সেনাবাহিনী আমাদের সম্পদ, বিশ্বাস ও-334627 | প্রথম পাতা | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

শুক্রবার । ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১৫ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৭ জিলহজ ১৪৩৭


রামু সেনানিবাসে প্রধানমন্ত্রী

সেনাবাহিনী আমাদের সম্পদ, বিশ্বাস ও আস্থার প্রতীক

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার   

১১ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



সেনাবাহিনী আমাদের সম্পদ, বিশ্বাস ও আস্থার প্রতীক

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশনের অধীনে নবগঠিত সদর দপ্তর ২ পদাতিক ব্রিগেডের পতাকা উত্তোলন অনুষ্ঠানে বর্তমান তিন বাহিনীর প্রধান ও সাবেক সেনাপ্রধানদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি : পিএমও

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সমুদ্রসীমাসহ দেশের প্রতিরক্ষার জন্য দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় কক্সবাজারের রামুতে নবনির্মিত সেনানিবাসটির বড় প্রয়োজন ছিল এবং দক্ষিণবঙ্গেও আরেকটি সেনানিবাস গড়ে তোলা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আমাদের সম্পদ। মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতীক।’ তিনি বলেন, দেশের পবিত্র সংবিধান ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে অভ্যন্তরীণ বা বহির্বিশ্বের হুমকি মোকাবিলায় সেনাবাহিনীকে সব সময় প্রস্তুত থাকতে হবে। এ জন্য বর্তমান সরকারও সেনাবাহিনীকে যুগোপযোগী করে গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজারের রামুতে সেনাবাহিনীর নবগঠিত ১০ পদাতিক ডিভিশনের দুটি পদাতিক ব্রিগেডসহ সাতটি ইউনিটের পতাকা উত্তোলন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন। এতে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমদ সিদ্দিকী, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য এবং সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী সকালে রামু সেনানিবাসে এসে পৌঁছলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক ও রামুর ১০ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল আতাউল হাকিম সারওয়ার হাসান তাঁকে অভ্যর্থনা জানান। একটি সুসজ্জিত দল প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। এর পরই প্রধানমন্ত্রী সেনানিবাসে ১০ পদাতিক ডিভিশনের অধীনে ২ পদাতিক ব্রিগেডসহ সাতটি ইউনিটের পতাকা উত্তোলন করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গেল বছরের মার্চ মাসের প্রথমার্ধে আমি কক্সবাজারের এই রামুতে ১০ পদাতিক ডিভিশনের উদ্বোধন করেছিলাম। আজ এক বছর পর এসে দেখি এখানে অনেক অবকাঠামো নির্মিত হয়েছে। সত্যিই সেনাবাহিনীর সদস্যদের এ রকম উন্নয়নকাজ দেখে আমি গর্ববোধ করি।’ তিনি বলেন, সমুদ্রসম্পদ রক্ষা এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার লক্ষ্যে সরকার রামুতে সেনানিবাস প্রতিষ্ঠা করেছে।

বাসস জানায়, প্রধানমন্ত্রী ১০ পদাতিক ডিভিশনের নির্মিত বীর সরণি, অজেয় স্মৃতি ফলক, বীরাঙ্গন বহুমুখী শেড এবং আলীকদম সেনানিবাসে মাতামুহুরী নামে একটি কম্পোজিট ব্যারাক উদ্বোধন করেন। তিনি রামু সেনানিবাসে চারটি এসএম ব্যারাকের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন এবং পরিদর্শক বইতে স্বাক্ষর করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আমাদের সম্পদ। মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতীক। তাই সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের সঙ্গে পেশাগতভাবে আপনাদের আরো দক্ষ ও কল্যাণমুখী হতে হবে।’ প্রধানমন্ত্রী সেনা সদস্যদের ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের প্রতি আস্থা, পারস্পরিক বিশ্বাস, সহমর্মিতা, ভ্রাতৃত্ব, কর্তব্য পরায়ণতা, দায়িত্ববোধ সর্বোপরি শৃঙ্খলা বজায় রেখে আন্তরিকভাবে দায়িত্ব পালনের পরামর্শ দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ এলাকায় সেনানিবাস প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে এই অঞ্চলে প্রাণচাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। রামু সেনানিবাসে একটি ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল প্রতিষ্ঠারও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘২০০৯ সালে ফের রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার পর জাতির পিতার ১৯৭৪ সালের প্রতিরক্ষা নীতি বাস্তবায়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আমরা সেনাবাহিনীর জন্য ফোর্সেস গোল ২০৩০ প্রণয়ন করি। এর অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে সিলেটে ১৭ পদাতিক ডিভিশন, রামুতে ১০ পদাতিক ডিভিশন এবং পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়নের নিরাপত্তা ও তদারকির জন্য একটি কম্পোজিট ব্রিগেড গঠন করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়কের চার লেনের কাজ শুরুর তাগিদ : প্রধানমন্ত্রী পরে কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত বৈঠক করেন। তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘কক্সবাজারে উন্নয়নের বিশাল কর্মযজ্ঞ চলছে। এখানকার পর্যটনের প্রসারে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর করা হচ্ছে। রেললাইন চালু করা হচ্ছে। এমনকি মহেশখালী দ্বীপজুড়ে গড়ে তোলা হচ্ছে বিদ্যুৎ প্রকল্পসহ উন্নয়নের আরেক মহাযজ্ঞ। এখানকার মানুষ আর পিছিয়ে থাকবে না।’ তিনি এ প্রসঙ্গে নেতাদের উদ্দেশে আরো বলেন, ‘আপনারা বর্তমান সরকারের এসব উন্নয়নের কাজগুলো গ্রামগঞ্জে ছড়িয়ে দিন। গ্রামের মানুষকে বুঝিয়ে বলুন—আওয়ামী লীগ চুরি করে না, মানুষকে ধোঁকা দেয় না। আওয়ামী লীগ দেশকে উন্নয়ন করে দিতেই সরকারে আসে।’ এ সময় তিনি মহেশখালীর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের জন্য একটি সেতু নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও জানান।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের উদ্দেশে বলেন, ‘অবিলম্বে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়ক চার লেনে করার কাজ শুরু করুন। কেননা আধুনিক পর্যটন শহরে রূপ দিতে আধুনিক সড়ক যোগাযোগের কোনো বিকল্প নেই।’ অনুষ্ঠানে গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুর, সাবেক মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, স্থানীয় এমপি সাইমুম সরওয়ার কমল, আশেক উল্লাহ রফিক এমপি, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা, সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান, চকরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আলম ও সাবেক চেয়ারম্যান রেজাউল করিম, কুতুবদিয়া উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট ফরিদুল ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য দেন।

 

 

মন্তব্য