kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ওমানের পাশাপাশি আরো অনেক প্রতিপক্ষ

নোমান মোহাম্মদ, ধর্মশালা থেকে   

১৩ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



ওমানের পাশাপাশি আরো অনেক প্রতিপক্ষ

আজ ওমানের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। কিন্তু বৃষ্টির কারণে অনুশীলন করতে মাঠেই নামতে পারেননি টাইগাররা। ফলে হোটেল কক্ষে আড্ডায় কেটেছে পুরো দিন। তারই একটি মুহূর্ত মাশরাফির সেলফিতে।

ওয়াকার ইউনিস নিশ্চিত। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলার আগে দেশ ছাড়ার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নে তাই তিতিবিরক্ত পাকিস্তানের কোচ, ‘আপনারা সবাই যে শুধু ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ নিয়ে প্রশ্ন করছেন, এর আগে তো আমাদের বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলতে হবে!’ অর্থাৎ, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাছাই পর্ব পেরিয়ে ১৬ মার্চ ইডেনের ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলছে বাংলাদেশই—এ বিষয়ে নিশ্চিত ওয়াকার।

কিন্তু কী ভীষণ অনিশ্চিত শোনায় সুনীল চৌহানের কণ্ঠ! ধর্মশালা স্টেডিয়ামের কিউরেটর তিনি। আর তাঁর কণ্ঠের অনিশ্চয়তার উৎস আকাশ ছেয়ে থাকা মেঘমালা, ‘কাল আবহাওয়ার পূর্বাভাসেও বৃষ্টি রয়েছে। কে জানে, কালকের ম্যাচ দুটো হতে পারে কি না!’

আজ ধর্মশালায় সেই দুই ম্যাচের মধ্যে প্রথমটি একেবারে গুরুত্বহীন। নেদারল্যান্ডস-আয়ারল্যান্ডের মধ্যে কারোরই তো বিশ্বকাপের মূল পর্বে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই কোনো! দ্বিতীয় ম্যাচের দুই দল বাংলাদেশ-ওমানের আবার সমান সম্ভাবনা। নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচের মধ্যে একটি জয় ও বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়া অন্যটির কারণে একই সমান্তরালে বলে। আজ যারা জিতবে, তারাই ইডেনে খেলবে পাকিস্তানের বিপক্ষে মূল পর্বের প্রথম ম্যাচে।

সেই দ্বৈরথ মাঠে গড়ানোর আগেই পাকিস্তানের কোচ ওয়াকার ইউনিস নিশ্চিত, দলটি হতে যাচ্ছে বাংলাদেশই!

প্রতিপক্ষ যখন ওমান, তখন আসলে এ নিয়ে বিন্দুমাত্র অনিশ্চয়তা থাকার কথা নয়। কিন্তু আজকের ম্যাচে তো আর বাংলাদেশ শুধু ওমানের বিপক্ষে লড়বে না। বড় প্রতিপক্ষ হয়ে চোখ রাঙাচ্ছে বৃষ্টি। ধর্মশালায় প্রকৃতিকে দিন দুয়েক ধরে অবিরাম ভিজিয়ে চলেছে তা। যে কারণে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ শেষ হতে পারেনি। আজ ওমানের বিপক্ষে খেলা নিয়েও অনিশ্চয়তা। আর যদি ম্যাচের দৈর্ঘ্য কমে আসে, তাহলে যে অঘটনের শিকার হওয়ার আশঙ্কাও বেড়ে যায়!

আইরিশদের বিপক্ষে ম্যাচের পরই অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা বৃষ্টি নিয়ে বিরক্তির কথা জানিয়েছিলেন। আর খানিকটা চিন্তিত প্রতিপক্ষ ওমান অচেনা বলে। এর পরই আবার নিজেদের সামর্থ্যে আস্থার কথা ঘোষণার সুরে জানান তিনি, ‘ওমানের সঙ্গে কোনো খেলা হয়নি আমাদের। তবে আয়ারল্যান্ডের বিপেক্ষ ওদের পুরো ম্যাচটাই দেখেছি। ওরা দল হিসেবে অনেক ভালো। তবে আমরা যদি নিজেদের খেলা খেলতে পারি, সমস্যা হবে না। অন্য সব বড় দলের সঙ্গে আমরা যেভাবে খেলি সেভাবেই ওদের বিপক্ষে পরিকল্পনা করছি। ’

আগের দিন বৃষ্টিতে ভেসে গেছে ম্যাচ। কাল সকাল থেকেও ক্লান্তি নেই আকাশের। অবিরাম কেঁদেই চলে। সেই বৃষ্টি মাথায় নিয়ে অনুশীলনে আসে বাংলাদেশ দল। ‘বাংলাদেশ দলের অনুশীলন’ বললে অবশ্য চূড়ান্ত রকমের বাড়াবাড়ি হয়ে যায়। কারণ যে মুশফিকুর রহিমের কোনো ঐচ্ছিক অনুশীলন পর্যন্ত মিস দেওয়ার স্মৃতি ধর্মশালার কারো মাথায় নেই, তিনিও কাল বৃষ্টি মাথায় নিয়ে হোটেল ছেড়ে আসেননি মাঠে। এসেছিলেন কেবল মুস্তাফিজুর রহমান। বোলিং কোচ-ফিজিওদের সঙ্গে ড্রিল করেন; করেন কিছু বোলিং অনুশীলনও। তবে আজ ওমানের বিপক্ষে তাঁর খেলার সম্ভাবনা একেবারে শূন্য। বোলিং কোচ হিথ স্ট্রিক এক রকম নিশ্চিত করে দেন তা, ‘মুস্তাফিজকে নিয়ে এখনো কোনো সুসংবাদ নেই। আমরা এখনো ওকে নিয়ে কাজ করছি। ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার ভেতরে রয়েছে। কবে ফিরবে, এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা বেঁধে দিতে পারছি না। কাল সকালে ঘুম থেকে উঠে ওর মনে হতে পারে, সব ঠিক আছে। তবে সেটি হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। ’

আবহাওয়া-ইনজুরির বাইরেও আজকের ম্যাচে বাংলাদেশের রয়েছে আরেক প্রতিপক্ষ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল। সন্দেহজনক বোলিং অ্যাকশনের কারণে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই প্রশ্নবিদ্ধ আরাফাত সানি ও তাসকিন আহমেদ। ষড়যন্ত্র-তত্ত্বে এখানে আইসিসিকেও কাঠগড়ায় দাঁড় করান অনেকে। বাংলাদেশ দলের কোচ চন্দিকা হাতুরাসিংহেই তো স্বয়ং আইসিসির প্রতি ক্ষুব্ধতার কথা জানিয়েছেন সংবাদ সম্মেলনে। এ নিয়ে জবাব দেওয়ার ব্যাপারও আজ রয়েছে বাংলাদেশের।

অভিযুক্ত দুই বোলারের মধ্যে আরাফাত কালই চেন্নাই চলে গেছেন আইসিসি অনুমোদিত সেন্টারে পরীক্ষা দিতে। আজ ম্যাচের আগে এই ধর্মশালাতেই দলের সঙ্গে আবার এই বাঁহাতি স্পিনার যোগ দেবেন বলে জানান স্ট্রিক। তাসকিন থেকে গেছেন। আর স্ট্রিক যা বললেন, তার মর্মার্থে বোঝা যায়—আইসিসির ওপরের ক্রোধ এই পেসার ওমানের ওপর ঝাড়তে উদগ্রীব।

দল হিসেবে বাংলাদেশ অবশ্য ওমানকে হালকাভাবে নিচ্ছে না বলে দাবি করেন বোলিং কোচ, ‘আমরা কোনো দলকে হালকাভাবে নিই না। ওমান এরই মধ্যে কিছু অঘটন ঘটিয়েছে। আর আয়ারল্যান্ডকে হারানো বিরাট ব্যাপার। সে কারণে আমরা ওদের হালকাভাবে নিচ্ছি না। ’ মধ্যপ্রাচ্যের দেশটির বিপক্ষে পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে নামার ঘোষণাও স্ট্রিকের, ‘ভারত-পাকিস্তানের মতো বড় দলের বিপক্ষে খেলার আগে প্রতিপক্ষকে যেভাবে আমরা বিশ্লেষণ করি, ওমানকেও তাই করেছি। অব্যশই ওদের সম্পর্কে বড় দলের মতো অত তথ্য আমাদের কাছে নেই। এর পরও পেশাদারি দৃষ্টিকোণ থেকে ওদের বোলার ও ব্যাটসম্যানদের আমরা পর্যবেক্ষণ করেছি। আমরা জানি, এটি বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য বড় ব্যাপার। কাল জিতে বিশ্বকাপের পরের রাউন্ডে খেলা আমরা নিশ্চিত করতে চাই। ’

বৃষ্টি, ইনজুরি, আইসিসি—ওমানের পাশাপাশি এমন আরো অনেক প্রতিপক্ষ জয় করলে তবেই না নিশ্চিত হবে বাংলাদেশের মূল পর্বে উত্তরণ। ভবিষ্যদ্বাণী মিলে যাওয়ায় ওয়াকার ইউনিসের কলার তখন উঁচু হতেই পারে!


মন্তব্য