kalerkantho

নিজামীর মৃত্যু পরোয়ানা

এপ্রিলেই ফয়সালা?

এম বদি-উজ-জামান   

১৮ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



এপ্রিলেই ফয়সালা?

জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়েছে ১৫ মার্চ বিকেলে। এ রায়ের কপি হাতে পেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সেদিন রাতেই নিজামীর বিরুদ্ধে মৃত্যু পরোয়ানা জারি করেন। গাজীপুরের কাশিমপুর-২ কারাগারে পরদিন ১৬ মার্চ তাঁকে এ পরোয়ানা পড়ে শোনানো হয়েছে। এরপর নিজামী তাঁর আইনজীবীদের রিভিউ আবেদন দাখিল করতে বলেছেন।

আইন অনুযায়ী নিজামী ১৫ দিন সময় পাবেন রিভিউ আবেদন করার। সে হিসাবে ৩১ মার্চের মধ্যে তাঁকে রিভিউ আবেদন দাখিল করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিভিউ আবেদন দাখিল করা হলে এর ওপর শুনানি হবে। তবে কবে শুনানি এবং আবেদন নিষ্পত্তি হবে তা নির্ভর করছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত আপিল বিভাগের ওপর। আর এর পরই রায় কার্যকর করার প্রশ্ন উঠবে। রিভিউ আবেদন খারিজ হলে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করার সুযোগ থাকবে। আর রিভিউ আবেদনে সাজার হেরফের হলে সে ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে সরকার। আর এসব আইনি প্রক্রিয়া এপ্রিলেই শেষ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে সব কিছু নির্ভর করছে আদালত ও সরকারের ওপর। কারণ আদালতের সিদ্ধান্ত কার্যকর করবে সরকার। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে সরকারকে সে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এর আগে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরী, জামায়াতের দুই সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামান ও আবদুল কাদের মোল্লার রায় পর্যালোচনা করে এ ধারণা মিলেছে। এ চারজনের রিভিউ আবেদন খারিজ হওয়ায় নিজামীর রিভিউ আবেদন গ্রহণ হওয়ার আশা ক্ষীণ। কারণ শুধু বুদ্ধিজীবী হত্যার দায়ে মুজাহিদের ফাঁসি কার্যকর হয়েছে। নিজামীর বিরুদ্ধেও বুদ্ধিজীবী হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডের সাজা বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ।

প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, সাবেক দুই মন্ত্রী সাকা চৌধুরী ও মুজাহিদের রিভিউ আবেদন দাখিল হওয়ার এক মাস এক সপ্তাহ পর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। কামারুজ্জামানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে রিভিউ আবেদন দাখিলের এক মাস ছয় দিন পর। এসব দণ্ড কার্যকর করার ক্ষেত্রে রিভিউ আবেদন দাখিল হওয়া, আপিল বিভাগে শুনানির পর তা নিষ্পত্তি হওয়া, রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করার জন্য সময় দেওয়াসহ সব মিলিয়ে সর্বোচ্চ এক মাস এক সপ্তাহ সময় লেগেছে। নিজামীর ক্ষেত্রেও এ রকম সময় লাগতে পারে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

২০১৪ সালের ২৯ অক্টোবর ট্রাইব্যুনাল-১ রায়ে নিজামীকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করেন। একাত্তরে বুদ্ধিজীবী হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াতে ইসলামীর সর্বোচ্চ নেতা মতিউর রহমান নিজামীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এ রায়ের পর ওই বছরের ২৩ নভেম্বর আপিল করেন নিজামী। এ আপিলের ওপর শুনানি শেষে গত ৬ জানুয়ারি ফাঁসির রায় বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। এর পূর্ণাঙ্গ রায় ১৫ মার্চ প্রকাশিত হয়।


মন্তব্য