kalerkantho

বুধবার । ১৮ জানুয়ারি ২০১৭ । ৫ মাঘ ১৪২৩। ১৯ রবিউস সানি ১৪৩৮।


আদালত অবমাননার রুল

খাদ্যমন্ত্রী নিঃশর্ত ক্ষমা চাইলেন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৫ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



খাদ্যমন্ত্রী নিঃশর্ত ক্ষমা চাইলেন

প্রধান বিচারপতির সমালোচনা করায় আদালত অবমাননার রুলের জবাবে খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম এমপি নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সময় চেয়ে দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আবেদন করেছেন। অন্যদিকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক এমপি রুলের জবাব দিতে আজ মঙ্গলবার  আদালতে হাজির হচ্ছেন।

খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম এমপি ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক এমপিকে গত ৮ মার্চ তলব করেন আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ। আজ (১৫ মার্চ) সকাল ৯টায় তাঁদের সশরীরে হাজির হতে বলা হয়। একই সঙ্গে তাঁদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করেন আপিল বিভাগ। রুলে কেন তাঁদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগে বিচার কার্যক্রম শুরু করা হবে না তার ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়।

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহার নেতৃত্বে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ এ আদেশ দিয়েছিলেন। বেঞ্চের অপর আট বিচারক হলেন বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা, বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি মো. ইমান আলী, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী, বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার, বিচারপতি মো. নিজামুল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ বজলুর রহমান। বর্তমানে আপিল বিভাগে প্রধান বিচারপতিসহ ৯ জন বিচারপতি রয়েছেন।

গত ৮ মার্চ দুই মন্ত্রীকে তলবের আদেশ দেওয়ার আগে আদালত বলেন, ‘সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত ও প্রচারিত সংবাদ আমাদের নজরে এসেছে। এতে দেশের সর্বোচ্চ আদালত নিয়ে কিছু অশোভন মন্তব্য করা হয়েছে। এতে সুপ্রিম কোর্টের বিচারকরা স্তম্ভিত, যা বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ বলে মনে করি। ’ প্রধান বিচারপতি বলেন, গত ৫ মার্চ (শনিবার) এক গোলটেবিল বৈঠকে দুই মন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি ও সুপ্রিম কোর্টের বিরুদ্ধে চরম অবমাননাকর বক্তব্য দিয়েছেন। এ মন্তব্য বিচার প্রশাসনের ওপর হস্তক্ষেপ। এর মাধ্যমে বিচার বিভাগের মর্যাদা, সম্মান ও ভাবমূর্তি, সুপ্রিম কোর্টের কর্তৃত্ব, প্রধান বিচারপতির কার্যালয়ের কর্তৃত্বকে খাটো করা হয়েছে।

গত ৫ মার্চ রাজধানীর বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল লিগ্যাল স্টাডিজ (বিলিয়া) মিলনায়তনে নির্মূল কমিটি আয়োজিত ‘একাত্তরে গণহত্যাকারীদের বিচারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র : সরকার, বিচার বিভাগ ও নাগরিক সমাজের করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক প্রধান বিচারপতির মন্তব্যের সমালোচনা করেন। তাঁরা প্রধান বিচারপতিকে বাদ দিয়ে মীর কাসেম আলীর মামলায় পুনরায় আপিল বিভাগে শুনানির দাবি জানান।

খাদ্যমন্ত্রী : আদালতের আদেশের পর খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম এমপি তাঁর কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি আদালতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আদালত যেভাবে নির্দেশ দেবেন আমি সেভাবেই চলব। একজন মন্ত্রী হিসেবে নয়, একজন মুক্তিযোদ্ধা ও বিচারপ্রার্থী হিসেবে ওটা আমার নিজস্ব বক্তব্য। সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে ওই বক্তব্য আমি দিইনি। ’ ওই দিন মীর কাসেম আলীকে ফাঁসির দণ্ড দেওয়া হয়। মন্ত্রী বলেন, ‘এ রায়ে আমি খুব খুশি। ’

খাদ্যমন্ত্রীর আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহাবুব সাংবাদিকদের জানান, অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলামের পক্ষে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে একটি আবেদন দাখিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি দেশের বাইরে থাকায় আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সময়ের আবেদন করা হয়েছে। আগামী ১৬ মার্চ তিনি দেশে ফিরবেন। এরপর একটি তারিখ নির্ধারণের জন্য তিনি আবেদন জানিয়েছেন বলে জানান।

আইনজীবী আরো জানান, আবেদনে বলা হয়েছে, খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তিনি আদালতের প্রতিও সম্পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল। আদালতের ভাবমূর্তি, মর্যাদা যাতে কোনোভাবে ক্ষুণ্ন না হয় সে বিষয়ে তিনি সচেষ্ট। ভবিষ্যতে আদালত অবমাননা হয় এমন কোনো মন্তব্য তিনি করবেন না।

আবেদনে বলা হয়েছে, খাদ্যমন্ত্রী বিশ্ব খাদ্য সংস্থার একটি সম্মেলনে যোগদানের উদ্দেশ্যে মালয়েশিয়ায় রয়েছেন। এরপর তিনি চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে যাবেন। দেশে ফেরার পর যেকোনো তারিখ নির্ধারণ করলে তিনি আদালতে হাজির হবেন।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী : গত ৮ মার্চ আদালতের রুল জারির পর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক এমপি তাঁর কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি আদালতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আদালত যে নির্দেশনা দিয়েছেন সে বিষয়ে আদালতে হাজির হয়ে আমার বক্তব্য পেশ করব। ’

আইনজীবীদের সূত্রে জানা গেছে, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আজ আদালতে হাজির হবেন।


মন্তব্য