kalerkantho

শনিবার । ২১ জানুয়ারি ২০১৭ । ৮ মাঘ ১৪২৩। ২২ রবিউস সানি ১৪৩৮।


২৭ ইউপিতে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৪ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



২৭ ইউপিতে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী

ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে গতকাল রবিবার ছিল প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। এ ধাপে সর্বশেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, অন্তত ২৭টি ইউনিয়ন পরিষদে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা একক প্রার্থী। তাঁরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন। অন্যদিকে ৬০টিরও বেশি ইউনিয়ন পরিষদে প্রার্থী নেই বিএনপির।

এ ধাপে গত ২ মার্চ ছিল রিটার্নিং অফিসারের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষদিন। এদিন ৬৪৭টির মধ্যে ৬৩টি ইউপিতে বিএনপির কোনো চেয়ারম্যান প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেননি। এর মধ্যে ১৩টিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা চেয়ারম্যান পদে একক প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন। পরে নির্বাচন কমিশন ওই ১৩ ইউপির মধ্যে ফেনীর পরশুরামের তিনটি ইউপির নির্বাচন স্থগিত করে। এ ধাপের নির্বাচন হবে ৩১ মার্চ।

এর আগে প্রথম ধাপের ৭৩২টি ইউপির মধ্যে মনোয়নপত্র যাচাই-বাছাই ও প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর চেয়ারম্যান পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়ায় ৬২ জনে। তাঁরা সবাই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থী। এ ধাপের বিএনপির কোনো প্রার্থী নেই এমন ইউপির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১৯টি। এ ধাপের নির্বাচন হতে যাচ্ছে আগামী ২২ মার্চ।

আমাদের বিশেষ প্রতিনিধি ও ঢাকার বাইরে থেকে নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :

২৭ ইউপিতে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী : গোপালগঞ্জ, জয়পুরহাট, শেরপুর, মুন্সীগঞ্জ, মাদারীপুর, কিশোরগঞ্জ ও ভোলা জেলার ২৭টি ইউপিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের প্রতিদ্বন্দ্বী নেই। গোপালগঞ্জে চারটি ইউপিতে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ছাড়া আর কোনো দলের প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেননি। গতকাল বাছাইয়ে আরো ১১টিতে আওয়ামী লীগের কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে।

সব মিলিয়ে গোপালগঞ্জ সদর ও কোটালীপাড়া উপজলোর ৩২ ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে ১৫টিতে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন। এর মধ্যে রয়েছে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার ১৪ ইউনিয়ন এবং কোটালীপাড়া উপজেলায় একটি ইউনিয়ন। গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা অপূর্ব কুমার বিশ্বাস ও কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা হাচান উদ্দিনের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

জয়পুরহাট সদর উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের মধ্যে ছয়টিতেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ প্রার্থী নির্বাচিত হতে চলেছেন। অন্য তিনটিতে আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন চার স্বতন্ত্র ও বিএনপির এক প্রার্থী।

ধলাহার ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মো. ফয়েজ উদ্দিন এবং দোগাছি ইউনিয়নে মনোনয়ন দাখিল করেন জহুরুল ইসলাম। আর কোনো প্রার্থী না থাকায় এ দুজন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হতে চলেছেন। গত ৬ মার্চ মনোনয়নপত্র চূড়ান্ত বাছাইয়ের দিন আমদই ইউনিয়নে বিএনপি ও স্বতন্ত্র এক প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় আওয়ামী লীগের শাহানুর আলম বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন। এ ছাড়া প্রত্যাহারের শেষদিন গতকাল বম্বু, মোহাম্মদাবাদ ও পুরানাপৈল ইউনিয়নে বিএনপি এবং স্বতন্ত্রসহ পাঁচ প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করে। এতে করে ওই তিন ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মোল্লা সামছুল আলম, আতাউর রহমান ও খোরশেদ আলম বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে চলেছেন।

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান ও শ্রীনগর উপজেলার দুই ইউপিতে আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নেই। এই দুই প্রার্থী হলেন সিরাজদিখানের কেয়াইন ইউনিয়নে মো. আশ্রাফ আলী ও শ্রীনগরের ষোলঘর ইউনিয়নে আজিজুল ইসলাম।

শ্রীনগরের ষোলঘর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির সেই আলোচিত প্রার্থী জুলহাস উদ্দিনের মনোনয়ন প্রত্যাহারের আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে। এতে করে এখন এখানে আওয়ামী লীগ প্রার্থী আজিজুল ইসলাম ছাড়া আর কেউ নেই। রিটার্নিং অফিসার এলিচ ফারজানা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

উল্লেখ্য, বিএনপি প্রার্থী জুলহাস উদ্দিন নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর কাছ থেকে ৬০ লাখ টাকা নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি এখন মালয়েশিয়া অবস্থান করছেন। এ নিয়ে গতকাল কালের কণ্ঠে ‘৬০ লাখে সরল বিএনপি’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

এ ছাড়া মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন শ্রীনগরের রীরতারা ইউনিয়নের বিএনপির প্রার্থী শহিদুল্লাহ কামাল জিলু, ভাগ্যকুলে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মনির হোসেন মিটুল, কোলাপাড়া ইউনিয়নে ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের মো. আসলাম।

শেরপুরের শ্রীবরদী ও নকলা উপজেলার ৫ ইউনিয়নে ৯ চেয়ারম্যান প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। এর মধ্যে নকলার ১ নম্বর গণপদ্দি ইউনিয়নে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় আওয়ামী লীগের মো. শামছুর রহমান আবুল বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান হতে যাচ্ছেন।

বগুড়ার শিবগঞ্জ ও সোনাতলা উপজেলার ১৮টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ২০ জন ও সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত নারী সদস্য মিলে আরো ৪৫ জন প্রার্থী তাঁদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন।

সুনামগঞ্জের ছাতকের ১৩ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে ৭৮ চেয়ারম্যান প্রার্থীর মধ্যে ১০ জন মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন। প্রত্যাহারকারীদের বেশির ভাগই বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন। তবে ১৩ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীদের বেশির ভাগই মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি।

মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার চারটি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের দুই ‘বিদ্রোহী’ এবং বিএনপির এক ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী তাঁদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। এ ছাড়া ১০ জন সদস্য (সাধারণ) তাঁদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন।

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা আব্দুল হাদি জানান, উপজেলার চারটি ইউনিয়নে ১৯ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী, ৪২ জন নারী সদস্য (সংরক্ষিত)  প্রার্থী এবং ১২৭ জন সদস্য নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

নীলফামারী জেলা সদরে দ্বিতীয় দফায় পাঁচটি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে একজন, সদস্য পদে দুই জন এবং সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে দুজন মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন।


মন্তব্য