kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বিএনপির কাউন্সিলে অর্জন নিয়ে প্রশ্ন

মূল কাজ সম্পন্ন, বাকি শুধু আনুষ্ঠানিকতা!

এনাম আবেদীন   

১২ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



বিএনপির কাউন্সিলে অর্জন নিয়ে প্রশ্ন

প্রায় ছয় বছর পর দলের জাতীয় কাউন্সিল নিয়ে বিএনপির ভেতরেই প্রশ্ন উঠছে, এর মাধ্যমে দল কি ঘুরে দাঁড়াতে পারবে; নাকি লোক দেখানো একটি কাউন্সিল সেরে আর কমিটিতে কিছু নতুন মুখ ঢুকিয়ে দলটি আগের মতোই স্থবির হয়ে থাকবে?

এ প্রশ্ন যাঁরা তুলছেন তাঁদের মতে, ঘুরে দাঁড়াতে হলে অতীতের ‘ভুল’ আর বর্তমানের ‘ভয়’ থেকে দলকে বেরিয়ে আসতে হবে। আন্দোলন-সংগ্রাম করতে গিয়ে নেতাকর্মীরা মামলা-মোকদ্দমা ও সরকারের রোষানলে পড়ার ভয় কাটাতে পারছে না।

আর অতীতের ভুলভ্রান্তি নিয়ে দলে আজ পর্যন্ত কোনো ধরনের পর্যালোচনা হয়নি। শুধু ‘আওয়ামী লীগবিরোধী’ ভোটের ওপর নির্ভরশীল হয়েই বিএনপি রাজনীতি করছে এবং এভাবেই বিনা পরিশ্রমে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দলটি দুবার ক্ষমতায় এসেছে। কিন্তু এক-এগারোর পর সৃষ্ট বিপর্যয় থেকে দলটি আজ পর্যন্ত উঠে দাঁড়াতে পারেনি। এ অবস্থায় আসন্ন জাতীয় কাউন্সিলের ফলাফল নিয়ে তাই প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক। প্রশ্ন আছে বিএনপির শুভাকাঙ্ক্ষী রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মনেও।

বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ মনে করেন, ব্যাপক জনসমর্থন থাকা সত্ত্বেও অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে কতগুলো দুর্বলতার কারণে বিএনপি কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছতে পারছে না। তাঁর মতে, কাউন্সিলের মাধ্যমে হয়তো সাংগঠনিকভাবে বিএনপি কিছুটা শক্তিশালী হবে; কিন্তু সেটিই যথেষ্ট নয়। দলটিকে পজিটিভ অ্যাপ্রোচ নিয়ে জনগণের কাছে যেতে হবে। যুগোপযোগী কর্মসূচি প্রণয়নের মাধ্যমে জনগণকে বলতে হবে ‘বিএনপি এই, এই আমাদের আদর্শ ও রাজনীতি’। তিনি বলেন, শুধু অ্যান্টি-আওয়ামী লীগ রাজনীতি বা ভোটের ওপর নির্ভর করলেই চলবে না। সমাজে গ্রহণযোগ্য ও প্রজ্ঞাসম্পন্ন নেতাদেও  দলের সামনের কাতারে আনতে হবে। বৈশ্বিক বাস্তবতায় সবাইকে বোঝাতে হবে বিএনপি একটি মধ্য ও উদারপন্থী দল।

অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহর মতে, একটি রাজনৈতিক দলের কাউন্সিলের মূল লক্ষ্য হলো, সাংগঠনিকভাবে সেই দলকে সক্রিয় করার জন্য কতগুলো পদক্ষেপ গ্রহণ করা। সেটি হয়তো বিএনপির কাউন্সিলে হবে; কিন্তু এর পাশাপাশি এ দেশের জনগণের প্রত্যাশিত এবং ইতিবাচক কর্মসূচি প্রণয়ন বিএনপির কাছে এখন সময়ের দাবি। বিএনপিকে জনগণের সামনে সেই কল্যাণকর ও যুগোপযোগী রাজনীতি নিয়ে মাঠে নামতে হবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের মতে, প্রথমত, কাউন্সিলের মাধ্যমে গত কয়েক বছরের স্বৈরশাসনে ক্ষতবিক্ষত বিএনপি সাংগঠনিকভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি সঞ্চয় করবে। তবে এটি অনস্বীকার্য যে দলের নেতৃত্বে কিছু পরিবর্তনই যথেষ্ট নয়। তিনি বলেন, ‘কাউন্সিলকে ঘিরে আমাদের প্রত্যাশা হলো এমন রাজনীতি পরিষ্কার করা, যাতে রাষ্ট্রীয় ও দলীয় ক্ষেত্রে সব পর্যায়ে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিচর্চার সুযোগ তৈরি হয়। পাশাপাশি ইতিবাচক কর্মসূচির মাধ্যমে মধ্য ও উদার পন্থী দলের অবস্থান বজায় রেখেই বিএনপিকে জাতীয়তাবাদী শক্তির নেতৃত্ব দিতে হবে। ’ তাঁর মতে, বিএনপির এ উদ্দেশ্যও আসছে কাউন্সিলের মাধ্যমে সফল হবে।

সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব অধ্যাপক ড. বদরুদ্দোজা চৌধুরী কাউন্সিলের শুভ কামনা করেছেন। তবে সরাসরি কোনো পরামর্শ দিতে অপারগতা জানিয়ে তিনি বলেন, এটুকুই শুধু বলব, সংকট থেকে বের হতে হলে বিএনপিকে জনগণের কাছে যেতে হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেন, নিঃসন্দেহে জিয়াউর রহমানের বিএনপি এখন নেই। জিয়ার আদর্শে ফিরে না গেলে বিএনপির সোজা হয়ে দাঁড়ানো কঠিন হবে বলে মনে করেন তিনি।

এদিকে বিএনপির মতো একটি দলের জাতীয় কাউন্সিলে যা ঘটে বা হয় তা ইতিমধ্যে প্রায় সম্পন্ন হয়ে গেছে বলে সূত্র জানায়। অর্থাৎ চেয়ারপারসন পদে খালেদা জিয়া এবং সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান পদে তারেক রহমান ইতিমধ্যে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে গেছেন। এখন যা হবে তা কেবল গণজমায়েত বা শোডাউন; যদিও দলের গঠনতন্ত্রের ৮-এর (ক) ধারা অনুযায়ী জাতীয় কাউন্সিলরদের সরাসরি ভোটে সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতার মাধ্যমে তিন বছরের জন্য চেয়ারম্যান নির্বাচনের বিধান রয়েছে।

সূত্র মতে, এখন বাকি রয়েছে কেবল জাতীয় কাউন্সিলের আনুষ্ঠানিকতা। সকালে উদ্বোধনী অধিবেশনে বক্তৃতা করবেন খালেদা জিয়া। এরপর কাউন্সিলররা হাত তুলে সম্মতি জানিয়ে দলের সব সিদ্ধান্তের দায়িত্ব খালেদা জিয়ার হাতে তুলে দেবেন। পরবর্তী দু-এক দিনের মধ্যে ইচ্ছা অনুযায়ী চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া জাতীয় নির্বাহী কমিটিসহ বিভিন্ন কমিটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ঘোষণা করবেন।

কমিটি ঘোষণার মধ্যে অন্যতম ইস্যু হলো মহাসচিব নিয়োগ। যত দূর জানা গেছে, এ ক্ষেত্রে কেবল মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ভারপ্রাপ্তের জায়গায় ভারমুক্ত অর্থাৎ পূর্ণ মহাসচিব ঘোষণা করা হবে। আর স্থায়ী কমিটির ১৯টির মধ্যে পাঁচটি শূন্যপদ পূরণ করা হবে, যার এখতিয়ার একমাত্র খালেদা জিয়ার। অবশ্য নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র বলছে, মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটির সদস্যদের নাম কাউন্সিলেই ঘোষণা হতে পারে। খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন ও ড. আর এ গনি মারা যাওয়ায় এবং সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ফাঁসি কার্যকর হওয়ায় কমিটির তিনটি পদ শূন্য হয়েছে। এ ছাড়া বার্ধক্যজনিত অসুস্থতার কারণে এম শামসুল ইসলাম ও সারোয়ারী রহমানকে সরিয়ে তাঁদের জায়গায় নতুন মুখ নেওয়া হবে। স্থায়ী কমিটির বাদবাকি নেতারা যথারীতি তাঁদের পদে বহাল থাকবেন। কাউকে সরানো হবে না। দলের গঠনতন্ত্রের ১১ ধারা অনুযায়ী নির্বাহী কমিটিতে একজন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব থাকবেন। ওই পদ বিলোপ বা উঠিয়ে দেওয়ার জন্য এখন পর্যন্ত গঠনতন্ত্র সংশোধনী কমিটিতে কোনো প্রস্তাব আসেনি। ফলে ওই পদে কে যাবেন তা নিয়ে দলের মধ্যে নানা আলোচনা ও গুঞ্জনের পাশাপাশি চলছে তদবির লবিংও। তবে যত দূর জানা গেছে, যুগ্ম মহাসচিব মো. শাহজাহান অথবা রুহুল কবীর রিজভী এই দুজনের যেকোনো একজনকে ওই পদ দেওয়া হবে। এ ছাড়া দলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপনকে দেওয়া হবে গুরুত্বপূর্ণ পদ। একটি সূত্রের মতে, তাঁকে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক সচিব বা উপদেষ্টা করা হতে পারে।   

পর্যবেক্ষক, শুভাকাঙ্ক্ষীসহ দলের মধ্যে আলোচনা-পরামর্শ আছে যে বিএনপি চেয়ারপারসনকে রাত ৮টার পর অফিসে যাওয়া বন্ধ করে দলের কার্যক্রম শুরু করতে হবে দিনের আলোয়। পাশাপাশি গুলশান কার্যালয়ের সীমাবদ্ধ গণ্ডি থেকে বেরিয়ে খালেদা জিয়ার গণমুখী হওয়া দরকার। বলা হচ্ছে, প্রয়োজনে সপ্তাহে চেয়ারপারসনকে দু-তিন দিন বসতে হবে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে। বদলে ফেলতে হবে গুলশান কার্যালয়ের খোলনলচে। তবে এসব পরামর্শ কেউ প্রকাশ্যে বা নাম প্রকাশ করে দিতে রাজি নন।

তবে তাঁদের ভাষ্য মতে, তাঁরা দলের ভালোর জন্যই আড়ালে হলেও বলতে চান, রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আনতে হবে। চরম ডান বা প্রতিক্রিয়াশীলতা পরিহার করে উদার ও মধ্য পন্থী দল হিসেবে আগের অবস্থানেই থাকতে হবে বিএনপিকে। শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কর্মীদের আস্থার সম্পর্ক তৈরি হতে হবে। চেয়ারপারসনকে আস্থায় নিতে হবে দলের সিনিয়র নেতাদের। সর্বোপরি দলে ঐক্য ফিরিয়ে আনতে হবে। আর এগুলো করা না গেলে বিএনপি আগের অবস্থানেই থেকে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

কারণ তাঁদের মতে, বর্তমান বাস্তবতায় একদিকে আন্দোলন করার মতো পরিস্থিতি দেশে নেই। অন্যদিকে সব দলের অংশগ্রহণে নতুন একটি নির্বাচনের জন্য আন্তর্জাতিক মহলের পর্যাপ্ত চাপও এখন পর্যন্ত তৈরি করা সম্ভব হয়নি, যদিও বিএনপি নেতারা এ ব্যাপারে লবিং বা তৎপরতা অব্যাহত রেখেছেন। কিন্তু ঘরে-বাইরে চাপ, অর্থাৎ আন্দোলনের পাশাপাশি কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগ না করা গেলে সরকারকে কাবু করা যাবে বলে কেউই মনে করেন না। তাই ইতিবাচক রাজনীতি ও বার্তা নিয়ে জনগণের সঙ্গে বিএনপিকে সম্পৃক্ত করাই দলের সামনে অন্যতম চ্যালেঞ্জ বলে মনে করা হচ্ছে।

আবার অতীতের ভুলভ্রান্তি নিয়ে দলের কোনো পর্যায়ে আজ পর্যন্ত মূল্যায়ন বা পর্যালোচনা হয়নি। ‘পাবলিক পারসেপশন’ অনুযায়ী দুর্নীতবাজ বলে পরিচিত নেতাদের বিরুদ্ধেও সর্বশেষ কাউন্সিলে কোনো অবস্থান স্পষ্ট করেনি দলটি। আলোচিত ‘হাওয়া ভবন’ বিএনপির উপকার নাকি ক্ষতি করেছে—এ আলোচনা ভেতরে থাকলেও নেতাকর্মী কোনো দিন তা খোলাসা করার সুযোগ পায়নি। বলা হয়, অধ্যাপক ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের মতো একজন ‘অথর্ব’ ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি করার কারণে বিএনপি ডুবেছে। কিন্তু দলের নেতা না হওয়া সত্ত্বেও কারা এবং কী কারণে তাঁকে রাষ্ট্রপতি করল, সে আলোচনা চেয়ারপারসনের সামনে আজ পর্যন্ত তুলে ধরা যায়নি। অনেকের মতে, অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরীর মতো রাষ্ট্রপতি থাকলে হয়তো এক-এগারো পরবর্তী পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যেত। কিন্তু তুচ্ছ কারণে ২০০২ সালের ২১ জুন ওই পদ থেকে তাঁকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়। বরং সংস্কার-অসংস্কার প্রশ্ন তুলে ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের জন্য দলের একটি অংশ বিএনপিতে বিভাজন তৈরি করেছে। বলা হচ্ছে, শুধু ভারতের সমর্থনের কারণে একতরফা নির্বাচন করেও ক্ষমতায় টিকে আছে আওয়ামী লীগ। কিন্তু ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপিকে সমর্থন করেও পরে কী কারণে দেশটি বিগড়ে গেল, তার কারণ বা কারা এ জন্য দায়ী তা আজ পর্যন্ত আলোচনা হয়নি। অনেকের মতে, নাইন-ইলেভেনের তাৎপর্য বোঝার চেষ্টা বিএনপি অনেক দেরিতে করেছে। ফলে জঙ্গিবাদের তকমা কিছুটা হলেও বিএনপির ললাটে লেপ্টে গেছে। আর এ কারণেই জঙ্গিবাদ বা সন্ত্রাসবাদ প্রশ্নে আওয়ামী লীগ যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্বের এক ধরনের পরোক্ষ সমর্থন পাচ্ছে বলে অনেকে মনে করেন। প্রধান শরিক জামায়াতে ইসলামী বিএনপির জন্য ‘প্রয়োজন নাকি বোঝা’—এ আলোচনা সর্বত্র থাকলেও ইস্যুটি এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। বরং যুদ্ধাপরাধ মামলায় একের পর এক জামায়াত নেতার ফাঁসি কার্যকর হওয়ায় কৌশলগতভাবে বিএনপি বিপাকে আছে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ব্যাপারে খালেদা জিয়ার তেমন আগ্রহ ছিল না। কিন্তু প্রধান শরিক জামায়াত ওই নির্বাচনে বিএনপিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য সবচেয়ে বেশি তৎপরতা চালিয়েছে, যে ঘটনা বিএনপিতে এখনো রহস্যময় হয়ে আছে।

এর আগে ২০০৭ সালের ২২ জানুয়ারির নির্বাচনে (বাতিল হওয়া) আওয়ামী লীগের অংশ নেওয়ার ঘোষণা সত্ত্বেও বিএনপির অদৃশ্য শক্তির ইঙ্গিতে মহাজোটের শরিক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সব কয়টি মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়। অনেকের মতে, তৎকালীন বিএনপির বাড়াবাড়ির কারণে ওই ঘটনা ঘটে। অথচ ওই ঘটনা না ঘটলে বাংলাদেশের ইতিহাস অন্য রকম হতো, এমনকি এক-এগারোর ঘটনা না-ও ঘটতে পারত।

অথচ এসব পরিস্থিতি সামগ্রিকভাবে পর্যালোচনা না করে শুধু ক্ষমতাসীন মহলের ওপর দায় চাপিয়ে দায়িত্ব শেষ করেছে দলটি।


মন্তব্য