kalerkantho

বুধবার । ১৮ জানুয়ারি ২০১৭ । ৫ মাঘ ১৪২৩। ১৯ রবিউস সানি ১৪৩৮।


তোপের মুখে বাংলাদেশ ব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৪ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



তোপের মুখে বাংলাদেশ ব্যাংক

রিজার্ভ থেকে ১০ কোটি ডলার চুরি হওয়ার পর এক মাস ধরে তা সরকারের কাছে গোপন রাখে বাংলাদেশ ব্যাংক। ফিলিপাইনের সংবাদপত্রে রিজার্ভ চুরির ঘটনা প্রকাশ পাওয়ার আগ পর্যন্ত অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতকে কিছুই জানায়নি বাংলাদেশ ব্যাংক। এই এক মাসে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব ড. এম আসলাম আলম মোট তিন দফায় বোর্ড ও অডিট কমিটির সভায় যোগ দিতে বাংলাদেশ ব্যাংকে গেছেন। পরিচালনা পর্ষদ কিংবা সচিবের কাছেও গোটা বিষয়টি চেপে রাখা হয়। ঢাকা মহানগর পুলিশ বলছে, এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের কাছে কোনো ধরনের সহায়তা চায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তদন্ত বা মামলায় বিলম্ব হলে চুরি যাওয়া অর্থ ফেরত পেতে অনিশ্চয়তা বাড়বে। তাই অর্থ উদ্ধারে দ্রুত তদন্ত ও মামলা দায়েরের পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এমন ভূমিকায় ভীষণ ক্ষুব্ধ হয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। গতকাল রবিবার বিকেলে অর্থমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের অর্থ চুরি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। ওই বৈঠকে রিজার্ভ চুরির মতো স্পর্শকাতর বিষয় এক মাস ধরে সরকারের কাছে গোপন রাখা, রিজার্ভ চুরিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের দায় নেই বরং ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউ ইয়র্ক দায়ী—অর্থমন্ত্রীকে এমন মিথ্যা কথা বলাসহ বাংলাদেশ ব্যাংকের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ করেন আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনার বিষয়েও প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করেন বলে জানা গেছে। এ ছাড়া বেহাত হওয়া রিজার্ভ পুনরুদ্ধারে এফবিআইকে নিযুক্ত করা, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করাসহ এ ঘটনায় অর্থমন্ত্রী যে বিবৃতি দেবেন, তার বিষয়বস্তু নিয়েও আলোচনা হয় তাঁদের মধ্যে।

এর আগে রবিবার দুপুরে সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী বলেছেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনার পর দুই মাসেও সরকারকে এ বিষয়ে কিছুই জানায়নি কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আমি খুবই অসন্তুষ্ট যে সরকারকে না জানিয়ে অযোগ্য বাংলাদেশ ব্যাংক নিজেদের মতো করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাতে আলোচনা করে এ ব্যাপারে আজ-কালের (রবি-সোমবার) মধ্যে আমি একটি বিবৃতি দেব। ’ 

ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলার সঙ্গে গতকাল সচিবালয়ে বৈঠকের পর অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী সাইবার-সন্ত্রাস প্রতিরোধে সবাই ব্যবস্থা নিয়েছে। আমরাও নিয়েছি। তবে আমাদের ব্যবস্থা ফ্লপ করেছে। ’ নিউ ইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক জানিয়েছে, তাদের ওখানে কোনো সমস্যা হয়নি। রিজার্ভ চুরির ঘটনা তদন্তে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই বা অন্য কোনো সংস্থার সহায়তা চাওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নে মুহিত বলেন, ‘এখনই এ বিষয়ে কিছু বলতে পারছি না। ’

এর আগে অর্থমন্ত্রী ফেডারেল রিজার্ভের বিরুদ্ধে মামলা করার কথা বলেছিলেন। তবে এ ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ এখনো নেওয়া হয়নি। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইয়ের সহযোগিতা নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে। আনুষ্ঠানিকভাবে এফবিআইয়ের কাছে কোনো প্রস্তাব পাঠানো হয়নি বলে জানালেন ডেপুটি গভর্নর ও বাংলাদেশ ফিন্যানশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের প্রধান আবু হেনা মোহাম্মদ রাজী হাসান।

এদিকে বিদেশ থেকে শনিবার দেশে ফিরে গতকাল সকাল ১০টায় বাংলাদেশ ব্যাংকে যান ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সচিব এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ড. এম আসলাম আলম। রিজার্ভ চুরির ঘটনা তাৎক্ষণিকভাবে না জানানোয় বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতি অসন্তুষ্ট তিনিও। রিজার্ভ থেকে টাকা চুরির বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংক টের পাওয়ার পর বোর্ড সভা ও অডিট কমিটির বৈঠক উপলক্ষে বাংলাদেশ ব্যাংকে আসা হলেও সচিবকে রিজার্ভ চুরির ব্যাপারে কেউ কিছু বলেনি। গতকাল কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নরসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে ব্যাংকিং সচিব আসলাম আলম বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকে সার্ভারের ত্রুটির কারণেই এ ঘটনা ঘটেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দেওয়া তথ্য উদ্ধৃত করে তিনি জানান, শ্রীলঙ্কায় জব্দ হওয়া ১৯ দশমিক ৯৩ মিলিয়ন ডলার ইতিমধ্যে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে যুক্ত হয়েছে। এ ছাড়া ফিলিপাইনের মুদ্রাপাচারবিরোধী কর্তৃপক্ষ ৬৮ হাজার ডলার উদ্ধার করেছে। খোয়া যাওয়া বাকি ৮১ মিলিয়ন ডলারের প্রায় পুরোটাই ব্যাংক খাতের বাইরে চলে গেছে বলে ফিলিপাইনের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

সচিব বলেন, ‘অর্থ চুরির ঘটনা ঘটেছে ৫ ফেব্রুয়ারি। এরপর ২৩ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের বোর্ড সভা হয়েছে। ২৯ ফেব্রুয়ারি ও ১ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংকের অডিট কমিটির সভা হয়েছে। কোনো সভাতেই বিষয়টি আমাকে জানানো হয়নি। এই তিন বৈঠকের কোনোটিতেই বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক কোনো আলোচনা হয়নি। বিষয়টি প্রায় মাসখানেক আমার কাছে অজানা ছিল। আমি মনে করি, বাংলাদেশ ব্যাংকের উচিত ছিল এটা সরকারকে জানানো। কেন জানায়নি, তা আমি জানি না। ’

বিকেলে সচিবালয়ে ফিরে ব্যাংকিং সচিব সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে জানান, ঘটনা তদন্তে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হবে। তবে সেটি আজ (রবিবার) সম্ভব হবে কি না, বলা যাচ্ছে না। রাত ৮টায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আনুষ্ঠানিকভাবে তখনো কোনো কমিটি গঠন করা হয়নি। তবে সচিব তখন মন্ত্রীর কক্ষে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করছিলেন।

ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব আসলাম আলম আরো বলেন, ‘টাকা উদ্ধারে কেমন সময় লাগবে তা এখনই সুনির্দিষ্ট করে বলা যাবে না। এ জন্য ব্যাপক উদ্যোগ নিতে হবে। কম্পিউটার সিস্টেম ইনস্টল করার জন্য বিশ্বব্যাংকের ফিন্যানশিয়াল সাপোর্ট প্রজেক্টের আওতায় বাংলাদেশ ব্যাংক আইটি এক্সপার্ট নিয়োগ করেছে। রিজার্ভ চুরির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার জন্য মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংককে বোর্ড সভা ডাকার অনুরোধ করেছি। সেখানে ফোর্স অব অ্যাকশন নির্ধারণ করা হবে। এই বোর্ড মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত নেব ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউ ইয়র্ক ছাড়াও যে চারটি ব্যাংকে লেনদেন হয়েছে, তাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কেউ জড়িত বা এদের কোনো ব্যর্থতা আছে কি না। ’ তিনি বলেন, উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। সেখানে একজন তথ্য ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, একজন ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড এক্সপার্ট থাকবেন। বাকি দুজন ঠিক করবেন অর্থমন্ত্রী। তদন্ত কমিটি তথ্য-উপাত্ত ও সাক্ষ্য সংগ্রহ করে পদক্ষেপ গ্রহণের সুপারিশ করবে। তিনি আরো বলেন, রিজার্ভ বর্তমানে নিরাপদ আছে। আগের কর্মকর্তাদের দিয়েই কার্যক্রম চলছে। সার্ভারের যেগুলো করাপটেড হয়েছিল, সেগুলো রিপ্লেস করা হয়েছে।

ড. আসলাম আলম বলেন, হ্যাক হওয়া অর্থ উদ্ধারের অগ্রগতি সন্তোষজনক নয়। তবে কিভাবে টাকা নেওয়া হয়েছে সেটি শনাক্ত করা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সিস্টেম করাপটেড হয়েছে। ৫ ফেব্রুয়ারি থেকেই বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্ভার কাজ করছে না। ৬ তারিখে গিয়েও তারা সেটা ওপেন করতে পারেনি। মোট ৪৮ ঘণ্টা সিস্টেমটা অন্যদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। কিন্তু তারা তা বুঝতে পারেনি। ৭ ফেব্রুয়ারি এসেও যখন ঢুকতে পারেনি তখন তারা আইটি বিভাগকে অবহিত করে। তিনি বলেন, ‘এটি আমাদের ইমেজের জন্য বড় সমস্যা হয়ে যাবে। আমরা যে সিস্টেম দাঁড় করিয়েছি তা কার্যকর হয়নি। এটা তার বড় প্রমাণ। ’ ফেডারেল ব্যাংকের বিরুদ্ধে অর্থমন্ত্রীর মামলা করার বক্তব্য বিষয়ে সচিব বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে অর্থমন্ত্রীকে মিসগাইড করা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রী ওই মন্তব্য করেছেন। মন্ত্রীকে ধারণা দেওয়া হয়েছিল, ফেডের কারণেই পেমেন্ট হয়েছে, যে কারণে স্যার মামলা করতে চেয়েছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে জানতে চাইলে কোনো সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেনি। গত ২ মার্চ একটি অনুষ্ঠানে গভর্নরকে জানানো হলে তিনি বলেন, এটি নিয়ে তদন্ত চলছে। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানকে ব্রিফ করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রীকে জানানো হবে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম গতকাল এক অনানুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘রিজার্ভ চুরির ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংক এখনো পুলিশের কাছে কোনো ধরনের সহযোগিতা চায়নি। এ ধরনের ঘটনা তদন্তে সহযোগিতা করার মতো দক্ষ লোকবল ও কারিগরি সক্ষমতা আমাদের আছে। বাংলাদেশ ব্যাংক চাইলে পুলিশ সহযোগিতা করবে। ’

রিজার্ভ থেকে অর্থ চুরি যাওয়ার বিষয়টি সময়মতো সরকারের উচ্চপর্যায়ে (অর্থমন্ত্রী ও ব্যাংকিং সচিবকে) না জানানোর বিষয়ে ব্যাখ্যা চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দেরিতে জানানোর বিষয়ে এখন পর্যন্ত আমাদের (বাংলাদেশ ব্যাংকের) কোনো বক্তব্য নেই। ’

‘হ্যাকিং’-এর মাধ্যমে অর্থ চুরির বিষয়ে বাংলাদেশের গোয়েন্দা পুলিশসহ অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও তদন্ত সংস্থাকে অবহিত করা হয়েছে কি না জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র ও গভর্নর সচিবালয়ের মহাব্যবস্থাপক এ এফ এম আসাদুজ্জামান বলেন, চিঠি দিয়ে বাংলাদেশের কোনো গোয়েন্দা সংস্থার কাছে সাহায্য চাওয়া হয়নি ঠিকই, কিন্তু গভর্নর, পুলিশের আইজি, র‌্যাবের প্রধানসহ বিভিন্ন সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিতভাবে আলাপ-আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। তদন্তের ঢিলেমি বা দীর্ঘসূত্রতার কারণে অর্থ উদ্ধার ব্যাহত হতে পারে কি না এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এবং ফিলিপাইনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে যেভাবে কথা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের ফিন্যানশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট যেভাবে কাজ করছে, তাতে ইতিমধ্যেই আমরা কিছু অর্থ ফেরত পেয়েছি। বাকি অর্থ ফেরত পাওয়ার বিষয়েও আমরা শতভাগ আশাবাদী। ’

মামলা করার পরামর্শ : খোয়া যাওয়া অর্থ ফিরে পাওয়া ও গচ্ছিত সম্পদের বিপরীতে বীমা ক্ষতিপূরণ আদায়ের সুবিধার্থে মামলা করা জরুরি বলে মনে করছেন তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা। আইটি নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহার মতে, বীমা দাবি করতে হলে বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত নিশ্চিত করা জরুরি। সে ক্ষেত্রে তদন্তকাজে এফবিআই বা স্বীকৃত কোনো বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানকে সম্পৃক্ত করা দরকার। তাঁর বিশ্বাস, ব্যাংকের সুইফট কোড হ্যাকড হয়নি—এ রকম ঘটনা বিশ্বের কোথাও আজ পর্যন্ত ঘটেছে বলে জানা যায়নি। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ক্ষেত্রেও এটি হয়নি।

তবে সার্ভারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা অভ্যন্তরীণ যোগসাজশ ছাড়া ‘একেবারেই অসম্ভব’ বলে মন্তব্য করেন তানভীর, যিনি নিজেও বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির তদন্তে সহায়তা করছেন। চুরির ঘটনা টের পেয়েও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানাতে দেরি করা এবং মামলা দায়ের করার ক্ষেত্রে সময় নেওয়া ঠিক হচ্ছে না বলে মনে করেন তিনিও।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও সাইবার অপরাধ আইন বিশেষজ্ঞ  জ্যোতির্ময় বড়ুয়াও মনে করেন, মামলা করা দরকার। ফেডারেল ব্যাংকের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে মামলা করতে হলে তদন্তে তাদের সংশ্লিষ্টতা নিশ্চিত করতে হবে। সমস্যা যদি বাংলাদেশ ব্যাংকের ভেতরে হয়ে থাকে এবং মামলা যদি বাংলাদেশে হয়, তাহলে টাকা ফেরত পাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। তবে বিষয়টি এখনই পরিষ্কার না হওয়ায় এর বেশি বলতে রাজি হননি তিনি।


মন্তব্য