kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৯ জানুয়ারি ২০১৭ । ৬ মাঘ ১৪২৩। ২০ রবিউস সানি ১৪৩৮।


শেখ হাসিনা বললেন

খালেদা আবারও ষড়যন্ত্রের ঘোঁট পাকাচ্ছেন

আ. লীগের সম্মেলন ১০-১১ জুলাই

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২১ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



খালেদা আবারও ষড়যন্ত্রের ঘোঁট পাকাচ্ছেন

আগামী দিনে ‘হাসিনাবিহীন নির্বাচন’ হবে—বিএনপির কাউন্সিলে দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার এমন মন্তব্যকে ষড়যন্ত্র আখ্যা দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। খালেদা জিয়ার বক্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, ‘হাসিনাবিহীন নির্বাচন বলতে খালেদা জিয়া কী বোঝাতে চাচ্ছেন? ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার মতো আবার কোনো কিছু করে আমাকে হত্যার পরিকল্পনা করছেন কি না সেটাই আমার প্রশ্ন। যাক, রাখে আল্লাহ মারে কে? শকুনের দোয়ায় গরু মরে না। বহুবার চেষ্টা করেছেন, আল্লাহ জীবন দিয়েছেন, আল্লাহ কাজ দিয়েছেন। আমার কাজ যতক্ষণ পর্যন্ত না শেষ হয়, আল্লাহই আমাকে করবেন। ’ গতকাল সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভার সূচনা বক্তব্যে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। বক্তব্যে ২৮ মার্চ ঘোষিত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলন পিছিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান শেখ হাসিনা।

খালেদা জিয়ার বক্তব্য প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ‘তাদের কাউন্সিল হলো, সেখানে দেখলাম, পত্রিকায় পড়লাম যে হাসিনাবিহীন নির্বাচন করবে তারা। তার মানে আবারও কিছু একটা ষড়যন্ত্রের ঘোঁট পাকাচ্ছে সে। আর কোনো পথ তার নেই। তারা সব সময় একটা পথই দেখে। ২০০৪ সালে আমি যখন কোটালীপাড়া সভা করতে গেলাম, সেখানে ৭৪ কেজি ও ৭৬ কেজি দুটি বোমা পাওয়া গেল। এটা ঘটনাচক্রে ধরা পড়ে। ধরা পড়ার কথা না। একটা চায়ের দোকানদার এই বোমাটা আবিষ্কার করে। অর্থাৎ সেদিন আমাকে হত্যা করা হতো। ঠিক তার আগে, বিএনপির নেতারা ও খালেদা জিয়া একই বক্তৃতা দিয়েছিল। তাদের জোটের নেতাদেরও একই ধরনের বক্তৃতা ছিল। তারা বলেছিল, ২০০০ সালের আগেই আমাকে বিদায় করে দিয়ে নির্বাচন করবে। অর্থাৎ চক্রান্ত, ষড়যন্ত্র ছাড়া তারা আর কিছু বোঝে না। ’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ দেশে গণতন্ত্র অব্যাহত থাকুক, তা তারা চায় না। কারণ তাদের জন্ম তো গণতন্ত্রের মধ্য দিয়ে না। অবৈধ ক্ষমতা দখলের মধ্য দিয়ে। তারা শুধু ওইভাবেই চিন্তা করে, গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে দিয়েই কিভাবে ক্ষমতাটা দখল করা যায়, এই চিন্তাটাই তাদের মাথার মধ্যে আগে। ’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত তারা যখন ক্ষমতায় তখন কিবরিয়া সাহেবকে হত্যা করেছিল, আহসানউল্লাহ মাস্টার সংসদ সদস্যকে হত্যা করেছিল। একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা করেছিল। গ্রেনেড হামলার ঠিক আগে আপনারা যদি খালেদা জিয়ার বক্তব্য বা তাদের দলের নেতাদের বক্তব্য স্মরণ করেন দেখবেন, আমাকে তারা এমন কথা বলেছে, যে পথে আমার বাবাকে হত্যা করা হয়েছে সে পথে আমাকেও হত্যা করা হবে। তাদের বক্তব্য ছিল—আমি প্রধানমন্ত্রী তো দূরে থাক বিরোধী দলের নেতাও হতে পারব না। অর্থাৎ আমার অস্তিত্বই থাকবে না, এটাই তারা বোঝাতে চেয়েছিল। তারপরেই একুশে আগস্টের হামলা। কাজেই এটা দেশবাসীকে স্মরণ করাতে চাই—তারা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে কী বোঝাতে চেয়েছিল। ’

বিএনপি ঘোষিত ভিশন ২০৩০-এর প্রতি ইঙ্গিত করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশে আওয়ামী লীগই বোধ হয় একমাত্র দল যাদের অর্থনৈতিক নীতিমালা আছে, আমাদের ঘোষণাপত্রে লক্ষ্য-উদ্দেশ্য স্থির করা আছে। আমরা রূপকল্প ঘোষণা করেছি, যে রূপকল্পে সুনির্দিষ্ট টার্গেট আমাদের ঠিক করা। যাক, অনেকেই এখন আমাদের অনুকরণ করছেন, শুনে খুশি হলাম। বাংলাদেশ যে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে, সেটা স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন। সেটা কিন্তু আওয়ামী লীগেরই করা। এটুকু স্বীকার করলে আমি আরো খুশি হতাম। আর তাদের উন্নতি তো মানুষের উন্নতি না, তাদের উন্নতি হলো নিজেদের উন্নতি। গরিবের টাকা মারা, একটু বিলাসবহুল জীবন যাপন করা, অর্থ পাচার করা, এইগুলি করেছে তারা। ’

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলন পিছিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের কেন্দ্রীয় সম্মেলনের জন্য আমরা ২৮ তারিখ দিয়েছিলাম। যেহেতু আমাদের ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন চলছে, আমাদের পার্টির কাউন্সিলর যাঁরা আসেন তাঁরা তৃণমূল থেকেই আসেন। আমরা নির্বাচনকে গুরুত্ব দিই। আর নির্বাচনকে গুরুত্ব দিই বলেই নির্বাচন চলাকালীন যদি কাউন্সিল হয় তাঁরা আসতে পারবেন না। আমরা সকলেই চাই তাঁরা যেন সেখানে আসেন। সেই সুযোগটা তাঁদের দিতে হবে। এ জন্য ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মধ্যে যখন বড় ধরনের গ্যাপ থাকবে, কাউন্সিলররা সবাই আসতে পারেন এমন একটা দিন ঠিক করব। ’

এরপর রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ সাংবাদিকদের বলেন, ১০ ও ১১ জুলাই সম্মেলনের দিন ঠিক হয়েছে।


মন্তব্য