kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


নন-ক্যাডার সবাই পাবেন নবম গ্রেড

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১১ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



নন-ক্যাডার সবাই পাবেন নবম গ্রেড

প্রথম শ্রেণির নন-ক্যাডার কর্মকর্তারা জাতীয় বেতন কাঠামোর নবম গ্রেডেই যোগদান করবেন। আর ক্যাডার কর্মকর্তারা একটি ইনক্রিমেন্টসহ নবম গ্রেডে যোগ দেবেন।

অষ্টম বেতন কাঠামোতে ক্যাডার ও নন-ক্যাডারের মধ্যে সৃষ্ট বৈষম্য এভাবে সুরাহা করল সরকার। এ ছাড়া সরকারি কলেজের চতুর্থ গ্রেডে থাকা শিক্ষকদের ৫০ শতাংশকে ওপরের গ্রেডে স্থায়ীভাবে পদোন্নতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় .শিক্ষকদের জন্য আরেকটি বৈঠকে বসবে বেতন বৈষম্য দূরীকরণ-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

আগে উভয় ধরনের প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তারা নবম গ্রেডে যোগ দিতেন। নতুন বেতন কাঠামোয় ক্যাডার কর্মকর্তাদের জন্য অষ্টম গ্রেড নির্ধারণ করে নন-ক্যাডারদের নবম গ্রেডে রাখা হয়। এতে নন-ক্যাডার কর্মকর্তাদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন গবেষণাধর্মী প্রতিষ্ঠানের নন-ক্যাডার কর্মকর্তাদের অষ্টম গ্রেড দেওয়ার চিন্তা করেছিল সরকার। তবে গতকাল বেতন বৈষম্য নিরসন-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ক্যাডার, নন-ক্যাডার উভয়েই নবম গ্রেডে চাকরিতে যোগ দেবেন। ক্যাডার কর্মকর্তারা যোগদানের সময়ই একটি করে ইনক্রিমেন্ট পাবেন। বিভিন্ন সংস্থায় সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তারাও একটি করে ইনক্রিমেন্ট নিয়ে যোগদান করবেন চাকরিতে।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সভাপতিত্বে সচিবালয়ে বেতন বৈষম্য দূরীকরণ-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বৈঠকের পর অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বেতন কাঠামোর অষ্টম ও নবম গ্রেড নিয়ে একটা সমস্যা ছিল। একই সঙ্গে গ্রেডের কিছু পরিবর্তনের ফলে এই সমস্যা দেখা দিয়েছিল। বেতন নির্ধারণে বৈষম্য হচ্ছিল। এই সমস্যার সমাধান করে দিয়েছি। ’

অর্থবিভাগের সিনিয়র সচিব মাহবুব আহমেদ জানান, ক্যাডার অফিসার আর সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তারা একই গ্রেডে বেতন পাবেন। সবাইকে নবম গ্রেডে আনা হয়েছে। সব প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তার চাকরিতে যোগদানকালে বেতন নবম গ্রেডে আনা হলেও ক্যাডার কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন সংস্থায় সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্তদের একটা করে ইনক্রিমেন্ট দিয়ে বেতন নির্ধারণ করা হবে।

সপ্তম বেতন স্কেলে চতুর্থ গ্রেডে থাকা সরকারি কলেজের অধ্যাপকদের ৫০ শতাংশ সিলেকশন গ্রেড পেয়ে তৃতীয় গ্রেডে পৌঁছাতেন। নতুন বেতন কাঠামোয় সিলেকশন গ্রেড প্রত্যাহার করায় তাঁদের সে সুযোগ হাতছাড়া হয়। ফলে আন্দোলনে নেমে কর্মবিরতিও পালন করেন শিক্ষকরা।

অর্থসচিব মাহবুব আহমেদ জানান, বেতন বৈষম্য দূরীকরণ-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে চতুর্থ গ্রেডে থাকা সরকারি কলেজের শিক্ষকদের ৫০ শতাংশকে পদোন্নতি দেওয়া হবে। ফলে সিলেকশন গ্রেড না থাকলে পদোন্নতি পেয়ে তাঁরা তৃতীয় গ্রেডভুক্ত হবেন। আগে যে ৫০ শতাংশ সিলেকশন গ্রেড পেতেন, সেই ৫০ শতাংশকে পদোন্নতি দিয়ে দেওয়া হবে। এভাবেই বিষয়টাকে সমাধান করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দাবি বিবেচনায় নিয়ে সরকার একটা উপায় ভেবে রেখেছে। তবে তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। বেতন বৈষম্য-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির পরের বৈঠকে শিক্ষক নেতাদের নিয়ে বসে বিষয়টি চূড়ান্ত করা হবে।


মন্তব্য