kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


কক্সবাজারে কার্গো বিমান বিধ্বস্ত

ইউক্রেনের নাগরিক এখন শঙ্কামুক্ত

চট্টগ্রাম অফিস   

১১ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



ইউক্রেনের নাগরিক এখন শঙ্কামুক্ত

ভ্লাদিমার কুলতোনভ

মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে আসা ইউক্রেনের নাগরিক ভ্লাদিমার কুলতোনভ চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও হাসপাতালের পরিচালক জানিয়েছেন, তিনি শঙ্কামুক্ত।

পুরোপুরি সুস্থ হতে কিছুদিন সময় লাগবে। তাঁর বয়স ৪০ বছর।

গত বুধবার সকালে চিংড়ি পোনাবাহী কার্গো বিমান কক্সবাজারে বঙ্গোপসাগরে পড়ে বিধ্বস্ত হয়। এতে বেসরকারি বিমান সংস্থা ট্রু এভিয়েশনের কার্গো বিমানটিতে থাকা পাইলটসহ ইউক্রেনের তিন নাগরিক নিহত হন। গুরুতর আহত ওই বিমানের নেভিগেটর কুলতোনভকে উদ্ধার করে কক্সবাজার থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামে নিয়ে আসা হয়।

ভয়াবহ ওই দুর্ঘটনায় প্রাণে বেঁচে যাওয়া বিমানের নেভিগেটরকে বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দুর্ঘটনায় তাঁর দুই পা ভেঙে গেছে। এ ছাড়া শরীরের নানা স্থানে জখমপ্রাপ্ত হয়েছেন এই বিদেশি নাগরিক। হাসপাতালে ভর্তির পর থেকে অর্থোপেডিক, সার্জারি, ইউরোলজি, মেডিসিনসহ বিভিন্ন বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা তাঁকে দেখছেন।

এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খন্দকার শহিদুল গণি গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘তাঁকে সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা তাঁকে দেখভাল করছেন। ’

সরেজমিনে দেখা যায়, দুই পায়ে প্লাস্টার লাগানো ওই নাগরিক বেডে শুয়ে আছেন। মুখমণ্ডলসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে ক্ষতের চিহ্ন। মাঝে মাঝে মোবাইলে কল এলে রিসিভ করছেন। পাশে বেসরকারি ওই বিমান সংস্থার লোকজন বসে খোঁজখবর নিচ্ছেন।

হাসপাতালে দেখতে যাওয়া লোকজন ও চিকিৎসকরা জানান, বিমানটি যেভাবে বিধ্বস্ত হয়েছে তা থেকে জীবিত বের হয়ে আসা কঠিন ছিল। দুর্ঘটনায় তিনজন মারা গেছেন। এ থেকে বোঝা যায় এটি কত মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটেছিল। এর মধ্যে তিনিই প্রাণে বেঁচে গেছেন।

নিহত তিনজনের লাশ হিমঘরে নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার থেকে জানান, কক্সবাজারে বুধবারের দুর্ঘটনাকবলিত ইউক্রেনের এএন-২৬ কার্গো বিমানটির ব্ল্যাকবক্স দুটি উদ্ধার করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশা করছেন দ্রুতই কার্গো বিমানটির দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানা যাবে। সিভিল এভিয়েশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ইতিমধ্যে ব্ল্যাকবক্স ঢাকায় নিয়ে গেছেন।

সাগরে দুর্ঘটনাকবলিত বিমান থেকে বুধবার বিকেলে উদ্ধার করা পাইলট ইউক্রেনের মুসলিম নাগরিক ক্যাপ্টেন মুরাদ গাফারভ ও কো-পাইলট ইভান পেট্র ও ফ্লাইট ইঞ্জিনিয়ার কুলিশ আন্দ্রের লাশের ময়নাতদন্ত গতকাল কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে সম্পন্ন করা হয়। হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা. সুলতান আহমদ সিরাজীর নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের মেডিক্যাল বোর্ড এই ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে।

কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. পুচনু রাখাইন গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কার্গো বিমান দুর্ঘটনায় ইউক্রেনের নিহত তিনজন ক্রুর লাশই বর্তমানে হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়েছে। ’ তিনি আরো জানান, বিমানের এদেশীয় এজেন্ট ট্রু এভিয়েশন লিমিটেডের স্থানীয় ব্যবস্থাপক লাশগুলো হিমঘরে রাখার দৈনিক খরচ প্রদানসহ যাবতীয় কাজ করছেন। ট্রু এভিয়েশন ব্যবস্থাপক এ প্রসঙ্গে জানান, তাঁদের এজেন্টের পক্ষে যোগাযোগ করা হচ্ছে লাশগুলো স্বদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য।

কক্সবাজারে কার্গো বিমানটি দুর্ঘটনার পর নানা সূত্রে জানা গেছে, হতভাগ্য ক্রুরা কক্সবাজারে আমারি রিসোর্ট নামের একটি হোটেলে থাকতেন। কিন্তু বিমানেই তাঁদের ব্যবহৃত যাবতীয় মূল্যবান জিনিসপত্র রাখতেন। এমনকি ক্রুরা তাঁদের টাকা বা মূল্যবান জিনিসপত্র রাখতেন বিমানের ভেতর। কক্সবাজারে বিমানের কমিশন এজেন্টের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে এসব কথা জানান।


মন্তব্য