহাটের কচুয়ায় মঘিয়া ইউনিয়নের চরসোনাকুড় বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা শেষে নির্বাচনী সরঞ্জাম নিয়ে ফেরার পথে পুলিশ ব্যারিকেডের মুখে পড়ে। এ সময় পুলিশ গুলি চালালে মুন্না ব্যাপারী (১৬) নামে এক স্কুলছাত্র গুলিবিদ্ধ হয়। গুলিবিদ্ধ মুন্না ব্যাপারী চরসোনাকুড় গ্রামের কামরুল ব্যাপারীর ছেলে এবং স্থানীয় সি এস পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র। বাগেরহাট সদর হাসপাতালের জরুরি চিকিৎসা কর্মকর্তা জানান, তাঁর বুকে ছররা গুলির স্প্লিন্টার বিদ্ধ হয়েছে। মোরেলগঞ্জের চিংড়িখালী ইউনিয়নের একটি ভোটকেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার মো. হাবিবুল্লাহ আহত হয়েছেন। পুলিশ তিন রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে হামলাকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

মণিরামপুর (যশোর) : যশোরের মণিরামপুরের ১৫টি ইউনিয়নে বিছিন্নভাবে বোমা বিস্ফোরণ, কেন্দ্রে যেতে বাধাসহ জাল ভোট দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে শ্যামকুড়, মশ্মিমনগর ও ঝাঁপা ইউনিয়নের ১০টি কেন্দ্রে অনিয়ম হয়েছে। এ ছাড়া নেহালপুর, মনোহরপুর, হরিদাসকাটি ইউনিয়নে জাল ভোটের অভিযোগ পাওয়া যায়। শ্যামকুড় ইউনিয়নের দুই ইউপি সদস্য প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়েছে।

গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার গোপালপুর ইউনিয়নে জাল ভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই মেম্বার প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। গতকাল বিকেল ৩টার দিকে গুয়াধানা বেনীমাধব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। এদিকে সন্ধ্যায় টুঙ্গিপাড়ায় পৃথক হামলায় পুলিশের এসআই ও বিজয়ী মেম্বারসহ আরো ১০ জন আহত হয়েছেন। পাটগাতী ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের ত্রিপল্লী মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের সামনে ও গোপালপুর বাজার এলাকায় এসব হামলার ঘটনা ঘটে।

শেরপুর : শেরপুরের নালিতাবাড়ীর ১২ ইউনিয়নে শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে রূপনারায়ণকুড়া, যোগানিয়া, মরিচপুরাণ, বাঘবেড়, রাজনগর, পোড়াগাঁও ও কলসপাড় ইউনিয়নে পৃথক সংঘর্ষে অন্তত ৩৫ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ৬৫ রাউন্ড গুলি ছুড়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ ছাড়া মরিচপুরাণ ইউনিয়নের একটি কেন্দ্রে ভোট জালিয়াতির চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর ও আশুগঞ্জে বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া শান্তিপূর্ণভাবে ১৫টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে কয়েকটি স্থানে সংঘর্ষ, ব্যালট বাক্স ও পেপার ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। দুই উপজেলায় সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। গতকাল সকাল সোয়া ১১টার দিকে বাঞ্ছারামপুরের ছলিমাবাদ ইউনিয়নের সাতবিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে বুথ থেকে ব্যালট বাক্স ছিনিয়ে নিয়ে ভাঙচুর করা হয়। এ কেন্দ্রের পাশের পুকুরে ব্যালট পেপার ভাসতে দেখা যায়।

লক্ষ্মীপুর : লক্ষ্মীপুরের রামগতি ও কমলনগর উপজেলায় ছয়টি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে কয়েকটি ভোটকেন্দ্র দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় প্রকাশ্যে নৌকার ব্যালটে সিল মারার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এক যুবলীগ কর্মীকে হাতেনাতে আটক করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ ছাড়া কেন্দ্র দখল চেষ্টাকে কেন্দ্র করে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ২০ জন আহত হন।

মুন্সীগঞ্জ : মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে ১০টি ইউনিয়নে বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ হয়েছে। ভোটকেন্দ্রের বাইরে সহিংসতায় বিএনপির ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থীসহ সাতজন আহত হয়েছেন। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তিন রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে।

পোড়াদহ (কুষ্টিয়া) : কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার পোড়াদহ ইউনিয়নের নির্বাচন শেষে তেঘরিয়া কেন্দ্রের ভোট গণনার সময় রাত ৭টার দিকে আওয়ামী লীগ সমর্থক চেয়ারম্যান প্রার্থী ও জাসদ সমর্থক স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে গোলাগুলিতে সাতজন আহত হয়েছেন। তাঁদের কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

প্রথম ধাপে স্থগিত ২৭ ইউপি : নির্বাচন কমিশন প্রথম ধাপে ৭৫২ ইউপির তফসিল ঘোষণা করলেও আদালতের নির্দেশ ও সীমানাসংক্রান্ত জটিলতার কারণে ২৭টি ইউপির নির্বাচন স্থগিত রাখা হয়। গত রাতেও বেশ কয়েকটি স্থগিত করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার বড়মানিকা ও পক্ষিয়া ইউনিয়ন, লালমোহন উপজেলার বদরপুর ও রমাগঞ্জ ইউনিয়ন, চরফ্যাশন উপজেলার চরমানিকা ও রসুলপুর ইউনিয়ন। এই ধাপের আরো ১১টি ইউপির ভোট নেওয়া হবে আজ বুধবার। টাঙ্গাইল জেলার এই ১১ ইউপির ভোট উপনির্বাচনের জন্য পেছানো হয়েছিল। এ ছাড়া কক্সবাজার জেলার দুটি ইউপিতে প্রথম ধাপের ভোট নেওয়া হবে ২৭ মার্চ। ইসির ঘোষণা অনুযায়ী দ্বিতীয় ধাপে ৩১ মার্চ, তৃতীয় ধাপে ২৩ এপ্রিল, চতুর্থ ধাপে ৭ মে, পঞ্চম ধাপে ২৮ মে ও ষষ্ঠ ধাপে ৪ জুন ভোট হওয়ার কথা রয়েছে।


মন্তব্য