kalerkantho

শনিবার । ২১ জানুয়ারি ২০১৭ । ৮ মাঘ ১৪২৩। ২২ রবিউস সানি ১৪৩৮।


ইংল্যান্ডের অবিশ্বাস্য কীর্তি

ক্রীড়া প্রতিবেদক   

১৯ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



ইংল্যান্ডের অবিশ্বাস্য কীর্তি

ওয়াংখেড়েতে টস জিতে বোলিং নিলেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক এউইন মরগান আর দক্ষিণ আফ্রিকা করল ৪ উইকেটে মাত্র (!) ২২৯ রান। মরগান হয়তো তখন ভাবছিলেন কী কুক্ষণেই না বোলিং নিলাম! ইংল্যান্ডের বোলারদের আরো একবার চোখ খোলা রেখেই দুঃস্বপ্ন দেখিয়ে টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর বিপক্ষে বিশ্ব টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ দলীয় ইনিংসের রেকর্ড যে গড়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। জো রুট-জেসন রয়দের বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ে ঘণ্টার ব্যবধানে কি না তা গুঁড়িয়ে গেল! রান তাড়া করার অবিশ্বাস্য কীর্তি গড়ে উচ্ছ্বাসে মেতে উঠল ইংলিশরা। প্রোটিয়াদের ২২৯ রানও মামুলি বানিয়ে ২ বল বাকি থাকতে ৮ উইকেট হারিয়ে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে গেছে এউইন মরগানের দল। বিশ্ব টি-টোয়েন্টিতে পরে ব্যাট করে এত রান করে জয়ের রেকর্ড নেই আর কোনো দলের। রান তাড়ায় টি-টোয়েন্টিরই এটা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্কোর করে জয়ের কীর্তি। এর আগে গত বছর জোহানেসবার্গে এই দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষেই ২৩১ রান তাড়া করে জিতেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ (২৩৬/৬)।   

ইংলিশদের রূপকথার এ জয়ের নায়ক জো রুট। ৪৪ বলে ৬টি চার ও ৪টি ছক্কায় তিনি খেলেছেন ৮৩ রানের টর্নেডো ইনিংস। আর পার্শ্বনায়কের একজন জেসন রয় অ্যালেক্স হেলসকে নিয়ে শুরুতে ব্যাট হাতে তাণ্ডব চালিয়ে গড়ে দিয়েছেন অসাধারণ এ জয়ের ভিত। মাত্র দুই ওভারেই এ দুজন তুলে নেন ৪৪ রান। ইংলিশরাও তাতে পেয়ে যান পাহাড় ডিঙানোর আত্মবিশ্বাস। তবে ভেঙে যায় প্রোটিয়া বোলারদের মনোবল। মাত্র ১৬ বলে ৫টি চার ও ৩ ছক্কায় ৪৩ রানের ক্যামিও জেসন রয়ের, হেলস ৭ বলে ৪টি চারে করেছেন ১৭ রান। এরপর রুট-বাটলারদের ব্যাটে ঝড়টা চলতে থাকলে বিশ্ব টি-টোয়েন্টিতে নিজেদের সর্বোচ্চ রানের কীর্তি গড়ে হেরে মাথা নিচু করে মাঠ ছাড়তে হয় ফাফ দু প্লেসিসের দলকে। আর অসাধারণ জয়ে সেমিফাইনালের স্বপ্ন ভালোভাবেই বাঁচিয়ে রাখল ইংলিশরা।

২০০৭ সালে কেনিয়ার বিপক্ষে শ্রীলঙ্কা করেছিল ৬ উইকেটে ২৬০ রান। ইংল্যান্ডের বিপক্ষেই দক্ষিণ আফ্রিকা ২০০৯ সালে করেছিল ৬ উইকেটে ২৪১ রান, সেটা অবশ্য দ্বিপক্ষীয় সিরিজের ম্যাচে। টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ সাতটি দলীয় ইনিংসের তিনটিই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে, যার শেষটা হলো কাল। আগের দুটিতে জেতেনি ইংল্যান্ড, কাল অবশ্য রান তাড়ার নতুন কীর্তি গড়েই বিজয় উৎসব করেছে তারা। এবি ডি ভিলিয়ার্স মাত্র ৮ বলে ১৬ রান করার পরও প্রোটিয়াদের ইনিংসটা এত বড় হওয়ার পেছনে আসলে অবদান সবারই। কোনো ব্যাটসম্যানই খুব বেশিক্ষণ ক্রিজে থাকেননি, দ্রুত রান তুলে সুযোগ দিয়েছেন পরের জনকে। হাশিম আমলা টি-টোয়েন্টিতে কাটাচ্ছেন স্বপ্নিল সময়, কেপ টাউনে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আউট হওয়ার পর আউট হলেন কাল। মাঝের তিনটি ইনিংস যথাক্রমে ৬৯*, ৯৭* ও ৫৮। অর্থাৎ তাঁর দুইবার আউট হওয়ার মাঝখানে টি-টোয়েন্টির মতো অনিশ্চিত ঘরানার ক্রিকেটে আমলার মতো শুদ্ধবাদী ব্যাটসম্যানের রান ২১৬! কাল ৩১ বলে করেছেন ৫৮, ৭ বাউন্ডারির সঙ্গে দুই ছক্কায়। একই মাপে কুইন্টন ডি ককের ২৪ বলে ৫২, টি-টোয়েন্টিতে তাঁর প্রথম হাফ সেঞ্চুরি। জেপি দুমিনির অপরাজিত ২৮ বলে ৫৪ আর ডেভিড মিলারের ১২ বলে ২৮ রানেই প্রোটিয়াদের এই বিশাল সংগ্রহ। যাঁরা ব্যাট করতে নেমেছেন, সবারই স্ট্রাইক রেট ছিল ১০০-র ওপরে। এর চেয়েও বেশি নির্দয় ছিলেন রুট-জেসন রয়রা। রয়ের স্ট্রাইক রেট ২৬৮.৭৫, হেলসের ২৪২.৮৫, বাটলারেরও ১৫০.০০। আর ম্যাচসেরা রুটের স্ট্রাইক রেটটাও ঈর্ষণীয়—১৮৮.৬৩। এমন দিনে বোলারদের ‘ফিগার’টা যে মোটেও ‘জিরো ফিগার’ হবে না, সেটা সহজেই অনুমেয়। হাফ সেঞ্চুরি করেছেন কাগিসো রাবাদা। ২ উইকেট নিয়েছেন তিনি ৫০ রানের চড়া মূল্যে। অ্যাবট ৩ উইকেট নিয়েছেন ৪১ রানে। আর স্পিডস্টার স্টেইন ২ ওভারে দেন ৩৫ রান।


মন্তব্য