kalerkantho


পিডাব্লিউসি জরিপ

বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই জড়িত ব্যাংককর্মীরা

১৩ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক অর্থ চুরির ঘটনার উৎস বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ব্যাংকের নিজস্ব কর্মীরা। এ তথ্য উঠে এসেছে প্রাইসওয়াটারহাউসকুপারস্ প্রাইভেট লিমিটেড (পিডাব্লিউসি) নামের একটি বৈশ্বিক সংস্থার জরিপে। ‘দ্য গ্লোবাল স্টেট অব ইনফরমেশন সিকিউরিটি সার্ভে-২০১৬’ শীর্ষক ওই জরিপে বলা হয়েছে, ২০১৫ সালে বিশ্বে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে আর্থিক খাতে সংঘটিত অপরাধের ৩৪ শতাংশের উৎস ছিল সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব কর্মী এবং ২৯ শতাংশের উৎস ছিল সাবেক কর্মীরা।

ওই জরিপের ফল গতকাল শনিবার ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে তুলে ধরা হয়। একই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) একজন অধ্যাপক নিজেদের একটি গবেষণার কথা উল্লেখ করে বলেন, বাংলাদেশে ব্যাংক খাতে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে টাকা চুরির ৭৮ শতাংশ ঘটনার সঙ্গে ব্যাংকের কর্মীদের জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ চুরির ঘটনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মীদের কারো জড়িত থাকার বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে বলা হয়, ভেতরের কারো সহায়তা ছাড়া এভাবে টাকা চুরি হওয়া প্রায় অসম্ভব।

‘ফোকাস গ্রুপ ডিসকাশন অন সাইবার সিকিউরিটি’ শিরোনামে যৌথভাবে অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে বেসরকারি সংস্থা ফিন্যানশিয়াল এক্সিলেন্স ও পিডাব্লিউসি। বনানীতে ফিন্যানশিয়াল এক্সিলেন্সের কার্যালয়ে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংস্থার চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নুরুল হক মজুমদার, পিডাব্লিউসির নির্বাহী পরিচালক আরিজিত চক্রবর্তী, মেঘনা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুরুল আমিনসহ বিভিন্ন ব্যাংক ও সংস্থার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও তথ্যপ্রযুক্তি নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।

এতে পিডাব্লিউসির জরিপটি তুলে ধরেন সংস্থার ম্যানেজিং পার্টনার মামুন রশীদ। তিনি জানান, বিশ্বে ২০১৫ সালে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে আর্থিক খাতে নিরাপত্তা বিঘ্নের ৩৪ শতাংশ ঘটনার উৎস ছিল ব্যাংকের নিজস্ব কর্মীরা এবং ২৯ শতাংশ ঘটনার উৎস ছিল সাবেক কর্মীরা। ২২ শতাংশ ঘটনার উৎস ছিল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান, পরামর্শক ও ঠিকাদাররা।

১৯ শতাংশ ঘটনার উৎস ছিল সাবেক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান, পরামর্শক ও ঠিকাদাররা। এ ছাড়া ১৬ শতাংশ ঘটনার উৎস ছিল সরবরাহকারী ও অংশীদাররা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ চুরির প্রসঙ্গে সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ বলেন, ‘আমি বুঝি না এটা কিভাবে হলো? অনেক ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ডিঙিয়ে লেনদেন করতে হয়। যেকোনো মানুষ, যেকোনো পাসওয়ার্ড দিয়ে সেটা করতে পারবে না, পাসওয়ার্ড প্রতিদিন পরিবর্তিত হয়। এটা এত সোজা নয়। ’ তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বলেছে তাদের ওখানে হ্যাকিং হয়নি। সুইফট কর্তৃপক্ষ বলেছে, তাদের ওখানে হ্যাকিং হয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকেও এমন একটা বিবৃতি থাকা উচিত ছিল। তিনি আরো বলেন, ব্যাংক খাতে বাংলাদেশ তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহারে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। বেশি তাড়াহুড়ার ফলে হয়তো নিরাপত্তা প্রস্তুতিগুলো ঠিকভাবে নেওয়া হচ্ছে না।

বিআইবিএমের সহযোগী অধ্যাপক মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, গবেষণায় দেখা গেছে যে বাংলাদেশে ব্যাংক খাতে সংঘটিত অপরাধগুলোর ৭৮ শতাংশের সঙ্গে ব্যাংকের কর্মীরা জড়িত। এসব অপরাধ করা যায়, কারণ তথ্যপ্রযুক্তি নিরাপত্তার দায়িত্বে সঠিক লোককে দেওয়া হয় না। বাইরের প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরতা অনেক বেশি থাকে। নিরাপত্তার পেছনে ব্যয় বাড়াতে চায় না ব্যাংকের বোর্ড।

হাবিব ব্যাংক লিমিটেডের হেড অব অপারেশন মনিরুজ্জামান মোল্লা বলেন, ভেতরের কারও সহায়তা ছাড়া রিজার্ভ থেকে অর্থ চুরি প্রায় অসম্ভব।


মন্তব্য