ষোড়শ সংশোধনীর বৈধতা নিয়ে রিটের রায় ৫-334638 | প্রথম পাতা | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১৪ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৬ জিলহজ ১৪৩৭


বিচারক অপসারণ ক্ষমতা

ষোড়শ সংশোধনীর বৈধতা নিয়ে রিটের রায় ৫ মে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১১ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



ষোড়শ সংশোধনীর বৈধতা নিয়ে রিটের রায় ৫ মে

সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের অপসারণ ক্ষমতা জাতীয় সংসদের হাতে পুনর্বহাল-সংক্রান্ত সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দাখিল করা রিট আবেদনের ওপর আগামী ৫ মে রায় দেবেন হাইকোর্ট। এ বিষয়ে জারি করা রুলের ওপর গতকাল বৃহস্পতিবার শুনানি শেষ হওয়ায় বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে হাইকোর্টের তিন সদস্যের বিশেষ বেঞ্চ রায়ের দিন নির্ধারণ করেন। বেঞ্চের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল।

গতকাল রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম এবং রিট আবেদনকারীপক্ষে অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ শুনানি করেন। এ ছাড়া এ রিট আবেদনের ওপর আদালতে অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে অভিমত দেন ড. কামাল হোসেন, ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম, ব্যারিস্টার রোকনউদ্দিন মাহমুদ, ব্যারিস্টার আজমালুল হোসেন কিউসি। সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল মাহমুদুল ইসলামকে অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে রাখা হলেও অসুস্থতার কারণে তিনি শুনানিতে অংশ নেননি।

শেষ দিনে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম শুনানিতে বলেন, জনগণের প্রতিনিধিদের মাধ্যমে বাহাত্তরে সংবিধান প্রণীত হয়েছিল, যার ভিত্তি ছিল বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ ও স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র। অথচ সামরিক ফরমানের মাধ্যমে এই সংবিধানে পরিবর্তন আনা হয়েছিল, যেটি সংবিধানকে কলঙ্কিত করে। জাতিকে কলঙ্ক থেকে মুক্ত করতে এবং বাহাত্তরের আদি সংবিধানে ফিরে যেতেই পঞ্চদশ ও ষোড়শ সংশোধনী এনেছে সরকার। তিনি বলেন, ষোড়শ সংশোধনীতে বলা হয়েছে, উচ্চ আদালতের বিচারকদের অসদাচরণ বা অসামর্থ্য সম্পর্কিত অভিযোগ তদন্তের জন্য পৃথক আইন করা হবে। ওই আইনের খসড়া প্রস্তুত করেছে সরকার। আইনটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। আইন চূড়ান্ত হলেই ষোড়শ সংশোধনী কার্যকর হবে। এই আইন প্রণয়নের আগেই ষোড়শ সংশোধনী চ্যালেঞ্জ করে যে রিট করা হয়েছে তা গ্রহণযোগ্য নয়।

জবাবে অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ আদালতে বলেন, আইনজীবীরা অফিসার অব দ্য কোর্ট। বিচার বিভাগের ওপর চাপ আসছে বা এর স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হচ্ছে—এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে আইনজীবীরা সংক্ষুব্ধ হয়ে আদালতে প্রতিকার চাইতে পারেন।

১৯৭২ সালে প্রণীত মূল সংবিধানে সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা জাতীয় সংসদের হাতে ছিল। ১৯৭৫ সালের ২৪ জানুয়ারি সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে এ ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে অর্পণ করা হয়। পরে জিয়াউর রহমানের শাসনামলে সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা দেওয়া হয় সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের হাতে। ওই ক্ষমতা পুনরায় সংসদের কাছে ফিরিয়ে নিতে ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী পাস করা হয়। ওই বছরের ২২ সেপ্টেম্বর তা গেজেট আকারে প্রকাশ পায়। এ অবস্থায় সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ওই বছরের ৫ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের ৯ আইনজীবী হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। এ আবেদনের ওপর প্রাথমিক শুনানি শেষে হাইকোর্ট ওই সংশোধনী কেন অবৈধ, বাতিল ও সংবিধান পরিপন্থী ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন। এই রুল শুনানির জন্য প্রধান বিচারপতি তিন সদস্যের বিশেষ বেঞ্চ গঠন করেন। রুলের ওপর শুনানি শুরু হয় গত বছর ২১ মে। মোট ১৭ কার্যদিবস শুনানি হয়।

 

 

 

মন্তব্য