kalerkantho


ফজলে কবির নতুন গভর্নর

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৬ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



ফজলে কবির নতুন গভর্নর

ড. আতিউরের পদত্যাগের পর বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর (১১তম) হচ্ছেন অর্থ বিভাগের সাবেক সিনিয়র সচিব ফজলে কবির। গতকাল মঙ্গলবার সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবুল মুহিত।

অর্থমন্ত্রী এ সময় আরো জানান, ফজলে কবির বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন। আগামী ১৮ মার্চ তিনি দেশে ফিরে এসে গভর্নরের দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন। গভর্নর হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার ঘোষণার আগ পর্যন্ত ফজলে কবির সোনালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।  

জানা গেছে, ফজলে কবির ১৯৮০ সালে বাংলাদেশ রেলওয়ের সহকারী ট্রাফিক সুপারিনটেনডেন্ট হিসেবে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস ক্যাডারে যোগদানের মধ্য দিয়ে পেশাগত জীবন শুরু করেন। পরে ১৯৮৩ সালে তিনি প্রশাসন সার্ভিসে যোগ দেন। ৩৪ বছরের দীর্ঘ চাকরি জীবনে ফজলে কবির বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদ ও মাঠপর্যায়ের প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করেন।

এ ছাড়া ফজলে কবির শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। জাতীয় পরিকল্পনা এবং উন্নয়ন একাডেমি ও বিসিএস প্রশাসন একাডেমিতে তিনি মহাপরিচালক হিসেবে কাজ করেন। ২০১২ সালে অর্থসচিব হিসেবে যোগদানের আগে তিনি রেলওয়ে মন্ত্রণালয়ের সচিবের দায়িত্ব পালন করেন।

ফজলে কবির ২০০৮ সালে জাতিসংঘের ফিন্যান্স এবং বাজেট কমিটি সেশনে বাংলাদেশ ডেলিগেশনের নেতৃত্ব দেন। তিনি মুন্সীগঞ্জ জেলার এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দশম গভর্নর ড. আতিউর রহমান ২০০৯ সালের ১ মে চার বছরের জন্য বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হাল ধরেন। ২০১৩ সালের এপ্রিলে মেয়াদ শেষ হলে আরো তিন বছর তিন মাস মেয়াদ বাড়িয়ে ২০১৬ সালের ২ আগস্ট পর্যন্ত (৬৫ বছর বয়স পর্যন্ত) তাঁকে গভর্নরের পদে বহাল রাখা হয়। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে অর্থ চুরির ঘটনায় ব্যর্থতার দায় কাঁধে নিয়ে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পদত্যাগ করতে বাধ্য হন তিনি।

ড. আতিউরের আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ছিলেন ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি ২০০৫ সালের ১ মে থেকে ২০০৯ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সালেহউদ্দিনের আগে গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ড. ফখরুদ্দীন আহমদ। তিনি ২০০১ সালের ২৯ নভেম্বর থেকে ২০০৫ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত গভর্নরের দায়িত্ব পালন করেন। ফখরুদ্দীনের আগে গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন। তিনি ১৯৯৮ সালের ২৪ নভেম্বর থেকে ২০০১ সালের ২২ নভেম্বর পর্যন্ত গভর্নরের দায়িত্ব পালন করেন।

ফরাসউদ্দিনের আগের গভর্নর ছিলেন লুৎফর রহমান সরকার। তিনি ১৯৯৬ সালের ২১ নভেম্বর থেকে ১৯৯৮ সালের ২১ নভেম্বর পর্যন্ত গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। লুৎফর রহমানের আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন খোরশেদ আলম। তিনি ১৯৯২ সালের ২০ ডিসেম্বর থেকে ১৯৯৬ সালের ২১ নভেম্বর পর্যন্ত গভর্নরের দায়িত্ব পালন করেন।

খোরশেদ আলমের আগে গভর্নর ছিলেন শেগুফতা বখত চৌধুরী। তিনি ১৯৮৭ সালের ১২ এপ্রিল থেকে ১৯৯২ সালের ১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর আগে মো. নুরুল ইসলাম ১৯৭৬ সালের ১৩ জুলাই থেকে ১৯৮৭ সালের ১২ এপ্রিল পর্যন্ত গভর্নরের দায়িত্ব পালন করেন। নুরুল ইসলামের আগে গভর্নর ছিলেন এ কে এন আহমেদ। তিনি দায়িত্বে ছিলেন ১৯৭৪ সালের ১৯ নভেম্বর থেকে ১৯৭৬ সালের ১৩ জুলাই পর্যন্ত। এর আগের গভর্নর ছিলেন এ এন এম হামিদুল্লাহ। তিনি ১৯৭২ সালের ১৮ জানুয়ারি থেকে ১৯৭৪ সালের ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। হামিদুল্লাহ ছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশ প্রথম কেন্দ্রীয় ব্যাংক গভর্নর।

আবারও গভর্নর বিক্রমপুরের এগারজন গভর্নরের মধ্যে তিনজন গভর্নরই মুন্সীগঞ্জ বা বিক্রমপুরের। বাংলাদেশের প্রথম গভর্নর ছিলেন বিক্রমপুরের শ্রীনগর উপজেলার শমষপুর গ্রামের এ এন এম হামিদুল্লাহ। আরেক গভর্নর ডক্টর ফখরুদ্দীন আহমদের বাড়ি টঙ্গিবাড়ীর হাসাইল গ্রামে।


মন্তব্য