আসামিকে জামিন দিয়ে পাসপোর্টও ফেরত-334639 | প্রথম পাতা | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

শনিবার । ১ অক্টোবর ২০১৬। ১৬ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৮ জিলহজ ১৪৩৭


সোনা চোরাচালান মামলা

আসামিকে জামিন দিয়ে পাসপোর্টও ফেরত দেওয়া হয়

আশরাফ-উল-আলম   

১১ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



আসামিকে জামিন দিয়ে পাসপোর্টও ফেরত দেওয়া হয়

সোনা চোরাচালান মামলার আসামিকে জামিন দেওয়ার পাশাপাশি তাঁর পাসপোর্টও ফেরত দিয়েছেন ঢাকার একটি আদালত। পাঁচটি সোনার বারসহ গ্রেপ্তার হওয়া ওই আসামিকে জামিন দেওয়া হয় গত বছর জজ আদালতে বার্ষিক ছুটির ঠিক আগের দিন। আসামির জব্দ করা পাসপোর্টও ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয় গত ২৯ ফেব্রুয়ারি।

ঢাকা মহানগর তৃতীয় অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত ও মহানগর বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক মো. জিয়াউর রহমান এসব আদেশ দেন। জামিনপ্রাপ্ত আসামির নাম মো. সুরুজ মাদবর। মামলার এজাহার অনুযায়ী মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী থানার জ্যসোলং গ্রামের বাসিন্দা তিনি।

সংশ্লিষ্ট আদালতের অতিরিক্ত পিপি মো. আসাদুজ্জামান রচি আসামি সুরুজের জামিন ও তাঁর পাসপোর্ট ফেরত দেওয়ার আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘রাষ্ট্রপক্ষের আপত্তি ছিল। আদালতে বিরোধিতাও করা হয়েছে। তবে আদালত আসামির জামিন দেওয়া ও পাসপোর্ট ফেরত দেওয়া যুক্তিযুক্ত মনে করেছেন বিধায় জামিন দিয়েছেন।’

জানা যায়, ২০১৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর দুপুর ২টার দিকে মালয়েশিয়া থেকে আসা একটি ফ্লাইট থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামেন মো. সুরুজ মাদবর। ইমিগ্রেশন কার্যক্রম শেষ করে লাগেজ সংগ্রহ করে তিনি কাস্টমস আগামনী হলের দিকে যান। তাঁর কাছে শুল্কযোগ্য কোনো সোনা বা অন্যান্য জিনিস আছে কি না জানতে চান শুল্ক কর্মকর্তারা। যাত্রী সুরুজ অস্বীকার করেন। পরে তাঁর দেহ তল্লাশি করে বাম পায়ের মোজার মধ্য থেকে তিনটি ও ডান পায়ের মোজার মধ্য থেকে দুটি সোনার বার পাওয়া যায়। পাঁচটি সোনার বারের ওজন পাঁচ শ গ্রাম, যার মূল্য ২০ লাখ টাকা। শুল্ক কর্মকর্তারা সঙ্গে সঙ্গে সোনার বার ও যাত্রী সুরুজের পাসপোর্ট জব্দ করেন।

পরে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মোস্তফা জামাল বাদী হয়ে সোনা চোরাচালানের অভিযোগে বিমানবন্দর থানায় ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫বি-এর ১(বি) ধারায় মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত করেন বিমানবন্দর থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ ফারুক হোসেন। তদন্তকালে আসামি দোষ স্বীকার করে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জবানবন্দি দেন। পরে ২০১৪ সালের ১০ ডিসেম্বর আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করা হয়। বিচারের জন্য ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ ও বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-৪-এ স্থানান্তর করা হয়। আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয় গত বছর ১৫ এপ্রিল।

মামলার নথি থেকে দেখা যায়, দীর্ঘদিনের হাজতবাস, আসামির অসুস্থতা বিবেচনায় আসামিকে ২০ হাজার টাকার মুচলেকায় স্থানীয় এক ব্যক্তি ও এক আইনজীবীর জিম্মায় জামিন দেওয়া হয়। এর আগে এই আদালত সাতবার আসামির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। সর্বশেষ জামিন নামঞ্জুর হয় গত বছর ১৭ নভেম্বর। ওই দিনের আদেশে বলা হয়, আসামির হাজতবাসের সময় কম। অন্যদিকে এ পর্যায়ে আসামিকে জামিন দিলে সাক্ষীদের আদালতে এসে সাক্ষ্য প্রদানে প্রতিবন্ধকতা বা বাধা সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।

আদালতে মামলা পরিচালনাকারী অতিরিক্ত পিপি বলেন, ‘মাত্র ১৫ দিন আগে সাক্ষীরা আদালতে এসে নিরাপদে সাক্ষ্য দিতে পারবেন না বলে আদালত আশঙ্কা করলেন। ১৫ দিন পরে এমন কি ঘটল যে সাক্ষীরা নিরাপদ হয়ে গেলেন—তা বুঝলাম না।’

আদালত সূত্রে আরো জানা যায়, আসামি জামিনে বেরিয়ে গত ২৯ ফেব্রুয়ারি তাঁর জব্দ করা পাসপোর্ট নিজের জিম্মায় ফেরত চেয়ে আবেদন জানান। আদালত শুনানি শেষে আদেশে উল্লেখ করেন, অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য পাসপোর্ট জব্দ থাকলে দরখাস্তকারীর ব্যক্তিগত ও বিভিন্ন কাজের ক্ষেত্রে ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। আসামির আবেদন মানবিক বিবেচনায় আদালতের তলব মতে হাজির করার শর্তে পাসপোর্ট আসামির জিম্মায় দেওয়া হলো।

অতিরিক্ত পিপি আসাদুজ্জামান বলেন, পাসপোর্ট জিম্মায় নিয়ে আসামি দেশ ছেড়ে পালাতেও পারেন। আবার সোনা চোরাচালানেও জড়িয়ে যেতে পারেন।

গত বছর ১ ডিসেম্বর আরো একটি সোনা চোরাচালান মামলার আসামি আবদুর রহমানকে জামিন দেন একই আদালত। কালের কণ্ঠে গত ৫ মার্চ ‘হাইকোর্টে জামিন না মিললেও নিম্ন আদালতে মিলেছে’ শিরোনামে এ-সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়।

মন্তব্য