ওমানের সঙ্গে ম্যাচেই ঠিক হবে ‘সুপার-334981 | প্রথম পাতা | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১২ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৪ জিলহজ ১৪৩৭


ওমানের সঙ্গে ম্যাচেই ঠিক হবে ‘সুপার টেন’ ভাগ্য

নোমান মোহাম্মদ, ধর্মশালা থেকে   

১২ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



ওমানের সঙ্গে ম্যাচেই ঠিক হবে ‘সুপার টেন’ ভাগ্য

আবারও ব্যাটে ঝড় তুললেন তামিম ইকবাল। গতকাল আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে। ছবি : মীর ফরিদ

মেঘের ভাঁজে ভাঁজে আশ্চর্য সুন্দরের খেলা চলে কতই না রঙে! সৌম্য সাধুর মনের মতো ধবধবে সাদায় কখনো। কখনো-বা শিশুমনের কল্পনায় আঁকা হাতি-সিংহের লাল বিকেলে। প্রেমিকার শাড়ির নীল পাড়ের স্নিগ্ধতাও ছড়ায় তা অনেক সময়। তবে এসব ছাপিয়ে কাল ভূস্বর্গ ধর্মশালার আকাশে থাকা মেঘের রং ছিল একটিই। বৃষ্টির রং!

সেই বৃষ্টির জলরঙেই আঁকা হয়ে যায় ক্রিকেটের ক্যানভাস। পরিত্যক্ত হয় বাংলাদেশ-আয়ারল্যান্ড দ্বৈরথ। তাতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মূল পর্বে ওঠার পথে এখন শেষ চৌকাঠ মাড়ানোর অপেক্ষায় মাশরাফি বিন মর্তুজার দল। সে জন্য কাল বাছাইপর্বের শেষ ম্যাচে ওমানকে হারালেই চলবে, ব্যস!

সকাল থেকে টিপ টিপ বৃষ্টিতে ভেজে স্টেডিয়ামের পাশে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকা হিমালয়ের বরফচূড়া। দুপুর থেকে শুরু ঝুম বর্ষণ। ম্যাচ পরিত্যক্ত ঘোষণা হওয়ার ঘণ্টাকয়েক পরের রাতদুপুরেও চলে তা। দুপুর থেকে রাতদুপুরের মাঝে কিছুটা সময়ের জন্য একটু যেন দয়া হয় প্রকৃতির। ওমান-নেদারল্যান্ডস ম্যাচ ভেসে গেলেও বাংলাদেশ-আয়ারল্যান্ডের ক্রিকেট লড়াই মাঠে গড়ানোর অনুমোদন মেলে তাতে। কিন্তু সেটি কতক্ষণের জন্যই-বা আর! বাংলাদেশের ইনিংস আট ওভার হতেই তো আবার বৃষ্টির রং হয়ে ঝরে আকাশের মেঘমালা। খেলা চালিয়ে যাওয়ার তাই উপায় থাকে না কোনো।

তবে ওই আট ওভারের ইনিংসেই তো অনেক প্রশ্নের জবাব দিয়ে দেয় বাংলাদেশ! টি-টোয়েন্টিতে বড় দল-ছোট দলের পার্থক্য কমে আসে এমনিতে। আর সেখানে টসের গুরুত্ব হয়ে ওঠে সর্বাধিক; অনেক সময় ক্রিকেটীয় দক্ষতার চেয়েও যেন বেশি। এশিয়া কাপ ফাইনালে এমন এক লড়াইয়ে ভারতের কাছে হারে মাশরাফির দল। অধিনায়ক অবশ্য সে জন্য টস হারার দায়ও কম দেন না। তো কালও যখন ১২ ওভারের ম্যাচে টস হেরে ব্যাটিংয়ে যেতে হয়—মেঘের ভেতর লুকিয়ে থাকা জলের মতো বাংলাদেশ দলেরও ছিল তেমন লুকোনো দুশ্চিন্তা। তার  ওপর সন্দেহজনক বোলিং অ্যাকশনের কারণে আগের ম্যাচে তাসকিন আহমেদ ও আরাফাত সানির নাম ওঠে আইসিসির লাল খাতায়। এই ভারও তো কম না!

কিন্তু সব মুখভার দূর করে দেওয়ার দায়িত্ব যেন নিজের ব্যাটে তুলে নেন তামিম ইকবাল। প্রথম ম্যাচে ব্যাটিং ইনিংসে তিনি ছিলেন নিঃসঙ্গ যোদ্ধা। শেষ বেলায় ম্যাচের বাঁক বদলের মহানায়ক মাশরাফি হলেও জয়ের নায়ক বাঁহাতি ওপেনারই। তবে সেদিন চেনা তামিমকে দেখা যায়নি সেভাবে। সময়ের চাহিদা মেনে বরং আশ্চর্য ধীরস্থির তাঁর ইনিংস। সেই সময়ের প্রয়োজনই আবার কাল বের করে আনে পুরনো তামিমকে। মাত্র ২৬ বলে ৪৭ রান করে আউট হন বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ হওয়ার আগে শেষ বলে। কিন্তু ততক্ষণে তিন চারের সঙ্গে চারটি ছক্কার ঝলসানো ব্যাটিংয়ে মুগ্ধতা ছড়ান তামিম। যে মুগ্ধতা ধর্মশালার কংক্রিট-গোলক থেকে বেরিয়ে কাংড়া উপত্যকা হয়ে ছড়িয়ে পড়ে গোটা ক্রিকেট ভুবনে।

সৌম্য সরকার আগের ম্যাচের মতো জীবন পান কালও। আগের খেলার মতোই সুযোগটা কাজে লাগাতে ব্যর্থ। তিনি ১৩ বলে ২০ করে আউট হলে কী হবে, তামিমের সঙ্গে ৪.৪ ওভারে ৬১ রানের জুটি হয়ে গেছে। দৈর্ঘ্য কমে আসা বৃষ্টিভেজা ম্যাচে আগে ব্যাটিংয়ের আতঙ্ক কেটে যায় ততক্ষণে। পরে সাব্বির রহমানের (১৩*) সঙ্গে ৩৩ রানের জুটিতে আরো স্বস্তি বাংলাদেশ ড্রেসিংরুমে। আট ওভারে ৯৪ রান তো কম নয়! কোনো কারণে আবার খেলা শুরু হলেও পুরো ইনিংস হয়তো হতো না। আয়ারল্যান্ডের সামনে থাকত পাঁচ ওভারে ৭২, ছয় ওভারে ৮৪, সাত ওভারে ৯৬ ও আট ওভারে ১০৮ রানের লক্ষ্য। ধর্মশালায় তাই বাংলাদেশকে কাঁদিয়ে আইরিশ রূপকথা রচিত হওয়ার আশঙ্কা ছিল না বললেই চলে।

কিন্তু ওসব অঙ্কের জটিল হিসাব-নিকাশে আর যেতে হয়নি কাউকে। বৃষ্টি থামাথামির লক্ষণ না দেখে স্থানীয় সময় রাত ১০টা ২০ মিনিটে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয় ম্যাচ। এর আগে ওমান-নেদারল্যান্ডসের দিনের প্রথম খেলাটি এক বল মাঠে না গড়িয়েই বাতিল। এই দুই ম্যাচের ফলে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সামনে এগোনোর সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায় ডাচ ও আইরিশদের। আর বাংলাদেশ অপেক্ষায় থাকে আনুষ্ঠানিকতা পূরণের। ওমানের বিপক্ষে শেষ ম্যাচ জিতে বিশ্বকাপের মূল পর্বে ওঠার।

হ্যাঁ, খেলাটি এখন অঘোষিত ‘ফাইনাল’ বটে! যারা জিতবে, তারাই উঠবে পরের পর্বে। কিন্তু প্রতিপক্ষ যখন ওমান, বাংলাদেশ দলের আত্মবিশ্বাস কেন আকাশ ছুঁবে না! আর কাল মাঝ রাতেও যে আকাশ থেকে অঝোরে ঝরছিল বর্ষণ, সেটিও দুশ্চিন্তায় ফেলতে পারছে না মাশরাফির দলকে। কোনো কারণে বাংলাদেশ-ওমান ম্যাচটি পরিত্যক্ত হলেও তো অসুবিধা নেই। কারণ পয়েন্ট সমান হলেও রানরেটে এগিয়ে থাকায় বিশ্বকাপের মূল পর্বে উঠবে বাংলাদেশই।

বাংলাদেশের বিশ্বকাপ আকাশ তখন নানা রঙের মেঘ সরিয়ে খলবলিয়ে হেসে উঠবে সাফল্যের রংধনুতে।

 

মন্তব্য