kalerkantho


চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রী

নৌবাহিনীতে এ বছরই আসবে দুটি সাবমেরিন

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

২০ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



নৌবাহিনীতে এ বছরই আসবে দুটি সাবমেরিন

গতকাল চট্টগ্রাম নৌঘাঁটি ঈশাখাঁতে বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজের কমিশনিং অনুষ্ঠানে জাহাজ উদ্বোধন শেষে এর অভ্যন্তরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি : পিএমও

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘বিশ্বসভায় মাতৃভূমির মাথা উঁচু রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। বিশ্বের বুকে একটি শক্তিশালী ও গতিশীল অর্থনীতি হিসেবে জেগে ওঠার সব সহায়ক পরিবেশ ও ক্ষমতা আমাদের রয়েছে।

আমাদের লক্ষ্য ক্ষুুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত, শান্তিময়, উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা। ’ নৌবাহিনীর নৌবহরে নতুন তিনটি আধুনিক যুদ্ধজাহাজ সংযোজন উপলক্ষে গতকাল শনিবার চট্টগ্রামের নৌঘাঁটি ঈশা খাঁতে এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।

চলতি বছর নৌবাহিনীতে দুটি অত্যাধুনিক সাবমেরিন সংযোজিত হতে যাচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জ শিপইয়ার্ডে নিজস্ব প্রযুক্তিতে সাবমেরিন নির্মাণের প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হচ্ছে। আমাদের সরকার নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় দেশে যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। ভবিষ্যতে চট্টগ্রাম ড্রাই ডকে যুদ্ধজাহাজ তৈরির পরিকল্পনাও আছে। ’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদেও  সরকারের আমলে নৌবাহিনীতে মেরিটাইম হেলিকপ্টার এবং মেরিটাইম প্যাট্রল এয়ারক্রাফট সংযুক্ত হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশ নৌবাহিনী একটি দ্বিমাত্রিক নৌবাহিনীতে পরিণত হয়েছে। চলতি বছরে নৌবাহিনীতে সংযোজিত হতে যাচ্ছে বহু আকাঙ্ক্ষিত দুটি সাবমেরিন। এ অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে নৌবাহিনী এক ত্রিমাত্রিক বাহিনীতে রূপান্তরিত হতে চলেছে।

এরই ধারাবাহিকতায় নারায়ণগঞ্জ শিপইয়ার্ডে নিজস্ব প্রযুক্তিতে সাবমেরিনের জন্য প্ল্যাটফর্ম তৈরি হচ্ছে। এ ছাড়া আমাদের সরকার নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় দেশে যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। ভবিষ্যতে চট্টগ্রাম ড্রাই ডকে যুদ্ধজাহাজ তৈরির পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

 

জলসীমার স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নিরবচ্ছিন্ন দায়িত্ব পালনের জন্য চলতি বছর নৌবাহিনী স্বাধীনতা পদকের জন্য মনোনীত হওয়ায় তাদের অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি নৌবাহিনীকে সব ধরনের সহযোগিতা করে যাওয়ার অঙ্গীকারের কথাও জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ক্রমাগত সম্পদ আহরণের ফলে বিশ্বের স্থলভাগের সম্পদ আজ সীমিত। তাই সারা বিশ্বের নজর এখন সমুদ্রসম্পদের দিকে। বর্তমান সরকারও এ নীল অর্থনীতির (ব্লু ইকোনমি) মাধ্যমে সমুদ্রসম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিশ্বায়নের এ যুগে বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড জ্যামিতিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এ বাণিজ্য পরিবহনের প্রধান মাধ্যম হলো সমুদ্রপথ। আমাদের সরকারের উদ্যোগে আজ বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশের রয়েছে সুনির্দিষ্ট সামুদ্রিক এলাকা। দেশের এ বিশাল সমুদ্র এলাকায় বাণিজ্য পরিচালনা ছাড়াও আছে মত্স্য, খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, অন্যান্য খনিজ পদার্থসহ মূল্যবান সম্পদ। আমাদের জাতীয় অর্থনৈতিক জীবনে এ সম্পদের গুরুত্ব অপরিসীম। ভৌগোলিক অবস্থান এবং কৌশলগত কারণে বাংলাদেশের জলসীমা ও এর সম্পদ রক্ষায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ভূমিকা অনস্বীকার্য। ’

বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে সংযোজিত হওয়া তিনটি যুদ্ধজাহাজ হলো বানৌজা ‘সমুদ্র অভিযান’, বানৌজা ‘স্বাধীনতা’ ও ‘প্রত্যয়’। প্রধানমন্ত্রী নৌবাহিনীর তিনটি যুদ্ধজাহাজের কমিশনিংয়ের পর বানৌজা স্বাধীনতার অধিনায়ক কমোডর এম ফারুক হাসান, বানৌজা সমুদ্র অভিযানের অধিনায়ক ক্যাপ্টেন মো. ওয়াসিম মাকসুদ এবং বানৌজা প্রত্যয়ের অধিনায়ক ক্যাপ্টেন জিয়াউর রহমানের হাতে কমিশনিং ফরমান তুলে দেন।

এর আগে সকাল ১১টার দিকে প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামের নৌঘাঁটি ঈশা খাঁতে এসে পৌঁছলে তাঁকে স্বাগত জানান নৌবাহিনী প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল নিজাম উদ্দিন আহমেদ ও চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চলের কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল এম আখতার হাবীব।

এরপর প্রধানমন্ত্রীকে সশ্রদ্ধ অভিবাদন প্রদান করেন নৌবাহিনীর সদস্যরা। আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের পর প্রধানমন্ত্রী যুদ্ধজাহাজগুলো পরিদর্শন ও মহড়া প্রত্যক্ষ করেন।


মন্তব্য