kalerkantho


হজ ব্যবস্থাপনার নতুন নিয়মে ভোগান্তির শঙ্কা

মোশতাক আহমদ   

১৭ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



হজ ব্যবস্থাপনার নতুন নিয়মে ভোগান্তির শঙ্কা

হজ ব্যবস্থাপনার নতুন নিয়মের কারণে এবার হজে যেতে ইচ্ছুক অনেকে ভোগান্তিতে পড়বেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এবার সরকারিভাবে হজে যেতে চাইলে ৩০ হাজার এবং বেসরকারিভাবে হজে যেতে চাইলে ৩০ হাজার ৭৫২ টাকা জমা দিয়ে অনলাইনে প্রাক-নিবন্ধন করতে হবে।

প্রাক-নিবন্ধনের সময় জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্য দিতে হবে। কিন্তু এনআইডিতে কোনো ভুল কিংবা অসংগতি থাকলে নিবন্ধন করা যাবে না।

এ অবস্থাতেই আগামী ২০ মার্চ থেকে হজযাত্রীদের জন্য প্রাক-নিবন্ধনের তারিখ নির্ধারণ করেছে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়। এ ঘোষণার পর হজে যেতে ইচ্ছুক ব্যক্তিরা, বিশেষ করে যাঁদের এনআইডিতে ভুল বা অসংগতি রয়েছে, তাঁরা নানা আশঙ্কায় ভুগছেন। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, একজন নাগরিকের জন্য তার পাসপোর্টের তথ্যই তো যথেষ্ট, সেখানে কেন এনআইডির তথ্য দিতে হবে? আর এখনো অনেকের এনআইডির তথ্যে নানা অসংগতি রয়েছে। সে ক্ষেত্রে অনেকেই ভোগান্তির শিকার হবে।

সম্প্রতি ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দেওয়া নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রাক-নিবন্ধনের ক্ষেত্রে ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে সব ব্যক্তির জন্য এনআইডির তথ্য দেওয়া বাধ্যতামূলক। সরকারিভাবে হজে যেতে ইচ্ছুক ব্যক্তিরা দেশের যেকোনো ইউনিয়ন তথ্যকেন্দ্র, জেলা ইসলামিক ফাউন্ডেশন বা জেলা প্রশাসন কার্যালয় থেকে নিবন্ধন করতে পারবেন। বেসরকারিভাবে হজে যেতে ইচ্ছুক ব্যক্তিরা শুধু হজ এজেন্সিগুলোর মাধ্যমেই নিবন্ধন করতে পারবেন।

প্রসঙ্গত, এবার সরকারিভাবে হজে যেতে পারবেন ১০ হাজার জন, বেসরকারিভাবে যেতে পারবেন ৯১ হাজার ৭৫৮ জন।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এনআইডিতে অনেকের জন্য নিবন্ধনের আগে তাৎক্ষণিকভাবে এনআইডি সংশোধনেরও কোনো সুযোগ বা ব্যবস্থা রাখা হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সৌদি সরকার এ বছর শতভাগ ই-হজ ব্যবস্থা চালু করেছে। বাংলাদেশ সরকারও তার সাথে তাল মিলিয়ে নিজেদের প্রস্তুতি নিচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, অতীতে বাংলাদেশের নাগরিক না হয়েও (যেমন রোহিঙ্গা) অনেকে বাংলাদেশি পাসপোর্ট ব্যবহার করে হজে গেছে। তাদের মধ্যে অনেকে আর ফিরেও আসেনি। এতে বাংলাদেশ থেকে মানবপাচারের অভিযোগ ওঠে। জালিয়াতি ঠেকাতেই নতুন নিয়ম চালু করা হয়েছে। যাতে বাংলাদেশ থেকে হজের নাম করে কেউ প্রতারণা না করতে পারে। সে জন্যই এনআইডিকে প্রধান্য দিয়ে প্রাক-নিবন্ধনের কাজটি সারতে চাচ্ছে সরকার।

তবে জনা গেছে, হজে যেতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের এনআইডিতে কোনো ভুল ধরা পড়লে তাৎক্ষণিক তা সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এ অবস্থায় নতুন নিয়মে হজযাত্রীদের প্রাক-নিবন্ধনের আগে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়কে তিনটি বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছে হাব (হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ)। তারা লিখিত প্রস্তাবে বলেছে, অনেকেই তাদের এনআইডির ভুল সংশোধনের অপেক্ষায় রয়েছে। এ অবস্থায় কেউ এনআইডির জন্য প্রাক-নিবন্ধন করতে না পারলে সরকারি এ উদ্যোগ নিয়ে অনিশ্চয়তা ও জটিলতার সৃষ্টি হবে। যাদের এনআইডিতে ভুল রয়েছে তাদেরও নিবন্ধনের সুযোগ দিতে হাব বলছে, তাদের ক্ষেত্রে এবারের জন্য জন্ম সনদ দিয়ে নিবন্ধনের সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। কিংবা যাদের পাসপোর্ট আছে তাদের জন্য শুধু পাসপোর্টের তথ্যকেই প্রাধান্য দিয়ে নিবন্ধনের সুযোগ দেওয়া যেতে পারে অথবা এনআইডি প্রদানকারী কর্তৃপক্ষের অফিসে হজযাত্রীদের জন্য বিশেষ শাখা খোলা যেতে পারে, যাতে হজযাত্রীরা তাৎক্ষণিক তাঁদের এনআইডির ভুল সংশোধন করতে পারেন।

সম্প্রতি ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে, বেসরকারিভাবে হজে যেতে চাইলে প্রথমে ৩০ হাজার ৭৫২ টাকা জমা দিয়ে প্রাক-নিবন্ধন করতে হবে। এ জন্য নির্ভুল এনআইডি থাকতে হবে। প্রাক-নিবন্ধনের পর একটি নিবন্ধন নম্বর দেওয়া হবে। এরপর হজের সর্বনিম্ন প্যাকেজ তিন লাখ চার হাজার ৯০৩ টাকার মধ্যে বাকি টাকা জমা দিলে একটি আইডি নম্বর দেওয়া হবে। এই নম্বর ব্যবহার করে ব্যাংকের ছাড়পত্র আনার পর হজের ভিসার জন্য প্রিলগ্রিম আইডি নম্বর দেওয়া হবে। পিলগ্রিম আইড পেলে হজের জন্য ভিসা দেওয়া হবে। এসব ধাপের কোনো একটিতে বিচ্যুতি ঘটলে হজে যাওয়া যাবে না। এ ছাড়া হজযাত্রীদের প্রতিটি ফ্লাইটে সাড়ে ৪০০ হজযাত্রীর সাথে মাত্র তিনজন করে মোয়াল্লেম (হজের প্রশিক্ষক) যেতে পারবেন। তার মানে ১৫০ জন হজযাত্রীর জন্য মোয়াল্লেম থাকবেন একজন।

এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বেসরকারি এজেন্সির হজযাত্রীরা তো একসঙ্গে এক বিমানে যেতে পারেন না। দেখা যায়, একটি এজেন্সির হজযাত্রীরা ভাগ হয়ে একেক বিমানে সৌদি আরব যান। এ ক্ষেত্রে মোয়াল্লেমের সঙ্গে হজযাত্রীদের ভালো জানাশোনা না থাকলে দেড় শ জনের পক্ষে মোয়াল্লেমের দিকনির্দেশনা মেনে চলাও কঠিন হবে।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব আব্দুল জলিল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সৌদি কর্তৃপক্ষ হজ ব্যবস্থাপনায় ই-হজ সিস্টেম চালু করেছে। আমরাও এর সঙ্গে সমন্বয় করে আমাদের হজ ব্যবস্থাপনাকে ডিজিটাল করেছি। আমাদের হজ ব্যবস্থাপনার স্বার্থে প্রাক-নিবন্ধন করতে হচ্ছে। ’ এনআইডির আলোকে নিবন্ধন করতে ভোগান্তির আশঙ্কার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের সিস্টেম বদল হবে না, তবে এ বিষয়ে আমরা ধর্ম মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এনআইডি প্রদানকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছি। ’ তবে এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাতে পারেননি।

জানতে চাইলে হাব সভাপতি ইব্রাহিম বাহার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এনআইডির তথ্যে ভুল থাকলে প্রাক-নিবন্ধন করা যাবে না—এটা বড় ধরনের সমস্যা। এ বিষয়ে আমরা মন্ত্রণালয়কে তিনটি বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছি। আশা করি, মন্ত্রণালয় সব কিছু বিবেচনা করে ব্যবস্থা নেবে। ’


মন্তব্য