kalerkantho


সার্ভারের লিংক নিয়ে সন্দেহ সুইফটের

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২০ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



সার্ভারের লিংক নিয়ে সন্দেহ সুইফটের

বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেক্স রিজার্ভ শাখার সার্ভারের সঙ্গে রিয়েল টাইম গ্রোস সেটলমেন্ট (আরটিজিএস) সফটওয়্যারের লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক সার্ভার সংযুক্ত করা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন সোসাইটি ফর ওয়ার্ল্ডওয়াইড ইন্টারব্যাংক ফিন্যানশিয়াল টেলিকমিউনিকেশনের (সুইফট) দুই আইটি বিশেষজ্ঞ। তাঁরা বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেক্স রিজার্ভ সার্ভার পরিচালনার কম্পিউটারগুলো পরীক্ষা করেছেন।

বেলজিয়ামের ব্রাসেলস থেকে আগত সুইফটের দুই বিশেষজ্ঞ চার দিন ধরে ঢাকায় অবস্থান করছেন।

সিআইডি সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ ব্যাংকে ফরেক্স রিজার্ভ সার্ভারের সঙ্গে দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকের নেটওয়ার্ক সংযোগের বিষয়টি দু-তিন দিন আগে ধরা পড়ে সিআইডির একজন আইটি বিশেষজ্ঞের কাছে। বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ সিআইডিকে জানিয়েছে, দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাংকগুলোকে সহজে মনিটর করতেই ফরেক্স রিজার্ভ সার্ভারের সঙ্গে লোকাল নেটওয়ার্কের লিংক দেওয়া হয়। এ বিষয়টি রহস্যজনক বলে মনে করেন সিআইডি কর্মকর্তারা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ থেকে অর্থ চুরির ঘটনায় আন্তর্জাতিক লেনদেন পদ্ধতি পরীক্ষার কাজে এসেছেন সুইফটের দুই প্রতিনিধি। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক শুভংকর সাহা কালের কণ্ঠকে গতকাল শনিবার বলেন, রিজার্ভের অর্থ কিভাবে সরানো হয়েছে বা এই অর্থ সরাতে সুইফট বার্তা কিভাবে ব্যবহার হয়েছে, সে বিষয়টিও তাঁরা খতিয়ে দেখছেন। তবে বেলজিয়াম থেকে ঢাকায় আসা দুই সুইফট প্রতিনিধির নাম-পরিচয় প্রকাশ করতে চাননি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র। ওই দুই প্রতিনিধি সফটওয়্যার প্রকৌশলী বলে শুধু জানান তিনি।

জানা গেছে, সুইফটের দুই বিশেষজ্ঞ এরই মধ্যে একাধিক সংস্থার সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

তাঁরা পরীক্ষা করেছেন বেশ কিছু আলামত। আরো দুই সপ্তাহ তাঁদের বাংলাদেশে অবস্থান করার কথা রয়েছে।

সিআইডি সূত্রে জানা যায়, রিজার্ভের অর্থ চুরির ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ অন্তত ৪৭ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট সিআইডি কর্মকর্তারা। বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্ভার রুমে কাজ করা ২২ জন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞের ওপর বিশেষভাবে নজরদারি চলছে। একই সঙ্গে সিআইডির তদন্ত টিম প্রতিদিনই বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ শাখায় অবস্থান করে কম্পিউটার, সিসি ক্যামেরাসহ গুরুত্বপূর্ণ আলামত জব্দ করছেন। বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছেন তদন্তকারীরা। আজ রবিবার এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার (এফবিআই) প্রতিনিধিদের সঙ্গে সিআইডির বৈঠক হতে পারে। ওই বৈঠকে তদন্তের সার্বিক বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে অর্থ চুরির ঘটনার ছায়া তদন্ত করছে র‌্যাব, এসবি ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিআইবি)। সিআইডির পাশাপাশি এরাও অনেক ত্রুটি-বিচ্যুতি পেয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো কোনো কর্মকর্তার চরম গাফিলতি ধরা পড়েছে। তদন্তের সার্বিক বিষয় প্রতিদিন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে অবহিত করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

মামলার তদারক কর্মকর্তা সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (অর্গানাইজড ক্রাইম) আব্দুল্লাহ হেল বাকি গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘তদন্তে এখন পর্যন্ত ব্যাংকের ভেতরে বিভিন্ন শাখায় স্থাপন করা ২০০ সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ জব্দ করা হয়েছে। ঘটনার সময় ব্যাংকের ফরেক্স রিজার্ভ শাখায় দুটি সিসি ক্যামেরা বন্ধ ছিল বলে তথ্য পাওয়া গেছে। রবিবার এফবিআই কর্মকর্তাদের সঙ্গে আমাদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। তবে এটা আনুষ্ঠানিক কোনো বৈঠক নয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে অর্থ লোপাটের বিষয়ের তদন্তসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে এফবিআই প্রতিনিধিরা আলোচনা করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তদন্তে ইন্টারপোলের সহযোগিতা নেওয়া হচ্ছে। টাকা চুরির ঘটনায় এরই মধ্যে বিদেশি অপরাধীদের তথ্য চেয়ে ইন্টারপোলের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। ’

আব্দুল্লাহ হেল বাকি বলেন, রিজার্ভ চুরির ঘটনাটি একটি ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম। স্পর্শকাতর এ ঘটনার সঙ্গে চারটি দেশের অপরাধীচক্রের জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। বাংলাদেশসহ ফিলিপাইন, হংকং ও শ্রীলঙ্কায় এ ঘটনার তদন্ত চলছে। তাদের সঙ্গে তদন্ত কমিটির নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। গতকাল পর্যন্ত নিউ ইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের সার্ভারের সঙ্গে যুক্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের কম্পিউটারের মধ্যে ৬০টির ডাটা ক্লোন করা হয়েছে। সিআইডির প্রযুক্তি বিষয়ে পারদর্শী ৩০ জন তদন্তে সম্পৃক্ত রয়েছেন।


মন্তব্য