kalerkantho


বড় হারে শুরু মেয়েদের

ক্রীড়া প্রতিবেদক   

১৬ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



বড় হারে শুরু মেয়েদের

অনেক দিন থেকেই বল হাতে দলের জন্য কিছু না কিছু তিনি করে আসছেনই। রুমানা আহমেদের বোলিংয়ে সেটিরই পুনরাবৃত্তি আশা করেছিলেন জাহানারা আলম।

বিশ্ব টি-টোয়েন্টিতে ভারতের বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের অধিনায়কের আশা পূরণও করেছেন তাঁর বোলিং আক্রমণের অন্যতম সেরা অস্ত্র। কিন্তু এ লেগস্পিনার যতক্ষণে উইকেট তুলে নিতে শুরু করেছেন, ততক্ষণে বড্ড দেরি হয়ে গেছে। এর আগেই ভারতের অবাধ রানপ্রবাহকে রানের ফোয়ারায় রূপ দিয়ে ফেলেছেন অধিনায়ক মিতালি রাজ ও হারমানপ্রিত কাউর।

ওয়ানডেতে পাঁচটি সেঞ্চুরির মালিক মিতালির টি-টোয়েন্টিতে আটটি ফিফটিও আছে। ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ততম সংস্করণে দুটো ফিফটি করা হারমানপ্রিতেরও সমানসংখ্যক ওয়ানডে সেঞ্চুরি। বেঙ্গালুরুর চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে বিশ্ব টি-টোয়েন্টিতে নারীদের উদ্বোধনী ম্যাচে এঁদের দুজনের না কেউ সেঞ্চুরি করলেন কিংবা না করলেন ফিফটিও। তবু টস হেরে ব্যাটিং পাওয়া ভারতের সংগ্রহকে এঁরাই বাংলাদেশের জন্য অনতিক্রম্য এক পাহাড় বানিয়ে দিলেন! আসলেই তাই। কারণ নিজেদের টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে আগে ব্যাট করে জাহানারাদের সর্বোচ্চই যেখানে ৯ উইকেটে ১১৫ রান, সেখানে ১৬৩ তাড়া করে জেতা তো প্রায় অসম্ভব ব্যাপারই। যদিও ম্যাচ শেষে ‘প্রায়’ শব্দটিও আর রইল না।

টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে ভারতের সর্বোচ্চ ১৬৩-র বিপরীতে জাহানারারা যে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে করতে পারলেন মোটে ৯১ রান। তাই ৭২ রানের বিশাল হার দিয়েই বিশ্বকাপ শুরু হলো তাঁদের।

শুরু হলো ব্যাটিংয়ে ন্যূনতম প্রতিরোধ গড়ে তুলতে না পারার ব্যর্থতা দিয়েও। সর্বোচ্চ অপরাজিত ২৭ রান নিগার সুলতানার ব্যাটে। ওপেনার শারমিন আক্তারের ২১ রান করতে ২৭ বল খেলে ফেলাও টি-টোয়েন্টি মেজাজের সঙ্গে একদমই যায় না। অবশ্য ভারতের ইনিংসে আবার এই ফরম্যাটের চাহিদা মেটানো ব্যাটিং করেছেন একাধিক ব্যাটার। মিতালি ও হারমানপ্রিতের পাশাপাশি ভেলাস্বামী ভানিথার কথাও না বললেই নয়। অধিনায়কের সঙ্গে ওপেন করতে নেমে ভারতীয় ইনিংসের শুরুর ছন্দটা তো ধরে দিয়েছিলেন তিনিও। তুলনায় মিতালির চেয়ে বেশিই বিধ্বংসী ছিলেন এ ওপেনার। ব্যাট হাতে এমন ঝড় তুলতে শুরু করেছিলেন যে মাত্র ৫.২ ওভারেই স্কোরবোর্ডে উঠে যায় ৫০! মাত্র ২৪ বলে সাত বাউন্ডারিতে ৩৮ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলে বাঁহাতি স্পিনার নাহিদা আক্তারের বলে ভানিথা বোল্ড হওয়ার আগে ৬২ রানের দুর্দান্ত সূচনাও পেয়ে গেছে ভারত। পরপরই আরেক লেগস্পিনার ফাহিমা খাতুনের বলে স্মৃতি মান্ধানার এলবিডাব্লিউয়ে বাংলাদেশের ম্যাচে ফেরার যে সম্ভাবনাটুকু জেগেছিল, সেটিই তিলে তিলে শেষ করে দেয় মিতালি ও হারমানপ্রিতের ব্যাট। ৩৫ বলে ৫ বাউন্ডারিতে ৪২ রানের ইনিংস খেলে মিতালি কাভারে জাহানারার ক্যাচ হয়েছেন রুমানার বলেই। তখন ইনিংসের ১৪ ওভারও শেষ হয়নি আর ভারতও শতরান পেরোনোর অপেক্ষায় আর উইকেটে ছিলেন হারমানপ্রিতও। তাঁকেও নাহিদার ক্যাচ বানিয়েছেন রুমানা; কিন্তু এর আগেই তিন বাউন্ডারি ও দুই ছক্কায় ২৯ বলে ৪০ রানের আরেকটি ঝড়ে ভারতকে জাহানারাদের ধরাছোঁয়ার বাইরে নিয়ে যান ম্যাচসেরা এ ভারতীয় ব্যাটার। আর তাঁর এ ঝোড়ো ব্যাটিংয়ের ঝাপটা রুমানার ওপর দিয়েও তো কম যায়নি। যায়নি বলেই ৪ ওভারের কোটায় দলের মধ্যে সবচেয়ে খরুচে তিনি, খরচা ৩৫ রান। সে কারণেই দিনের শেষে তাঁর মূল্যবান দুটো উইকেটও কেমন মূল্যহীন দেখাচ্ছে!

 


মন্তব্য