আয়ারল্যান্ডকে হারালে উড়ে যাবে অনেক-334629 | প্রথম পাতা | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১২ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৪ জিলহজ ১৪৩৭


আয়ারল্যান্ডকে হারালে উড়ে যাবে অনেক প্রশ্ন

নোমান মোহাম্মদ, ধর্মশালা থেকে   

১১ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



আয়ারল্যান্ডকে হারালে উড়ে যাবে অনেক প্রশ্ন

আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে আজ গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ বাংলাদেশের। তারই প্রস্তুতি হিসেবে গতকাল নিজেদের ঝালাই করে নেন মুশফিক-সাব্বিররা। ছবি : কালের কণ্ঠ

কাগজ-কলমের হিসাবে এর চেয়ে ভালো অবস্থায় থাকতে পারত না বাংলাদেশ। নিজেদের প্রথম ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে জয়, আয়ারল্যান্ডের আবার হার ওমানের কাছে—আর কী চাই! আজ আইরিশদের বিপক্ষে জিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মূল পর্বের পথে বড় পদক্ষেপ এঁকে দেওয়া তাই কেবল আনুষ্ঠানিকতার অপেক্ষাই তো হওয়ার কথা।

কিন্তু সত্যিই কি সে অবস্থায় আছে মাশরাফি বিন মর্তুজার দল?

নেই। আর তা অনেকগুলো কারণে। প্রথমত, ডাচদের অমন প্রবল প্রতিরোধের সামনে পড়ে নিজেদের টি-টোয়েন্টি সামর্থ্য নিয়ে আবার কিছুটা দ্বিধা বাংলাদেশ ক্যাম্পে। দ্বিতীয়ত, ওই ম্যাচে দুই বোলার আরাফাত সানি ও তাসকিন আহমেদের বোলিং অ্যাকশন সন্দেহজনক মনে হয়েছে ম্যাচ অফিশিয়ালদের। তৃতীয়ত, ইনজুরি কাটিয়ে মুস্তাফিজুর রহমানের খেলা নিয়ে আজও সংশয়। চতুর্থত, বাংলাদেশের ব্যাটিং নিয়ে পুরনো

দুশ্চিন্তা যাওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। পঞ্চমত, ষষ্ঠতও হয়তো পাওয়া যাবে আঁতিপাঁতি খুঁজলে। অস্বস্তির খচখচানি তাই থাকবে না কেন?

আবার অর্ধেক গ্লাস শূন্যের মতো অর্ধেক গ্লাস পূর্ণও তো চাইলে দেখা যায়। ডাচরা কাঁপিয়ে দিলেও শেষ পর্যন্ত জিতেছে বাংলাদেশ। সানি-তাসকিনের বোলিং অ্যাকশন প্রশ্নবিদ্ধ হলেও আজ তো খেলতে পারবেন! মুস্তাফিজের অভাব যেমন অন্য পেসাররা মিলে ভুলিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। আর ব্যাটিংয়ে সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিমের মতো মহাতারকারা নিশ্চয়ই ম্যাচের পর ম্যাচ অমন নিবু নিবু জ্বলবেন না। আর আয়ারল্যান্ডেরও বাংলাদেশের বিপক্ষে সীমিত ওভারে ক্রিকেটে জয়ের রেকর্ড থাকলে কী হবে, গত দেড় বছরের এই বদলে যাওয়া বাংলাদেশের সামনে যে আগে পড়তে হয়নি তাদের!

আজ তাই প্রস্তুতি প্রশ্নবিদ্ধ হলেও আইরিশদের বিপক্ষে বাংলাদেশের জয়ের সম্ভাবনায় চোখ রাঙানি নেই খুব একটা।

আগের দিন ম্যাচের পর কাল পুরো দলের অনুশীলন ছিল না। ঐচ্ছিক অনুশীলনে কোচ চন্দিকা হাতুরাসিংহে নিয়ে আসেন আট ক্রিকেটারকে। মুশফিকুর রহিম, সৌম্য সরকার, আল-আমিন হোসেন ও সাব্বির রহমানের সঙ্গে প্রথম ম্যাচে একাদশের বাইরে থাকা মুস্তাফিজ, মোহাম্মদ মিঠুন, আবু হায়দার ও নুরুল হাসান। প্রশ্নবিদ্ধ বোলিং অ্যাকশনের দুই বোলার তাসকিন ও সানি অন্যদের সঙ্গে থেকে যান হোটেলের বিশ্রামে।

অনুশীলন শুরুর আগে সংবাদ সম্মেলনে তাসকিন ও সানির দুঃসংবাদ আনুষ্ঠানিকভাবে শোনান হাতুরাসিংহে। তবে এটি দলের বিশ্বকাপ অভিযানে প্রভাব ফেলবে না বলে দাবি তাঁর। আর প্রথম ম্যাচ জিতে মূল পর্বে যাওয়ায় ভালো অবস্থানে থাকার দাবিও করেন কোচ, ‘জয় তো জয়ই। তবে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল খুব প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। গত ম্যাচে ছেলেরা নিজেদের সামর্থ্য যেভাবে দেখিয়েছে, এর চেয়ে ভালোভাবে প্রয়োগ করতে পারবে বলে আমি বিশ্বাস করি। আর প্রথম খেলায় জিতে অবশ্যই আমরা ভালো অবস্থানে আছি।’ প্রথম ম্যাচের পারফরম্যান্সের কিছুটা দায় খানিকটা কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সময়স্বল্পতাকেও দেন তিনি, ‘এটি সবাইকে বুঝতে হবে, আমরা মাত্র দুই দিন আগে ঢাকায় খেলেছি। এরপর লম্বা ভ্রমণ শেষে এসেছি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এই চার হাজার ফুট ওপরে। এর সঙ্গেও আমাদের মানিয়ে নিতে হবে। আমরা তো যন্ত্র নিয়ে খেলছি না, মানুষ নিয়ে খেলছি। যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা জয়ের জন্য যথেষ্ট ভালো করতে পারব, ঠিক আছে। তবে আমাদের উন্নতি ধরে রাখতে হবে।’ আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে আরো ভালো খেলার আশাও তাঁর, ‘ছেলেদের কাছ থেকে আমি পরের ম্যাচে আরো ভালো পারফরম্যান্স আশা করছি। কেননা এর মধ্যে আমরা কন্ডিশনের সঙ্গে কিছুটা অভ্যস্ত হয়েছি। উইকেটের সঙ্গেও।’

আগের ম্যাচটি বাংলাদেশ খেলেছে ধর্মশালার স্থানীয় সময় দুপুরে। আজকের ম্যাচ শুরু হবে সন্ধ্যায়। এ নিয়ে উদ্বেগ থাকার কথা স্বীকার করেন কোচ। তবু ওই নিজেদের সামর্থ্যের প্রয়োগের দিকেই হাতুরাসিংহের মূল মনোযোগ, ‘সন্ধ্যার ম্যাচ আমাদের ভাবনায় অবশ্যই রয়েছে। আর টি-টোয়েন্টিতে তো আর আগে থেকে কিছু অনুমান করা যায় না। যেকোনো কিছু হতে পারে। একটি ওভার ঘুরিয়ে দিতে পারে ম্যাচ। আমরা তাই নিজেদের সামর্থ্যের সর্বোচ্চটা দিয়ে পারফর্ম করার চেষ্টা করব। সেটি করতে পারলে জয়ের আশাই করছি আমি।’ প্রত্যাশার বিপরীতে একটু ধীরগতির উইকেট পাওয়ায় আইরিশদের বিপক্ষে সুবিধা হলো কি না, এ প্রশ্নেও ওই খাপ খাওয়ানোর কথা উল্লেখ করেন তিনি, ‘এখানকার উইকেটের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হবে, যেটি আবার সহজ নয় মোটেও। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে আমাদের শুরুটা ভালো হওয়া দরকার। তাতে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলা যাবে।’ আর ওমানের কাছে আয়ারল্যান্ড হেরে যাওয়ায় একটু সুবিধা হওয়ার কথা স্বীকার করেন তিনি, ‘ওমান জেতায় আমরা খুশি হয়েছি। কেননা এখন আয়ারল্যান্ড নিজেদের নিয়ে অনেক কিছু ভাবছে। এমন অবস্থায় প্রতিপক্ষকে পাওয়া সব সময়ই ভালো।’

বাংলাদেশের জন্য ওই ভালোর শেষটা আজ আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের আলোতে হলেই হয়! গ্লাসের অর্ধেক পূর্ণতা দিয়ে বাকি অর্ধেক শূন্যতা আড়ালে যাবে তাহলে!

 

মন্তব্য