kalerkantho


মূল লড়াই শুরু আজ

মুখোমুখি ভারত নিউজিল্যান্ড

রাহেনুর ইসলাম   

১৫ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



মুখোমুখি ভারত নিউজিল্যান্ড

বাংলাদেশ অংশ বাদ দিলে বিশ্ব টি-টোয়েন্টির শুরুটা পানসেই ছিল। বাছাই পর্ব শেষে ‘সুপার টেনের’ মোড়কে আসল বারুদ আজ থেকে।

নাগপুরে প্রথম ম্যাচেই নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি স্বাগতিক ভারত। ধোনিদের চ্যালেঞ্জ প্রথম স্বাগতিক হিসেবে বিশ্ব টি-টোয়েন্টির শিরোপা জেতার। আর ব্রেন্ডন ম্যাককালাম অবসর নেওয়ায় নতুন অধ্যায়ের শুরুটা স্মরণীয় করার হাতছানি নিউজিল্যান্ড দলের সামনে। সেই অভিযানে থাকছে ম্যাককালামেরই ‘ভয়ডরহীন ক্রিকেটে প্রথম বল থেকেই আক্রমণ’-এর মন্ত্র। ভারতও খেলবে মহেন্দ্র সিং ধোনির ‘অসম্ভব বলে কিছু নেই’ নীতিতে  বিশ্বাস রেখে। এ টুর্নামেন্ট শেষে অবসর নিতে পারেন বলে ধোনিকে শিরোপা উপহার দিতে মরিয়া তারা। নিশ্চিত থাকতে পারেন, প্রথম ম্যাচ থেকেই উত্তাপের পারদ চড়বে চড়চড়িয়ে।

কিন্তু ব্যাটে বিস্ফোরণ আর বলে আগুন ঝরানোর কাজ যাঁদের, তাঁদের প্রস্তুতিটা কেমন হচ্ছে? রস টেলর ব্যাট তুলে রেখে খেলছেন তাস! বিরাট কোহলি পড়ছেন অনুপ্রেরণামূলক আত্মজীবনী। কেউ কেউ করছেন মেডিটেশন।

ক্রিকেটীয় স্কিলের মতো খেলাটা মানসিক বলেই হয়তো ব্যাট-বলের পাশাপাশি এমন প্রস্তুতি। পুরো টুর্নামেন্টে স্থিতধী থাকার কথাই গতকালের সংবাদ সম্মেলনে জানিয়ে গেলেন ভারতের আশার প্রদীপ বিরাট কোহলি, ‘দেশের মাঠে খেলা, তাই শিরোপা জেতার চাপ থাকবেই। আমাদের শান্ত থাকতে হবে। আমরা ফেভারিট তবে এগোতে চাই ম্যাচ ধরে ধরে। এমন বড় একটা মঞ্চকে সুযোগ হিসেবে দেখছি। চাপ নিচ্ছি না মোটেও। ’

স্বাগতিকদের বিশ্ব টি-টোয়েন্টি শিরোপা জিততে না পারার বদনাম ঘোচানোর ভালো সুযোগ এবার ধোনিদের সামনে। সব শেষ খেলা ১১ টি-টোয়েন্টির ১০টি জিতেছে তারা। অস্ট্রেলিয়াকে তাদেরই মাটিতে হোয়াইটওয়াশের পর শ্রীলঙ্কার সঙ্গে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জয়। এরপর অপরাজিত থেকে দাপটের সঙ্গে এশিয়া কাপের শিরোপা জিতেছেন ধোনিরা। ছন্দে আছেন কোহলি, রোহিত, ধাওয়ান, নেহেরা, যুবরাজ, বুমরাহরা। তাই স্বপ্ন দেখছেন কোহলিও, ‘শেষ ১১ ম্যাচের ১০ জয়ে আত্মবিশ্বাসী পুরো দল। এ ধারাবাহিকতাটাই ধরে রাখতে হবে আমাদের। ’

নিউজিল্যান্ডের মনোভাবও ‘বিনা যুদ্ধে নাহি দেব সূচ্যগ্র মেদিনী’। কারণ ভারত যতই ছন্দে থাক, টি-টোয়েন্টিতে তারা কখনো হারাতে পারেনি কিউইদের। পাঁচ ম্যাচের চারটিই জিতেছে নিউজিল্যান্ড, পরিত্যক্ত হয়েছে অন্য ম্যাচটি। ম্যাককালাম অবসর নিয়েছেন ঠিকই; কিন্তু কেন উইলিয়ামসনের দল খেলছে তাঁরই শেখানো ‘প্রথম বল থেকে মারো’ দর্শনে। মার্টিন গাপটিল, কলিন মুনরো, কেন উইলিয়ামসন, লুক রঙ্কি, কোরে অ্যান্ডারসনরা বদলে দিতে পারেন যেকোনো সমীকরণ। ট্রেন্ট বোল্ট, টিম সাউদির মতো বোলার ভয়ংকর যেকোনো উইকেটে। প্রয়াত অধিনায়ক মার্টিন ক্রোর জন্যও শিরোপা জিততে মরিয়া তাঁরা। তাই কিউই অধিনায়ক উইলিয়ামসন প্রচ্ছন্ন হুমকি দিয়ে রাখলেন ভারতকে, ‘এ টুর্নামেন্টের অন্য দলগুলোর মতো আমরাও ভয়ংকর। আমরা ভাগ্যবান যে ম্যাককালামের মতো নেতা নেতৃত্ব দিয়েছে এই দলকে। ম্যাককালাম নেই; কিন্তু আমরা খেলব তাঁর শেখানো আক্রমণাত্মক ক্রিকেট। তাই যেকোনো কিছুই ঘটতে পারে। ’

যেকোনো কিছু যে ঘটতে পারে, এর প্রমাণ প্রস্তুতি ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ভারতের হেরে যাওয়ার মধ্যেও রয়েছে। কিউইদেরও প্রেরণা সেটা। ভারতের প্রেরণা নিশ্চয়ই দেশের মাটিতে ২০১১ ওয়ানডে বিশ্বকাপ জেতাটা। সেবার শচীন টেন্ডুলকারের জন্য বিশ্বকাপ জিততে মুখিয়ে ছিল ভারত। সেই টেন্ডুলকার টি-টোয়েন্টির সুপার টেন শুরুর আগে জানালেন, ‘ধোনির দলের ১১ জনই এক্স ফ্যাক্টর। মনে হয় না তখনকার মতো ফাইনালের ফলটা বদলাবে। ’ ২০১১-র ফাইনাল হয়েছিল ২ এপ্রিল। এবারের ফাইনাল ৩ এপ্রিল, ইডেনে। সেই স্বপ্নযাত্রার শুরুটা কি আজ নাগপুর থেকে?


মন্তব্য