kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


নারী দিবসে প্রধানমন্ত্রী

ধর্মের নামে নারীকে পিছিয়ে রাখা যাবে না

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৯ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



ধর্মের নামে নারীকে পিছিয়ে রাখা যাবে না

নারীদের নিজের মর্যাদা নিজেকেই আদায় করে নিতে হবে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ধর্মের দোহাই দিয়ে নারীকে পিছিয়ে রাখার আর কোনো সুযোগ নেই। ইসলাম ধর্মই নারীর মর্যাদা সমুন্নত করেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

গতকাল মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

নারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমাদের কারো মুখাপেক্ষী হলে চলবে না। নিজেদের ভাগ্য নিজেদেরই গড়তে হবে, নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে, আত্মবিশ্বাস নিয়ে চলতে হবে। তবেই মর্যাদা পাওয়া যাবে। কেঁদে কেঁদে ফিরলে মর্যাদা কেউ হাতে তুলে দেয় না। বরং করুণা করে। আর করুণা ভিক্ষা নিয়ে তো মেয়েরা  বাঁচতে পারে না। কাজেই নিজের মর্যাদা নিজেকেই অর্জন করতে হবে কর্মের মধ্য দিয়ে, আত্মবিশ্বাসের মধ্য দিয়ে। ’

ইসলামে নারীর ক্ষমতায়নের গৌরবের ইতিহাস রয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘ধর্মের নাম নিয়ে কখনো কাউকে পেছনে ঠেলে দেওয়া বা কূপমণ্ডূকতায় ফেলে দেওয়ার সুযোগ নাই। ইসলাম ধর্মই নারীদের সমাজে সুযোগ দিয়েছে। স্বামীর সম্পদে তাদের যেমন অধিকার, পিতার সম্পদেও অধিকার, এই সম্পদের অধিকার একমাত্র ইসলাম ধর্মেই দেওয়া আছে। অন্য কোনো ধর্মে কিন্তু নাই। ’

এ প্রসঙ্গে বিবি খাদিজার (রা.) দৃষ্টান্ত উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আল্লাহর রাসুল হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর কাছে প্রথম ইসলাম গ্রহণকারীও একজন নারী। তিনি ব্যবসা করতেন এবং ব্যবসার জন্য দেশ-বিদেশে ভ্রমণ করেছেন, এমনকি রাসুল হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সঙ্গে জিহাদের ময়দানেও গিয়েছেন। জিহাদে নারী শহীদ সুমাইয়ার নাম উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কাজেই আমাদের ঘাবড়ালে চলবে না। ’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় তো বটেই, বিশ্বের অনেক উন্নত দেশের থেকেও এগিয়ে আছে। এ প্রসঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, অনেক পরাশক্তি যারা সারা বিশ্বে মোড়লগিরি করে বেড়ায় তারাও এখন পর্যন্ত কোনো নারী সরকারপ্রধান নির্বাচন করেনি, এমনকি নারীদের ভোটাধিকারও দেয় অনেক দেরিতে। নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ পার্শ্ববর্তী ভারত-পাকিস্তানের চেয়েও এগিয়ে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের সংসদ নেতা, বিরোধীদলীয় নেতা, সংসদের উপনেতা নারী এবং স্পিকারও নারী। এ রকম দৃষ্টান্ত পৃথিবীতে নজিরবিহীন।

সবক্ষেত্রে নারীরা সুচারুভাবে কাজ করে যাচ্ছে; এমনকি ক্ষেত্রবিশেষে তারা পুুরুষের চেয়েও এগিয়ে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সবচেয়ে বড় বিষয় নারীরা দুর্নীতিতে যুক্ত নেই। ’ নারীদের উন্নয়নে নেওয়া তাঁর সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ী জাতি। পরমুখাপেক্ষী হয়ে আমরা বাঁচতে চাই না। আমাদের ভাগ্য আমরা নিজেরাই গড়ে তুলব। এ জন্য প্রয়োজন নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা। ’

নারী ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ইউএন ওমেন ইন বাংলাদেশের দেশীয় প্রতিনিধি ক্রিস্টিন হান্টার। স্বাগত বক্তব্য দেন নারী ও শিশু মন্ত্রণালয়ের সচিব নাসিমা বেগম।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব ড. সুরাইয়া বেগমসহ মন্ত্রিপরিষদসদস্য, সংসদ সদস্য, সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, দপ্তর এবং অধিদপ্তরের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, কূটনৈতিক মিশনের সদস্য ও আন্তর্জাতিক সহযোগী সংগঠনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সূত্র : বাসস।


মন্তব্য