দুই মন্ত্রীকে আপিল বিভাগে তলব -333845 | প্রথম পাতা | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

বুধবার । ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১৩ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৫ জিলহজ ১৪৩৭


দুই মন্ত্রীকে আপিল বিভাগে তলব

প্রধান বিচারপতি বললেন বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৯ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



দুই মন্ত্রীকে আপিল বিভাগে তলব

খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম এমপি এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক এমপিকে তলব করেছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালতের আপিল বিভাগ। আগামী ১৫ মার্চ সকাল ৯টায় তাদের সশরীরে হাজির হতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করেছেন আপিল বিভাগ। আগামী ১৪ মার্চের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে তাঁদের। রুলে কেন তাঁদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগে বিচার কার্যক্রম শুরু করা হবে না তার ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহার নেতৃত্বে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ গতকাল মঙ্গলবার এ আদেশ দেন। বেঞ্চের অন্য আট বিচারক হলেন বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞা, বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি মো. ইমান আলী, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী, বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার, বিচারপতি মো. নিজামুল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ বজলুর রহমান। বর্তমানে আপিল বিভাগে প্রধান বিচারপতিসহ ৯ জন বিচারপতি রয়েছেন।

দুই মন্ত্রীকে তলবের আদেশ দেওয়ার আগে আদালত বলেছেন, ‘সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত ও প্রচারিত সংবাদ আমাদের নজরে এসেছে। এতে দেশের সর্বোচ্চ আদালত নিয়ে কিছু অশোভন মন্তব্য করা হয়েছে। এতে সুপ্রিম কোর্টের বিচারকরা স্তম্ভিত।’ প্রধান বিচারপতি বলেন, গত ৫ মার্চ (শনিবার) এক গোলটেবিল বৈঠকে দুই মন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি ও সুপ্রিম কোর্টের বিরুদ্ধে চরম অবমাননাকর বক্তব্য দিয়েছেন। এ মন্তব্য বিচার প্রশাসনের ওপর হস্তক্ষেপ। এর মাধ্যমে বিচার বিভাগের মর্যাদা, সম্মান ও ভাবমূর্তি, সুপ্রিম কোর্টের কর্তৃত্ব, প্রধান বিচারপতির কার্যালয়ের কর্তৃত্বকে খাটো করা হয়েছে।

গত ৫ মার্চ রাজধানীর বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল লিগ্যাল স্টাডিজ (বিলিয়া) মিলনায়তনে নির্মূল কমিটি আয়োজিত ‘৭১-এর গণহত্যাকারীদের বিচারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র : সরকার, বিচার বিভাগ ও নাগরিক সমাজের করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক প্রধান বিচারপতির মন্তব্যের সমালোচনা করেন। তাঁরা প্রধান বিচারপতিকে বাদ দিয়ে মীর কাসেম আলীর আমলায় পুনরায় আপিল বিভাগে শুনানির দাবি জানান। এ সময় প্রধান বিচারপতি দেশের বাইরে ছিলেন। ৭ মার্চ তিনি দেশে ফেরেন। এরপর গতকাল তিনি দুই মন্ত্রীকে তলবের আদেশ দেন।

এর আগে প্রধান বিচারপতি ও বিচারাধীন বিষয় নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগে খাদ্যমন্ত্রী ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীকে ৭ মার্চ লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জুলফিকার আলী ঝুনু। এ নোটিশে মন্ত্রীর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ আনা হয়েছে। দুই মন্ত্রীকে নোটিশের জবাব দিতে ২৪ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় তাঁদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করা হবে বলে জানানো হয়।

খাদ্যমন্ত্রী : আদালতের আদেশের পর খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম এমপি তাঁর কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি আদালতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আদালত যেভাবে নির্দেশ দেবেন আমি সেভাবেই চলব। একজন মন্ত্রী হিসেবে নয়, একজন মুক্তিযোদ্ধা ও বিচারপ্রার্থী হিসেবে ওই রকম কথা বলেছিলাম, যা আমার নিজস্ব বক্তব্য।’ তিনি বলেন, ‘এ রায়ে আমি খুব খুশি। মীর কাসেম আলী শত শত কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছিল। এমনকি বিচার বাধাগ্রস্ত করতে টমি ক্যাটের মতো লবিস্টও নিয়োগ করেছিল।’ তিনি বলেন, ‘আমি রাষ্ট্রীয় সফরে দেশের বাইরে যাব। এ জন্য ১৫ মার্চ থাকতে পারব না। আদালতের কাছে এ জন্য সময়ের আবেদন জানাব।’

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী : মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক এমপি গতকাল তাঁর কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি আদালতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আদালত যে নির্দেশনা দিয়েছেন সে বিষয়ে আদালতে হাজির হয়ে আমার বক্তব্য পেশ করব।’

মন্তব্য