kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জুবেইরের ঝটিকা সফর

সন্ত্রাস নির্মূলে সর্বাত্মক সহায়তা দেবে ঢাকা

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

৯ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



সন্ত্রাস নির্মূলে সর্বাত্মক সহায়তা দেবে ঢাকা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে গতকাল গণভবনে বৈঠক করেন ঢাকায় ঝটিকা সফরে আসা সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আদেল আল জুবেইর। ছবি : পিআইডি

সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে সৌদি আরব যে উদ্যোগ নিচ্ছে তার সঙ্গে থাকার এবং সর্বাত্মক সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আদেল বিন আহমেদ আল জুবেইর গতকাল মঙ্গলবার ঝটিকা সফরে ঢাকায় এসে গণভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের পক্ষে তাঁকে এ আশ্বাস দেন।

শেখ হাসিনা এ সময় সন্ত্রাসের ব্যাপারে বাংলাদেশের ছাড় না দেওয়ার জোরালো নীতির কথাও তুলে ধরেন।

সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিকেল ৫টা ৫৫ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সঙ্গে বৈঠক করেন। তিনি ঢাকা ছাড়েন রাত সাড়ে ৯টার দিকে। প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টার ঝটিকা সফরে বাংলাদেশে এসে এ দেশের সঙ্গে সৌদি আরবের সম্পর্কের নতুন উচ্চতায় পৌঁছার বিশেষ বার্তা দিয়ে গেছেন তিনি।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বাংলাদেশে কোনো গণতান্ত্রিক সরকারের সময় সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এটিই প্রথম সফর। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সন্ত্রাসবিরোধী জোটে যোগ দেওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে ঐতিহাসিক সম্পর্ক আরো জোরালো হয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রী গতকাল সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে সর্বাত্মক সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস বলতে ঠিক কী বুঝিয়েছেন তা স্পষ্ট নয়। কারণ বাংলাদেশ সৌদি উদ্যোগকে একটি সন্ত্রাসবিরোধী কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা হিসেবে অভিহিত করলেও তা ইতিমধ্যে ৩৪ দেশীয় ‘সামরিক জোট’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা বিদেশে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অংশ নেয়। বিদেশে যুদ্ধ করতে বাংলাদেশের সেনা না পাঠানোর নীতি থাকায় সৌদি ‘সামরিক জোটে’ এ দেশের ভূমিকা কী হতে পারে তা নিয়ে শুরু থেকেই নানা প্রশ্ন রয়েছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় বলা হয়েছে, বিদেশে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ করার বাইরে আরো অনেক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের কাজ করার সুযোগ আছে। বাংলাদেশের মতো আরো অনেক মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের এমন নীতি রয়েছে।

বার্তা সংস্থা ইউএনবি জানায়, সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাক্ষাৎ শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের এ বিষয়ে অবহিত করেন। ইহসানুল করিম জানান, প্রধানমন্ত্রী ও সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী কর্মীদের অভিবাসন, বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও অন্যান্য খাতে সহযোগিতাসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন।

সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাস নির্মূলে সৌদি আরব যে উদ্যোগ নিয়েছে তাতে বাংলাদেশ সহযোগিতা করবে। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ঢাকা সব সময় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অব্যাহত রাখবে।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, সৌদি আরবের সঙ্গে বন্ধুত্বকে বাংলাদেশ বিশেষ গুরুত্ব দেয়। ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ হিসেবে উভয় রাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘ ও ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। এ সম্পর্ককে আরো এগিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা ও বাণিজ্য সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সৌদি আরবে বাংলাদেশি কর্মীদের বৈধ করায় সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মাধ্যমে দেশটির সরকারকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে আরো বেশি সৌদি বিনিয়োগ প্রত্যাশা করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ধর্মের নামে কিছু লোক ইসলামের বদনাম করছে, সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালাচ্ছে—যা মুসলিম উম্মাহর ক্ষতি করছে। অথচ ইসলাম শান্তির ধর্ম। প্রধানমন্ত্রী সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপকালে মাদ্রাসা শিক্ষার আধুনিকায়ন করার কথাও বলেন।

সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইসলাম ভালোবাসা, শান্তি ও ক্ষমার শিক্ষা দেয়। অথচ সন্ত্রাসীরা ইসলামের মূল্যবোধকে অবজ্ঞা করছে। সন্ত্রাসী ও চরমপন্থার বিরুদ্ধে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশাপাশি গণমাধ্যমের ভূমিকা গ্রহণ জরুরি বলেও তিনি জানান।

সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির প্রশংসা করেন। তিনি আশা করেন, আগামী বছরগুলোতে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন খাতে দুই দেশের সম্পর্ক আরো জোরালো হবে।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আন্ডার সেক্রেটারি ড. খালিদ বিন জানদান ও ড. ইউসেফ আল সাদুন, মহাপরিচালক মোহাম্মদ আল কালাবি, পরিচালক ওসামা নাগলি ও খালিদ আল কানাগরি, বাংলাদেশে সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ এইচ এম আল-মুতাইরি। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী ও পররাষ্ট্রসচিব মো. শহীদুল হক।

ঢাকায় এসেই সম্পর্ক আরো জোরদারের প্রত্যাশা : সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী গতকাল বিশেষ বিমানে ঢাকায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। পৌঁছার পরপরই উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে সব খাতে বিদ্যমান ‘জোরালো ও ঐতিহাসিক’ সম্পর্ক আরো ‘উন্নত, গভীর ও জোরালো’ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। দুই দেশের মধ্যে আলোচনা, সমন্বয় ও সহযোগিতা জোরদার ও উন্নয়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তিনি আলোচনার কথা জানান।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, ঢাকায় সৌদি রাষ্ট্রদূত ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সম্প্রতি সৌদি আরবে ও জাকার্তায় অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও কার্যকর বৈঠক হয়েছে। গতকাল রাতে ঢাকা ছাড়ার সময় সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বিমানবন্দরে বিদায় জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলী। সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিজের এ সফরকে সংক্ষিপ্ত কিন্তু ঐতিহাসিক অভিহিত করে ভবিষ্যতে আরো সময় নিয়ে বাংলাদেশে আসার আশা প্রকাশ করেছেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, গত জানুয়ারিতে রিয়াদে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী মে মাসের মধ্যে দুই দেশের সুবিধাজনক কোনো সময়ে সৌদি আরব সফর করবেন। বর্তমানে এ বিষয়ে প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।


মন্তব্য