নজরদারিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮-333836 | প্রথম পাতা | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

শনিবার । ১ অক্টোবর ২০১৬। ১৬ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৮ জিলহজ ১৪৩৭


নজরদারিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮ কর্মকর্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৯ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



নজরদারিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮ কর্মকর্তা

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রায় ১০ কোটি ডলার বা প্রায় ৮০০ কোটি টাকা হ্যাকড হওয়ার ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড বাজেটিং ডিপার্টমেন্টের ব্যাক অফিসের (সিলিং) আট কর্মকর্তাকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে এ ঘটনায় তাঁদের সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একটি সূত্র এসব তথ্য জানিয়ে বলেছে, বিষয়টি নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নরের সঙ্গে র‌্যাব ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বৈঠক হয়েছে।

এদিকে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে হ্যাকারদের বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার দায় অস্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ওই ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি, তাদের ব্যাংকের কোনো অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়নি। তাদের ব্যাংক থেকে কোনো অর্থও খোয়া যায়নি। এ অবস্থায় অর্থ ফেরত আনতে প্রয়োজনে মামলা করার হুমকি দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ নিয়ে ব্যাক অফিসে (সিলিং) অ্যাকাউন্ট অ্যান্ড বাজেটিং ডিপার্টমেন্টে কাজ করেন আট কর্মকর্তা। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের পাসপোর্ট জব্দ করা হয়েছে বলে অন্য একটি সূত্র জানিয়েছে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে এই খবরের নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে এটুকু জানি যে অর্থ চুরি যাওয়ার বিষয়টি তদন্তাধীন এবং টাকা উদ্ধার করা গেলে সেটা আমরা সবাইকে জানিয়ে দেব। তদন্তের অগ্রগতির বিষয়ে এর বেশি কিছু বলার সুযোগ নেই।’

নিউ ইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ হ্যাকড হয়েছে বলে গত সোমবার এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায় বাংলাদেশ ব্যাংক। এক দিন পরই গতকাল ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক খবরে বলা হয়, ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে কোনো ধরনের হ্যাকিংয়ের ঘটনা ঘটেনি।

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এ ঘটনা তদন্তের জন্য দেশের বাইরে থেকে অনেক বড় বড় এক্সপার্ট এসেছেন। তাঁরা বলছেন, যে ধরনের প্রযুক্তি দিয়ে এই হ্যাকিং হয়েছে তা অনেক উন্নতমানের। এই প্রযুক্তি দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সহযোগিতা ছাড়াও রিজার্ভের অর্থ হ্যাক করা সম্ভব বলে তাঁরা মনে করেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি সূত্র জানায়, আন্তব্যাংক লেনদেন প্রযুক্তি ‘রিয়েল টাইম গ্রস সেটলমেন্ট’ (আরটিজিএস) বাস্তবায়নে সুইডেনভিত্তিক কম্পানি সিএমএ স্মল সিসটেম এবির সঙ্গে ২০১৪ সালের ১১ নভেম্বর চুক্তি স্বাক্ষর করে বাংলাদেশ। স্পেকট্রাম ইঞ্জিনিয়ারিং কনসোর্টিয়াম লিমিটেড বাংলাদেশে সিএমএর স্থানীয় প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছে, যা আন্তর্জাতিক আর্থিক লেনদেনকারী সুইফটের সঙ্গে যুক্ত। সুইডেনভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশ ব্যাংকের ডাটাবেইসের অনেক তথ্যের বিষয়ে অবহিত রয়েছে। হ্যাক হওয়ার ঘটনায় বিদেশি এই প্রতিষ্ঠানের কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

মামলা করার হুমকি অর্থমন্ত্রীর : গতকাল সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন. ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে হ্যাকারদের বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো দোষ নেই। এটা ফেডারেল রিজার্ভের দোষ। যাঁরা এটা সেখানে পরিচালনা করেন তাঁদের কোনো গোলমাল হয়েছে। অথচ ফেডারেল রিজার্ভ বলছে যে তাদের কোনো দায়িত্ব নেই। কিন্তু এটা হতেই পারে না।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমি যা শুনেছি বা জেনেছি, ওখান থেকে ফেডারেল রিজার্ভ বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে বার্তা পাঠায়—আমরা তোমাদের এই রকম একটা হুকুম পেয়েছি। তোমরা এটা কনফার্ম কর। জবাবে বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, এটা মিথ্যা। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকের এই নির্দেশনা পাওয়ার আগেই ফেডারেল লেনদেনটা করে ফেলেছে। সুতরাং ফেডারেল রিজার্ভ কোনোমতেই তাদের দায়িত্ব অস্বীকার করতে পারবে না।’

এদিকে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউ ইয়র্কের মুখপাত্র আন্দ্রেয়া প্রিস্ট বাংলাদেশের রিজার্ভের অর্থ সরিয়ে নেওয়ার দায় অস্বীকার করে বলেছেন, ফেডারেল রিজার্ভ সিস্টেমে কোনো ধরনের হ্যাক হয়নি। ফেডারেল রিজার্ভ সিস্টেমে কেউ অবৈধভাবে প্রবেশ করে অর্থ লেনদেন করার কোনো তথ্য নেই। ফেডারেল সিস্টেমে দুর্নীতিরও কোনো প্রমাণ নেই।

প্রসঙ্গত, গত ৫ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভে রক্ষিত বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে ১০ কোটি ডলার (প্রায় ৮০০ কোটি টাকা) হাতিয়ে নেওয়া হয়। ওই তারিখে রাত ৮টা থেকে ৩টা পর্যন্ত সময়ে এ ঘটনা ঘটে। নিয়ম অনুযায়ী টাকা স্থানান্তরে বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট অ্যান্ড বাজেটিং ডিপার্টমেন্টের ব্যাক অফিস (সিলিং) অনুমোদনের পরই অর্থ ছাড় দেওয়ার কথা ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের। কিন্তু কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে ব্যক্তিগত হিসাবে বিপুল পরিমাণ অর্থ স্থানান্তরের বিষয়টি সন্দেহজনক হওয়ায় তা কেন্দ্রীয় ব্যাংককে অবহিত করে মেইল পাঠায় ফেডারেল রিজার্ভ কর্তৃপক্ষ। তবে ফেডারেল রিজার্ভের অর্থ স্থানান্তরের সুইফট পদ্ধতিটি স্বয়ংক্রিয় হওয়ায় অর্ডার পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তা পরিশোধ হয়ে যায়।

মন্তব্য