kalerkantho


বাংলাদেশই ফেভারিট পাকিস্তানের বিপক্ষে!

১৫ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



বাংলাদেশই ফেভারিট পাকিস্তানের বিপক্ষে!

বাছাই পর্বের দুর্দান্ত সাফল্যে ফুরফুরে মেজাজেই মূল পর্বের মিশনে নামছে বাংলাদেশ। কলকাতা আসার পথে ধর্মশালায় মাশরাফির সেলফিতেও ধরা পড়ল আত্মবিশ্বাসী এক বাংলাদেশ

মাত্র তো বছরখানেক সময়। মাত্রই তো পাঁচটি ম্যাচ।

তাতেই অবাক করা রূপান্তর আশ্চর্য এই বাংলাদেশের। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মূল পর্বে প্রথম প্রতিপক্ষ হিসেবে পাকিস্তানকে পেয়ে তাই আর মাশরাফি বিন মর্তুজার দল কেঁপে ওঠে না অচেনা আশঙ্কায়। চেনা আত্মবিশ্বাসে বরং তাদের মুখোমুখি হওয়ার জন্য প্রস্তুত লাল-সবুজের স্বপ্নসারথিরা।

বাংলাদেশ দলের ধর্মশালা-অভিযান শেষ হয় পরশু। তাতে ওমানের বিপক্ষে জয়ে সারে মূল পর্বে ওঠার আনুষ্ঠানিকতা। আনুষ্ঠানিকতাই তো!

 যে দলটি মাত্রই শ্রীলঙ্কা-পাকিস্তানের মতো পরাশক্তিদের হারিয়ে এশিয়া কাপ ফাইনাল খেলে, তাদের জন্য নেদারল্যান্ডস-আয়ারল্যান্ড-ওমান কোন ছার! সৌন্দর্যের চারণভূমি ধর্মশালায় বাংলাদেশ বরং অনেক দুশ্চিন্তায় ছিল খেয়ালি প্রকৃতি নিয়ে। যখন-তখন হুড়মুড়িয়ে আকাশ ভেঙে নামা বৃষ্টি নিয়ে। জয় করা গেছে তাও। এখন পরশু ইডেন গার্ডেন্সে পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ক্রিকেট-কুলীনদের সঙ্গে লড়াইয়ের শুরু।

আর সেখানেই মাশরাফির দলকে আত্মবিশ্বাস জোগায় বছরখানেক সময়ে সীমিত ওভারের সর্বশেষ পাঁচটি ম্যাচ। যেখানে ওয়ানডে-টি টোয়েন্টিতে দুই দলের মুখোমুখি দ্বৈরথের ফল রীতিমতো চমকে দেওয়ার মতো। বাংলাদেশ ৫ : পাকিস্তান ০!

১৯৯৯ বিশ্বকাপে নর্দাম্পটনে রচিত বাংলাদেশ ক্রিকেট রূপকথার এক হিরণ্ময় অধ্যায়। কেউ ভাবেননি, পরের ১৬ বছর লাল-সবুজের ক্রিকেটসেনাদের কাছে অজেয় এক সীমান্ত হয়ে থাকবে পাকিস্তান। বাংলাদেশ ক্রিকেটের এখনকার সূর্যসকালে দাঁড়িয়ে সেই গ্রহণকালকে কত আগের বলেই না মনে হয়! আরো বেশি করে মনে হয়, গত বছরখানেকের পারফরম্যান্সের কারণে। ২০১৫ সালে সফরে আসা পাকিস্তানকে ওয়ানডে সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে ধবলধোলাই করে বাংলাদেশ। ‘ধোলাই’য়ের শেষ সেখানে না। জেতে একমাত্র টি-টোয়েন্টিতেও। ধারাবাহিকতায় এই যে কিছু দিন আগে এশিয়া কাপের দ্বৈরথ, সেখানেও জয় মাশরাফির দলের। তাতেই ওই পাঁচে পাঁচ!

ইডেন গার্ডেন্সে ম্যাচের আবহে তাই উত্তুঙ্গ আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামবে না কেন বাংলাদেশ!

অথচ ওমানের বিপক্ষে ম্যাচের পর সেটিকে তো আলাদা গুরুত্ব দিতেই নারাজ মাশরাফি! পাকিস্তানের বিপক্ষে সাম্প্রতিক রেকর্ড মনে করিয়ে দেওয়া প্রশ্নে তাঁর উত্তর, ‘ব্যক্তিগতভাবে আমার মনে হয় না, এর কোনো গুরুত্ব রয়েছে। আমরা যখন ম্যাচ শুরু করি, আগের কথা ভাবি না। তামিম নিশ্চয়ই ভাবে না, আমি আমিরকে প্রথম বলে ছয় মেরেছিলাম বা রান নিতে পারিনি। আমি নিশ্চিত, দলের কেউই করে না। হয়তো-বা শেষ ম্যাচে যে রান করেছে অথবা যে উইকেট নিয়েছে ওটা মানসিকভাবে সাহায্য করে। ’ প্রত্যাশায় লাগাম পরাতেই হয়তো অধিনায়কের অমন উচ্চারণ। দল যেন অতি-আত্মবিশ্বাসী হয়ে আবার নিজের পায়ে কুড়াল না মারে, সেটিও তো দলনেতাকে খেয়াল রাখতে হয়, নাকি!

ধর্মশালা থেকে কাল দুপুরেই বেরিয়ে পড়ে বাংলাদেশ দল। রাতেই পৌঁছে যায় এপার বাংলার কলকাতায়। বোলিং অ্যাকশনের পরীক্ষা দিতে তাসকিন আহমেদ গিয়েছেন চেন্নাই। দলের সঙ্গে আজ এসে যোগ দেবেন তিনি। আর আরাফাত সানি তো আগেই দিয়ে আসেন সে পরীক্ষা। ধর্মশালায় বাছাই পর্ব উতরানোর স্বস্তিতেও এই অস্বস্তিটা ঠিকই খোঁচা মারে বাংলাদেশকে। মাশরাফি তা স্বীকারও করেন, ‘এখানে ভালো লাগা, খারাপ লাগা দুটিই ছিল। মাথায় সব সময় চাপ ছিল বৃষ্টি নিয়ে। সঙ্গে দুঃখজনকভাবে সানি এবং তাসকিনের বিষয়টা এসেছে। আশা করি, ওরা তাড়াতাড়ি ঠিক হয়ে আমাদের সঙ্গে যোগ দিতে পারবে। কিন্তু সব মিলিয়ে আমরা যে উদ্দেশ্য নিয়ে এখানে এসেছি সেটা পূরণ হয়েছে। ’ সেই প্রত্যাশা পূরণের পর এবার পাকিস্তানে দৃষ্টি দিচ্ছেন অধিনায়ক, ‘কলকাতায় আমাদের বড় একটা ম্যাচ আছে, পাকিস্তানের বিপক্ষে। ম্যাচটি কঠিন হবে। ’

বাছাই পর্ব শেষে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মূল পর্ব শুরু হচ্ছে আজ নাগপুরে, ভারত-নিউজিল্যান্ড ম্যাচ দিয়ে। বাংলাদেশের সুপার টেনের কঠিন অভিযাত্রার শুরু কাল পাকিস্তান দিয়ে। এরপর বেঙ্গালুরু গিয়ে খেলবে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের বিপক্ষে। শেষ ম্যাচের প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড। গত দেড় বছরে বাংলাদেশের ক্রিকেটের সাফল্যপাখি যেভাবে মেলেছে ডানা, তাতে এই টুর্নামেন্ট নিয়েও স্বপ্নটা বড় হচ্ছে ক্রমশ। যদিও মাশরাফি কিংবা তাঁর পাশে বসা টি-টোয়েন্টিতে দেশের প্রথম সেঞ্চুরিয়ান তামিম ইকবাল সুপার টেনের সম্ভাবনা নিয়ে কূটনৈতিক কথাবার্তা চালান কিছুক্ষণ। পরে সম্ভাবনার সুনির্দিষ্ট প্রশ্নে কিছুটা নির্দিষ্ট করে উত্তর দেন মাশরাফি। এই বাংলাদেশ, এখনকার বাংলাদেশের পক্ষে কী সেমিফাইনাল, এমনকি ফাইনাল পর্যন্ত যাওয়া সম্ভব—এমন প্রশ্নে অধিনায়কের জবাব, ‘হতেও পারে। আসলে প্রত্যাশার তো শেষ নেই। আমাদের জন্য প্রথম ম্যাচ অনেক বড় ম্যাচ। সেখানেই আমরা মূল মনোযোগ দিচ্ছি। পাকিস্তানের বিপক্ষে জয় দিয়ে শুরু করতে পারলে যেকোনা কিছু হতে পারে। ’

আর সেই জয়ে শুরুর আত্মবিশ্বাসী মন্ত্রের জন্য গত এক বছরের ওই পাঁচটি ম্যাচ তো থাকছেই!


মন্তব্য