kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৪ জানুয়ারি ২০১৭ । ১১ মাঘ ১৪২৩। ২৫ রবিউস সানি ১৪৩৮।


রিজার্ভের অর্থ চুরি

মতিঝিল থানায় মামলা, আসামি অজ্ঞাত

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৬ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



মতিঝিল থানায় মামলা, আসামি অজ্ঞাত

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউ ইয়র্ক থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের অর্থ চুরির ঘটনায় মামলা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে প্রতিষ্ঠানটির হিসাব ও বাজেট শাখার যুগ্ম পরিচালক জুবায়ের বিন হুদা বাদী হয়ে মতিঝিল থানায় মামলা করেন।

এতে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে।  

মতিঝিল থানার ওসি মোহাম্মদ ওমর ফারুক কালের কণ্ঠকে বলেন, দুপুর আড়াইটায় মামলা হয়েছে। মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২ (সংশোধনী ২০১৫)-এর ৪-সহ তথ্য ও প্রযুক্তি আইন ২০০৬-এর ৫৪ ধারায় ও বাংলাদেশ দণ্ডবিধি ৩৭৯ ধারায় মামলাটি গ্রহণ করা হয়। এজাহারে লোপাট হওয়া অর্থের পরিমাণ উল্লেখ করা হয়েছে ১০১ মিলিয়ন ডলার। মামলার তদন্ত করবে সিআইডি।  

পুলিশ জানায়, গতকাল সকাল থেকেই বাংলাদেশ ব্যাংকের মামলার প্রস্তুতি নেওয়া ছিল। দুপুরে জুবায়ের বিন হুদাসহ বাংলাদেশ ব্যাংকের আরো কয়েকজন কর্মকর্তা থানায় আসেন। আড়াইটায় মামলাটি থানায় এজাহারভুক্ত করা হয়। চার পৃষ্ঠার এজাহারে অর্থ চুরির ঘটনার আদ্যোপান্ত তুলে ধরেন মামলার বাদী।   সিআইডির এস এস মির্জা আবদুল্লাহ হেল বাকি বলেন, মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছে সিআইডি।   

পুলিশ সূত্র জানায়, গত ৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের সিস্টেম থেকে অর্থ স্থানান্তরের যে সংকেতলিপি (সুইফট কোড) ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউ ইয়র্কের কাছে পাঠানো হয়েছিল, তা ছিল বাংলাদেশ ব্যাংকেরই কোড। ওই কোড ব্যবহার করেই ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার স্থানান্তর করা হয় ফিলিপাইনে। ধারণা করা হচ্ছে, দেশের অভ্যন্তরের কোনো একটি চক্রের সহায়তায় হ্যাকার গ্রুপ বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের অর্থ চুরি করেছে। এ ঘটনার সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারাও জড়িত থাকতে পারেন বলে মনে করছে চুরির ঘটনা তদন্তকারী সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো। রিজার্ভ চুরির সঙ্গে জড়িত সন্দেহে বাংলাদেশ ব্যাংকের অন্তত আট সন্দেহভাজন কর্মকর্তার ওপর নজরদারি চলছে। তাঁরা যাতে দেশ ছাড়তে না পারেন সে জন্য তাঁদের ছবিসহ বিস্তারিত তথ্য সব স্থল ও বিমানবন্দরে পাঠানো হয়েছে। ইতিমধ্যে কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদও করেছে গোয়েন্দারা।

গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কর্মকর্তারা বলছেন, রিজার্ভ চুরির সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করতে কাজ করছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। ইতিমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের আইটি কনসালট্যান্ট হিসেবে নিয়োগ পাওয়া রাকেশ আস্তানার সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ বৈঠক করেছেন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর আইটি বিশেষজ্ঞরা।  

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান গতকাল বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনার শুরু থেকে ছায়া তদন্ত করছে র‌্যাব।


মন্তব্য