kalerkantho

26th march banner

‘পাকিস্তানের সঙ্গে জিতলে যেকোনো কিছু সম্ভব’

ধর্মশালা থেকে প্রতিনিধি   

১৪ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



‘পাকিস্তানের সঙ্গে জিতলে যেকোনো কিছু সম্ভব’

হেসে ওঠেন তামিম ইকবাল, ‘অভ্যাসটা যেন থাকে। ’ হেসে ওঠেন মাশরাফি বিন মর্তুজাও, ‘টসটা অন্য কাউকে দিয়ে করাতে পারলে ভালো হতো। ’ কাল রাতে হেসে ওঠে আসলে পুরো বাংলাদেশই। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্ব নিশ্চিত করেছে ক্রিকেট সেনাদল। এখন তো এই মানচিত্রের হাসিরই সময়।

ম্যান অব দ্য ম্যাচ তামিমকে সঙ্গে নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসছেন অধিনায়ক মাশরাফি, এটি তো অভ্যাস বানিয়ে ফেলেছে বাংলাদেশ—এমন কথাতেই ওপেনার ওই সহাস্য প্রতিক্রিয়া। আবার টানা পাঁচ ম্যাচে টস হারা নিয়ে মাশরাফির উত্তর শুনলে মনে হবে, যেন টস হারাটা কোনো ব্যাপার নয়। টস হারলেও কাল ম্যাচ তো জিতেছে বাংলাদেশ! আর তাতেই প্রাথমিক স্বপ্নপূরণ। ধর্মশালা থেকে আর ঢাকার বিমান ধরতে হবে না মাশরাফিদের। এখন কলকাতায় গিয়ে মূল পর্বে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ নিয়ে প্রস্তুতির সময়।

বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে ২০ ওভার খেলেও সেঞ্চুরি করতে পারেননি। এ নিয়ে কোনো আক্ষেপও শোনা যায়নি তামিমের কণ্ঠে। কিন্তু কাল তিন অঙ্ক ছোঁয়ার পর ঠিকই প্রতিশ্রুতি পূরণের তৃপ্তি তামিমের কণ্ঠে, ‘টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের প্রথম সেঞ্চুরি কে করবে—এ নিয়ে কোচ চন্দিকা হাতুরাসিংহের সঙ্গে এক দিন কথা হচ্ছিল। ওকে বলেছিলাম, আমিই করব। সেই কথা রাখতে পেরে ভালো লাগছে। ’ সেঞ্চুরির পরের উদ্যাপনে মাথায় হাত দেওয়ার ব্যাখ্যাও করেন তিনি, ‘কোচের মাথায় চুল নেই তো। তাই সেভাবে ওকে বোঝাচ্ছিলাম। ’ আবার হাসি ওঠে সংবাদ সম্মেলন কক্ষে। ‘কোচকে বাটারিং’—মাশরাফির এই ফোড়নে আরো বেশি করে।

বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে টি-টোয়েন্টিতে সেঞ্চুরি করার গর্ব লুকান না তামিম। আবার দেশের জার্সিতে প্রথমজন হিসেবে হাজার রান করাতেও, ‘অবশ্যই সেঞ্চুরি করাটা আমার জন্য দারুণ ব্যাপার। যখন ছক্কা মেরে ৯৪-এ পৌঁছি, তখনই প্রথম সেঞ্চুরির কথা ভাবতে শুরু করি। আর কে আগে টি-টোয়েন্টিতে হাজার রান করবে, এ নিয়ে আমার ও  সাকিবের মধ্যে ভালোই লড়াই হচ্ছিল। ওয়ানডের চার হাজার রানের ক্ষেত্রে সেই লড়াইয়ে সাকিব জেতে। এবার আমি জিতে আনন্দিত। ’

অধিনায়ক মাশরাফি তৃপ্ত প্রাথমিক লক্ষ্য পূরণে। আর তাঁর কণ্ঠে স্বস্তি প্রতিপক্ষের পাশাপাশি ধর্মশালার আবহাওয়াতেও স্বপ্ন-ক্যারাভান আটকে না যাওয়ায়। সঙ্গে বোলিং অ্যাকশনে অভিযুক্ত দুই বোলারের ব্যাপারে আশাবাদ পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি, ‘ধর্মশালায় যা হয়েছে ভালো হয়েছে। ম্যাচ খেলেছি। তবে ম্যাচের থেকে বেশি আবহাওয়ার বিষয়গুলো নিয়ে বেশি চিন্তা হয়েছে। দুর্ভাগ্যবশত সানী ও তাসকিনের বিষয়টি এখানে এসেছে। আমার বিশ্বাস ওরা তাড়াতাড়ি ফিরে এসে আমাদের সঙ্গে যোগ দিবে। ’ বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে ওঠার আগের এই তিন ম্যাচে ভালোই প্রস্তুতি হলো কি না—এমন প্রশ্নে কন্ডিশন জয় করার কথাই আগে বলেন অধিনায়ক, ‘আমরা এমনি ম্যাচ প্র্যাকটিস একটু বেশি করেছি। মনে হচ্ছে আজ ইংল্যান্ড, আয়ারল্যান্ডে খেলেছি। আমাদের ছেলেরা সবাই খেলার মধ্যে আছে। ভারতে এর আগে আমরা তেমন খেলিনি। উইকেট ও কন্ডিশন সম্পর্কে আমাদের ধারণা ছিল না। কিন্তু এ ম্যাচগুলো খেলার পর কন্ডিশন সম্পর্কে পুরো ধারণা হয়ে গেছে। এখন ভিন্ন ভিন্ন জায়গার উইকেট সম্পর্কে ধারণা চাই। ’ দ্বিতীয় পর্বে ভালো করার আশাবাদও তাঁর, ‘মূল পর্বের আগে প্রস্তুতি বেশ ভালোই বলব। কয়েকটি ম্যাচ খেলতে পেরেছি। কলকাতা ও বেঙ্গালুরুর উইকেট এখান থেকে  ভিন্ন থাকবে। আশা করি এ ছন্দ ধরে রাখতে পারলে দ্বিতীয় পর্বে ভালো করতে পারব। ’

কতটা ভালো? মাশরাফি-তামিম দুজনের উত্তরই কূটনৈতিক সুলভ, ‘এভাবে খেলতে পারলে কেউ জানে না, আমরা কতদূর যেতে পারি!’ সেমিফাইনাল বা ফাইনাল পর্যন্ত যাওয়া কী সম্ভব? দৃপ্ত শোনায় মাশরাফির কণ্ঠ, ‘পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ জিততে পারলে যেকোনো কিছু সম্ভব। ’

সপ্তাহজুড়ে ধর্মশালার আকাশজোড়া মেঘ থাকলেও এখানকার বাছাইপর্ব বাংলাদেশের স্বপ্নের আকাশ কত বড় করেই না দিল!


মন্তব্য