kalerkantho


প্রতিটি জেলায় মেডিক্যাল কলেজ হবে : প্রধানমন্ত্রী

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৭ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



প্রতিটি জেলায় মেডিক্যাল কলেজ হবে : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে চোখের চিকিৎসায় অবদানের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. দ্বীন মোহাম্মদ হককে আলীম মেমোরিয়াল গোল্ড মেডেল পরিয়ে দেন। ছবি : পিআইডি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, নতুন চিকিৎসক তৈরির মাধ্যমে উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সিলেটে একটি পৃথক মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় এবং দেশের প্রতিটি জেলায় একটি করে মেডিক্যাল কলেজ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। আর তৃণমূল পর্যন্ত সবার চক্ষুসেবা নিশ্চিত করতে উপজেলা হাসপাতালেও চক্ষু বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দেওয়া হবে। গতকাল সকালে রাজধানীর ফার্মগেট কৃষিবিদ মিলনায়তনে বাংলাদেশ চক্ষু চিকিৎসক সমিতির ৪৩তম বার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে পূর্ণাঙ্গ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অনেকেই মনে করেন চট্টগ্রাম ও রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজই বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হবে। কিন্তু আমরা তা করছি না এবং করবও না। বিশ্ববিদ্যালয় দুটি সম্পূর্ণ পৃথক ও পূর্ণাঙ্গ প্রতিষ্ঠান হবে, যেখানে শিক্ষার্থীরা স্নাতকোত্তর শিক্ষা লাভ করবে ও গবেষণার সুযোগ পাবে। স্নাতকোত্তর পর্যায়ের নিচের শিক্ষার্থীরা মেডিক্যাল কলেজে পড়াশোনা করতে পারবে। ’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিভিন্ন বিভাগ ও জেলা পর্যায়ের মেডিক্যাল কলেজগুলো এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ যেমন বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত, একইভাবে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ এবং রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজও যথাক্রমে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় এবং রাজশাহী মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হবে।

বাংলাদেশ চক্ষু চিকিৎসক সমিতির সভাপতি ডা. শরফুদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক, বিশিষ্ট চক্ষু বিশেষজ্ঞ ও সাবেক উপদেষ্টা ডা. সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন। এতে স্বাগত বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. দীন মোহাম্মদ নুরুল হক।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশিষ্ট চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. দীন মোহাম্মদ নুরুল হককে তাঁর পেশাগত দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে শহীদ ডা. আলিম চৌধুরী স্বর্ণপদকে ভূষিত করেন।

মন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও চিকিৎসক সমাজের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণের দোরগোড়ায় উন্নত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য। এ জন্য সিলেটে একটি মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হবে এবং জনসংখ্যার বিবেচনায় প্রতি জেলায় একটি করে মেডিক্যাল কলেজ স্থাপনের চিন্তাভাবনাও রয়েছে। ’

রাজধানীর বাইরে মেডিক্যাল কলেজ পরিচালনায় শিক্ষক সংকটের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, চিকিৎসকরা ঢাকার বাইরে যেতে চান না। এই সমস্যা সমাধানে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। চিকিৎসা পেশাকে মহৎ পেশা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আপনারা যাঁরা চক্ষু চিকিৎসক বা চক্ষু বিশেষজ্ঞ আছেন, দেশের মানুষ যেন আলোকিত ভবিষ্যৎ পায় সে লক্ষ্যে কাজ করবেন। ’ তৃণমূল পর্যন্ত সবার চক্ষুসেবা নিশ্চিত করতে তাঁর সরকারের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা উপজেলা হাসপাতালেও চক্ষু বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দেব। ’

নার্স সংকটের সমাধানে এ পেশার উন্নয়নে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা প্রদানের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নার্সিং একটি সম্মানজনক পেশা—এটা মানুষকে বোঝাতে হবে। তিনি বিজ্ঞান, কলা ও বাণিজ্য অনুষদের শিক্ষার্থীদেরও নার্সিং কোর্সে যোগ দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার পরামর্শ দেন।

প্রধানমন্ত্রী বর্তমান প্রজন্মকে অত্যন্ত মেধাবী হিসেবে অভিহিত করে বলেন, নবম শ্রেণির পাঠ্যসূচিতে সায়েন্স ও আর্টসের সঙ্গে নার্সিং কোর্স অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। এতে শিক্ষার্থীরা সহজেই নার্সিং সম্পর্কে জানতে ও শিখতে পারবে। সূত্র : বাসস।


মন্তব্য