kalerkantho


মৃত্যু পরোয়ানা শুনেই অসুস্থ নিজামী

রিভিউয়ের সিদ্ধান্ত

ওমর ফারুক, ঢাকা ও শরীফ আহমেদ শামীম, গাজীপুর   

১৭ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



মৃত্যু পরোয়ানা শুনেই অসুস্থ নিজামী

মৃত্যুদণ্ড হওয়ার পর থেকে কারাগারে বেশ শক্ত মনোবল নিয়েই ছিলেন জামায়াত নেতা মতিউর রহমান নিজামী। কিন্তু গতকাল বুধবার কাশিমপুর কারাগারে তাঁকে প্রথমবারের মতো ভেঙে পড়তে দেখেছেন কারা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। মৃত্যু পরোয়ানা পড়ে শোনানোর সময় তাঁর রক্তচাপ বেড়ে যায়। পরে কারা চিকিৎসক তাঁর চিকিৎসা দেন।

অন্যদিকে গতকাল দুপুরে নিজামীর ছেলে ও আইনজীবী তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তাঁরা কারাগার থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, নিজামী রিভিউ আবেদন করবেন।

কারা সূত্র জানায়, অন্যান্য দিনের মতোই মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫টায় লকআপ করা হয় কাশিমপুর-২ কারাগার। মতিউর রহমান নিজামীর সেলেও লকআপ করা হয়। ওই সময় তাঁর মৃত্যুদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ পায় সুপ্রিম কোর্টের অপিল বিভাগ থেকে। রাত ১০টার দিকে সেই কপি ট্রাইব্যুনাল থেকে পৌঁছে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে। সেখানকার সিনিয়র জেল সুপার জাহাঙ্গীর কবির কপি গ্রহণ করেন। লকআপ হয়ে যাওয়ার কারণে ওই রাতে মৃত্যু পরোয়ানা পড়ে শোনানোর সুযোগ ছিল না বলে গতকাল বুধবার সেটি পাঠানো হয় কাশিমপুর কারাগারে। গতকাল সকাল ১০টার দিকে নিজামীকে মৃত্যু পরোয়ানা পড়ে শোনানো হয় বলে জানিয়েছেন কাশিমপুর-২ কারাগারের জেল সুপার প্রশান্ত কুমার বণিক।

কারা সূত্র জানায়, সকাল ১০টার দিকে লাল খামে মোড়ানো মৃত্যু পরোয়ানা নিয়ে সেখানে যান কারা কর্মকর্তারা। এ সময় নিজামী সেলে বসে ছিলেন। কর্মকর্তাদের দেখে সেল থেকে বেরিয়ে আসেন তিনি। তাঁকে জানানো হয় তাঁর মৃত্যুদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়েছে। এরপর তাঁর মৃত্যু পরোয়ানা পড়ে শোনানো হয়। তাঁকে জানানো হয়, পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ হিসেবে তিনি রিভিউ করতে পারবেন। এ জন্য তিনি ১৫ দিন সময় পাবেন। সঙ্গে সঙ্গে নিজামী রিভিউ করবেন বলে কারা কর্মকর্তাদের জানান।

কারা সূত্র জানায়, মৃত্যু পরোয়ানা শোনার পরপরই নিজামী বলেন, তাঁর শরীর খুব খারাপ লাগছে। রক্তচাপ বেড়ে গেছে বলে মনে হচ্ছে। পরে কারা চিকিৎসক পরীক্ষা করে দেখেন, তাঁর রক্তচাপ আগের চেয়ে অনেক বেড়ে গেছে। পরে তাঁকে উচ্চ রক্তচাপের বাড়তি ওষুধ দেওয়া হয়।

এক কারা কর্মকর্তা জানান, নিজামীকে এত দিন কারাগারে শক্ত মনোবল নিয়ে থাকতে দেখা গেছে। আজ (বুধবার) তাঁকে ভেঙে পড়তে দেখা যায়।

কারা সূত্র জানায়, নিজামীর সেলে একটি রেডিও রয়েছে, যা দিয়ে তিনি সংবাদ শুনতে পারেন। তবে তিনি মঙ্গলবার রাতে রেডিওতে সংবাদ শোনেননি বলেই মনে হয়েছে কারা কর্মকর্তাদের কাছে।

আইনজীবীর সাক্ষাৎ : গতকাল দুপুরে নিজামীর ছেলে ব্যারিস্টার নাজিব মোমেন এবং আইনজীবী মতিউর রহমান আকন্দের নেতৃত্বে কয়েকজন আইনজীবী নিজামীর সঙ্গে দেখা করতে কারাগারে যান। কারা কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে দুপুর দেড়টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত তাঁরা নিজামীর সঙ্গে কথা বলেন। সাক্ষাৎ শেষে নিজামীর আইনজীবী সাংবাদিকদের বলেন, ‘পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের ১৫ দিনের মধ্যে রিভিউয়ের নিয়ম রয়েছে। তাই তিনি রিভিউ করবেন কি না জানতে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করি। তিনি (নিজামী) স্পষ্ট করে বলেছেন, সম্পূর্ণ মিথ্যা ও অসত্য তথ্যের ভিত্তিতে এই রায় দেওয়া হয়েছে। তাই রায়ের বিরুদ্ধে তিনি অবশ্যই রিভিউ করবেন। আমাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। নিজামীর বয়স ৭৫ বছর। শারীরিকভাবে একটু দুর্বল হলেও মানসিকভাবে তিনি অত্যন্ত দৃঢ় ও শক্ত আছেন। ’ রিভিউতে ন্যায়বিচার পেয়ে নিজামী খালাস পাবেন বলে দাবি করেন তিনি।

রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদনেরও সুযোগ : পরবর্তী কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে চাইলে কাশিমপুর-২ কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার প্রশান্ত কুমার বণিক কালের কণ্ঠকে জানান, আইনানুযায়ী রিভিউয়ের জন্য নিজামী ১৫ দিন সময় পাবেন। যদি তিনি রিভিউ করেন তাহলে সেটা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাঁর ফাঁসি কার্যকর হবে না। আর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যদি তিনি রিভিউ না করেন, তাহলে সর্বশেষ সুযোগ হিসেবে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করতে পারবেন। রাষ্ট্রপতি যদি তাঁর আবেদন নাকচ করেন তাহলে ফাঁসি কার্যকর করা হবে। ’


মন্তব্য