শোষিতদের প্রেরণা হয়ে থাকবে ৭ মার্চের-335326 | প্রথম পাতা | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

শুক্রবার । ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১৫ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৭ জিলহজ ১৪৩৭


আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী

শোষিতদের প্রেরণা হয়ে থাকবে ৭ মার্চের ভাষণ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৩ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



শোষিতদের প্রেরণা হয়ে থাকবে ৭ মার্চের ভাষণ

রাজধানীর খামারবাড়ী কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে গতকাল নতুন প্রজন্মের জন্য নির্মিত ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ওপর নির্মিত রঙিন ভাষণ দেখে অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি : বাসস

বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণকে বাঙালি রাজনৈতিক সংস্কৃতির এক অনন্য দলিল আখ্যায়িত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘এর আবেদন কোনো দিন শেষ হবে না। এই ভাষণ অক্ষয় হয়ে থাকবে। যুগ যুগ ধরে শোষিত-বঞ্চিত মানুষকে প্রেরণা ও শক্তি জোগাবে, মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে সাহস দেবে।’ গতকাল বিকেলে রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ মিলনায়তনে ‘কালোত্তীর্ণ ভাষণ প্রস্তুতি ও প্রভাব’ শীর্ষক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের

 ভাষণের ওপর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্ট এবং বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর এ আলোচনা সভার আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের শুরুতে বঙ্গবন্ধু শিশু-কিশোর মেলার সদস্যরা জাতীয় সংগীত পরিবেশন করে।

এ ছাড়া বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের রঙিন সংস্করণ এবং ভাষণের ওপর একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রখ্যাত লেখক ও সাংবাদিক আব্দুল মোমেন বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের ওপর ‘কালোত্তীর্ণ ভাষণ প্রস্তুতি ও প্রভাব’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন ইন্টারন্যাশনাল থিয়েটার ইনস্টিটিউটের সভাপতি সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার, অধ্যাপক ড. মো. মসিউর রহমান। ট্রাস্টের প্রধান নির্বাহী মাশহুরা হোসেন অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, শিল্পী হাশেম খান, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক ড. শামসুজ্জামান খান, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য, সরকারের সামরিক ও বেসামরিক দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিল্পী, কবি-লেখক, সাহিত্যিক, গবেষকসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘৭ মার্চের ভাষণ আমাদের প্রেরণা। এ ভাষণই আমাদের পথ দেখিয়ে গেছে। ৭ মার্চের ভাষণের প্রতিটি শব্দ আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ভাষণ আমাদের সেই প্রেরণাটা এনে দেয়—মাথা উঁচু করে চলার। মনে সাহস দেয় যেকোনো অবস্থা মোকাবিলা করার, শত্রুকে দমন করার। এই ভাষণের আবেদন কোনো দিন শেষ হবে না।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ভাষণের মধ্যে ৭ মার্চের ভাষণ স্থান পেয়েছে। অথচ এই ভাষণ বাজানোর ওপরই একদিন এ দেশে অঘোষিত নিষেধাজ্ঞা জারি করা ছিল। কত দুর্ভাগ্য ছিল জাতির, যারা জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়টা ওই সময় পার করেছে তারা জাতির এই অমূল্য সম্পদ সম্পর্কে জানতেও পারেনি। কারণ তখন একাত্তরের পরাজিত শক্তির পদলেহন করাই ক্ষমতাসীনদের একমাত্র কাজ ছিল।’

প্রধানমন্ত্রী সে সময় একটি প্রজন্মকে এই ভাষণ থেকে দূরে রাখায় তাদের সত্য বঞ্চিত প্রজন্ম বলে আক্ষেপ প্রকাশ করে ভবিষ্যতে যেন আর কেউ সত্য বঞ্চিত না হয় সে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। তিনি তরুণ প্রজন্মকে এই ভাষণ থেকে মাথা উঁচু করে চলার প্রেরণা অর্জন করে মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ী জাতি হিসেবে এগিয়ে যাওয়ার এবং পৃথিবীতে সবার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মাথা উঁচু করে চলারও আহ্বান জানান।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘অনেক চড়াই-উত্রাই পেরিয়ে আমরা আজকের অবস্থানে এসেছি। পেট্রলবোমা দিয়ে মানুষকে পুড়িয়ে মারা, মানুষ খুন করা, কষ্ট দেওয়া, দুর্নীতি, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ-বাংলা ভাই—কত বাধা, কত কিছুকে আমরা মোকাবিলা করেছি। সব কিছু মোকাবিলা করেই আজকের বাংলাদেশ সারা বিশ্বে একটা মর্যাদা পেয়েছে। এই মর্যাদা তৈরি করে নেওয়ার যে আমরা শক্তি পেয়েছি এই শক্তি জাতির পিতাই আমাদেরকে দিয়েছেন। ৭ মার্চের এ ভাষণই আমাদের এই পথ দেখিয়ে গেছে।’

মন্তব্য