ভোলায় বিধি ভাঙার মচ্ছব, ব্যবস্থা নেই-335333 | প্রথম পাতা | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

বুধবার । ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১৩ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৫ জিলহজ ১৪৩৭


ভোলায় বিধি ভাঙার মচ্ছব, ব্যবস্থা নেই

শিমুল চৌধুরী, ভোলা   

১৩ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



ভোলায় বিধি ভাঙার মচ্ছব, ব্যবস্থা নেই

বাসাবাড়ি ও দোকানপাটের দেয়াল, সীমানা দেয়াল, যানবাহন, বৈদ্যুতিক খুঁটিতে আঠা দিয়ে সেঁটে দেওয়া হচ্ছে নির্বাচনী পোস্টার। চলছে মোটরসাইকেল মহড়া। তিনটি নির্বাচনী ক্যাম্প স্থাপনের সীমা অতিক্রম করে যত্রতত্র স্থাপন করা হয়েছে ক্যাম্প। তৈরি করা হয়েছে বিশাল বিশাল তোরণ। প্রার্থীরা প্রকাশ্যে মিছিল-শোডাউন করছেন। ভোলায় আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রচরাভিযানের নামে এভাবেই লঙ্ঘন করা হচ্ছে আচরণবিধি। প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নে এ ধরনের নানা অভিযোগ পাওয়া গেছে কেবল আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান ও মেম্বার পদপ্রার্থীদের বিরুদ্ধেই।

প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা একের পর এক অভিযোগ দিলেও কাজ হচ্ছে না। আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগের স্তূপ জমা পড়েছে নির্বাচন অফিস ও রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে; কিন্তু এসব আমলে নিচ্ছে না তারা। এতে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন অনেক প্রার্থী।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, নির্বাচনী আচরণবিধিতে কোনো ধরনের মিছিল কিংবা শোডাউন নিষিদ্ধ করা হলেও ভোলার অনেক উপজেলার বেশির ভাগ ইউনিয়নে প্রার্থীরা প্রকাশ্যে মিছিল ও শোডাউন করছেন। একজন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীর নির্বাচনী এলাকায় তিনটির বেশি ক্যাম্প স্থাপনের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও অনেক প্রার্থী  সেই নিষেধাজ্ঞা মানছেন না। অনেক ইউনিয়নে ১০-১২টি করে নির্বাচনী ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

নির্বাচনী ক্যাম্পে টেলিভিশন ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও অনেক প্রার্থীর ক্যাম্পে তা ব্যবহার করতে দেখা গেছে। ভোটারদের পানীয় বা খাদ্য সরবরাহের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হলেও অনেক প্রার্থীর নির্বাচনী ক্যাম্পে এসব সরবরাহ করতে দেখা গেছে। নির্বাচনী আচরণবিধিতে দেয়াল ও যানবাহনে আঠা বা অন্য কোনো পদার্থ দ্বারা পোস্টার লাগানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলেও বেশির ভাগ প্রার্থীই তা মানছেন না। তাঁরা বিভিন্ন যানবাহন, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের দেয়াল ও বেড়া এবং বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে আঠা দিয়ে পোস্টার লাগিয়েছেন।

গতকাল শনিবার দুপুরে ভোলা সদর উপজেলা, দৌলতখান ও বোরহানউদ্দিন উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়ন পরিদর্শনকালে এসব চিত্র চোখে পড়ে। এর মধ্যে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে ভোলা সদর উপজেলার উত্তর দিঘলদী ইউনিয়নের গুইঘারহাট এলাকায় ভোলা-চরফ্যাশন আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে নৌকা প্রতীকের বিশাল তোরণ নির্মাণ করেছেন আওয়ামী লীগদলীয় চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী লিয়াকত হোসেন মনসুর। এ বিষয়ে লিয়াকত হোসেন মনসুরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। ওই ইউনিয়নের বিএনপিদলীয় চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী রাইসুল আলম বলেন, ‘আমার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী প্রতিনিয়তই আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন। এসব বিষয়ে রিটার্নিং অফিসারকে বহুবার জানিয়েছি; কিন্তু তিনি কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না।’ এ ব্যাপারে ওই ইউনিয়নের দায়িত্বরত রিটার্নিং অফিসার আকতার হোসেন দাবি করেন, তোরণ নির্মাণ নির্বাচনী আচরণবিধির মধ্যে পড়ে। এটা কোনো প্রার্থী করতে পারেন না। তিনি বলেন, ‘বিষয়টি আমার অজানা। এ বিষয়ে কোনো প্রার্থী লিখিত অভিযোগও দেননি।’

দৌলতখান উপজেলার দক্ষিণ জয়নগর ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন দেয়ালে আঠা দিয়ে পোস্টার লাগিয়েছেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থিত অনেক চেয়ারম্যান ও মেম্বার পদপ্রার্থী। আচরণবিধি লঙ্ঘন করে বোরহানউদ্দিন উপজেলার টবগী ইউনিয়নের আওয়ামী লীগদলীয় চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী অ্যাডভোকেট কামরুল আহসান চৌধুরী গতকাল সকালে দেড় শতাধিক মোটরসাইকেল নিয়ে বিশাল শোডাউন করেছেন।

তবে এ বিষয়ে মুখ খুলতে নারাজ দলের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী যুবলীগ নেতা বেলায়েত হোসেন ও বিএনপিদলীয় প্রার্থী সোহরাব হোসেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী কামরুল আহসান চৌধুরীকে ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। এ ব্যাপারে টবগী ইউনিয়নের রিটার্নিং অফিসার ও বোরহানউদ্দিন উপজেলা নির্বাচন অফিসার কল্লোল বিশ্বাস কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আমাকে ফোনে জানিয়েছেন। আমি তাঁকে লিখিতভাবে জানানোর জন্য বললেও তিনি তা দেননি।’ এদিকে একই উপজেলার বড়মানিকা ইউনিয়নের বিএনপিদলীয় চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী শিহাব উদ্দিন হাওলাদার অভিযোগ করেন, গত শুক্রবার রাতে ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সেন্টার বাজার এলাকায় আওয়ামী লীগদলীয় চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীর লোকজন তাঁর পোস্টার ছিঁড়ে তাতে আগুন ধরিয়ে দেয়। আওয়ামী লীগের কর্মীরা তাঁর কর্মীদের হুমকি-ধমকি দেয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।     

মন্তব্য