ক্লান্তিকর যাত্রার পরও আত্মবিশ্বাসী-333843 | প্রথম পাতা | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

রবিবার । ২ অক্টোবর ২০১৬। ১৭ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৯ জিলহজ ১৪৩৭


ক্লান্তিকর যাত্রার পরও আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ

নোমান মোহাম্মাদ, ধর্মশালা থেকে   

৯ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



ক্লান্তিকর যাত্রার পরও আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ

এশিয়া কাপের ফাইনাল খেলে এসেছে বলে রক্ষা। নইলে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আজ প্রথম ম্যাচে নামার আগে বাংলাদেশের অবস্থা হতো সেই প্রবাদের মতো—ওঠ ছুড়ি, তোর বিয়ে!

মাঝ রাতে ফাইনাল শেষ, সাতসকালে উড়ালে চেপে বসা, মধ্যাহ্নে যাত্রাবিরতির পর অপরাহ্নে ধর্মশালায়—বাংলাদেশ দলের সময়ের সঙ্গে যুদ্ধের তো এখানেই সমাপ্তি নয়। যুদ্ধবিরতি বড়জোর। হোটেলের বিছানায় আরাম-আলস্য নেওয়ার ফুরসত মেলে খানিক, ব্যস! এরপর ঘুম থেকে উঠে কাল সকালে অনুশীলনের পর আজই মাঠের লড়াইয়ে নেমে পড়া। বাংলাদেশ দলের জন্য এক নিঃশ্বাসে বয়ে যায় শেষ দুটো দিন। আর অন্য সব বাদ দিয়ে বিবেচ্য যদি হয় শুধু টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, তাহলে মাশরাফি বিন মর্তুজার দলের অবস্থা নিঃসন্দেহে ওই গ্রামীণ প্রবাদের মতো।

কিন্তু অতশত ভাবনার অবকাশ কোথায় এখন বাংলাদেশের! ক্রিকেট-সমুদ্রে শয্যা পেতে এই সূচি-শিশিরে ভয় পেলে চলবে কেন! বরং টি-টোয়েন্টির মূল মঞ্চে বাংলাদেশের

 প্রবেশাধিকারের জন্য বাছাইপর্ব যে নিতান্তই অপ্রয়োজনীয় এক শর্ত—সেটি প্রমাণের দায় এখন তাদের। ওই অভিযান শুরু হচ্ছে আজ নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে দ্বৈরথ দিয়ে।

পরিসংখ্যানের পাতার ঘোষণা, টি-টোয়েন্টিতে এখন পর্যন্ত দুবারের মুখোমুখিতে সাম্যাবস্থা বাংলাদেশ-নেদারল্যান্ডসের। কিন্তু সেটি যে কী ভুল বার্তা বহন করে, কাল ডাচ অধিনায়ক পিটার বোরেন স্পষ্ট করে দেন তা, ‘অবশ্যই বাছাইপর্বের এই গ্রুপে বাংলাদেশ স্পষ্ট ফেভারিট।’ সেটি হবে না কেন? এশিয়া কাপে মাত্রই তো পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কার মতো দলকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে তারা। সেখানে সমানে সমান লড়াই করে ভারতের বিপক্ষে। এই দলের সামনে নেদারল্যান্ডস-আয়ারল্যান্ড-ওমান কোন ছার!

তবু খুব স্বস্তিতে নেই বাংলাদেশ। ধর্মশালার কনকনে ঠাণ্ডা হাওয়ার কন্ডিশন বড় চ্যালেঞ্জ। কাল সকালে তুষারে ঢাকা হিমালয়ের চূড়াকে পেছনে রেখে করা অনুশীলনও বয়ে আনেনি কোনো সুখবর। ইনজুরিতে থাকা মুস্তাফিজুর রহমানের আজকের ম্যাচে খেলার কোনো প্রতিশ্রুতি নেই। ফিজিওর সঙ্গে পুরোটা সময় কাটানো এই পেসারের না খেলার আশঙ্কাই বেশি। এ ছাড়া লাফিয়ে ওঠা বলে আঙুলে ব্যথা পান মাহমুদ উল্লাহ। ওদিকে পিঠের সমস্যা স্বয়ং মাশরাফির। কুঁচকির ইনজুরি নিয়ে খানিক অস্বস্তি সাকিব আল হাসানের। অনুশীলনে এক মুশফিকুর রহিম ছাড়া অন্য ব্যাটসম্যানদের স্বচ্ছন্দ লাগেনি তেমন।

তবে ডাচদের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে অবশ্য এসব কিছু তুচ্ছ হয়ে যায় বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাসের সামনে। গত দেড় বছর ধরে যে সাফল্য-সাম্পানে সওয়ার মাশরাফির দল! টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের এই বাছাইপর্বে মাঠে নামার আগে তাই কোনো আগাম অজুহাত খুঁজছেন না অধিনায়ক, ‘এশিয়া কাপের ফাইনাল খেলে এখানে খুব দ্রুত আসতে হয়েছে। তবে সেই টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলে যে আত্মবিশ্বাস পেয়েছি, সেটি কাজে লাগানোর চেষ্টা করব। গত দুই সপ্তাহে আমরা খুব ভালো করেছি। আশা করছি পরের সপ্তাহগুলোতেও এটা ধরে রাখতে পারব।’ ভারতের বিপক্ষে অনেক দিন পর খেলা, ধর্মশালায় তো প্রথমবার। তাতে কিছুটা অসুবিধা হলেও তা গোনায় ধরতে চান না মাশরাফি, ‘ভারতের বেশির ভাগ জায়গা আমাদের মতোই। কিন্তু এই জায়গায় কিছু পার্থক্য অনুভব করেছি। যেমন শ্বাস নিতে একটু সমস্যা হয়। আমার মনে হয় আমাদের মানিয়ে নিতে কিছুটা সময় লাগবে। আশা করি কালকের ম্যাচে আমাদের সেরাটা দিতে পারব।’ বাছাইপর্বের তিন দলকেই চ্যালেঞ্জিং মেনে সেই চ্যালেঞ্জ জয়ের প্রত্যয়ও তাঁর কণ্ঠে, ‘আমরা পরের রাউন্ডে যেতে পারলে সামনে অনেক বড় চ্যালেঞ্জ আসবে। এখন সেসব নিয়ে বলতে চাই না, আমরা এখানে নিজেদের সেরা ক্রিকেট খেলতে এসেছি।’

ধর্মশালায় আসার কিছুক্ষণের মধ্যেই বৃষ্টির তুমুল রূপ দেখে বাংলাদেশ দল। ঠিক আগের দিন যে বৃষ্টি এশিয়া কাপ জয়ের সম্ভাবনা দেয় কমিয়ে। বিশ্বকাপে এর উপদ্রব না হওয়ার প্রার্থনাই মাশরাফির, ‘আমরা এখন শুধু আল্লাহকে ডাকতে পারি, বৃষ্টিটা যেন না হয়। যেমন মানসিকতা নিয়ে এসেছি, সেটি নিয়ে যেন খেলতে পারি। বৃষ্টি হলে অবশ্যই অনেক কিছু হিসাব-নিকাশ করতে হয়। পরিকল্পনারও অনেক ঝামেলা হয়। আমরা চাই না যে বৃষ্টি হোক।’ টানা দুদিন বিকেল-সন্ধ্যায় বৃষ্টির পর কাল আর কাঁদেনি ধর্মশালার আকাশ। হয়তো বাংলাদেশ দলের প্রার্থনা শুনেই।

ধর্মশালায় এখন পর্যন্ত হয়েছে তিনটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ। ২০১৩ ও ২০১৪ সালে ইংল্যান্ড এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ভারতের দুটো ওয়ানডে। আর গত বছর দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে স্বাগতিকদের একমাত্র টি-টোয়েন্টি। এই তিন খেলায় সাকুল্যে সেঞ্চুরি চারটি। টি-টোয়েন্টিতে তো ভারতের ১৯৯ রান টপকে জিতেও যায় প্রোটিয়ারা। উইকেটে তাই পেসের জুজু যতটা রয়েছে বলে আশঙ্কা, ততটা হয়তো নেই বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের জন্য।

আর থাকলেই বা কী! তেমন প্রস্তুতি ছাড়া তড়িঘড়ি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নেমে পড়তে হলেই বা কী! প্রতিপক্ষ যখন নেদারল্যান্ডস, তখন অত সব নিয়ে ভাবতে বয়েই গেছে মাশরাফির দলের!

মন্তব্য