মীর কাসেমের প্রাণদণ্ড বহাল-333831 | প্রথম পাতা | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

শুক্রবার । ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১৫ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৭ জিলহজ ১৪৩৭


মীর কাসেমের প্রাণদণ্ড বহাল

এম বদি-উজ-জামান   

৯ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



মীর কাসেমের প্রাণদণ্ড বহাল

মুক্তিযুদ্ধে চট্টগ্রামে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে কুখ্যাত আলবদর বাহিনীর শীর্ষস্থানীয় নেতা মীর কাসেম আলীকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও দলের অর্থের অন্যতম জোগানদাতা হিসেবে পরিচিত মীর কাসেম আলীকে দুটি হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদণ্ড দিলেও আপিল বিভাগ একটি অভিযোগ থেকে খালাস দিয়েছেন। অপর একটি হত্যাকাণ্ডের দায়ে তাঁর মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে। এর পাশাপাশি আরো ছয়টি অভিযোগে বিভিন্ন মেয়াদে মোট ৫৮ বছরের সাজা বহাল রেখে রায় দিয়েছেন সর্বোচ্চ আদালত।

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে আপিল বিভাগের পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ গতকাল মঙ্গলবার সকালে এ রায় ঘোষণা করেন। বেঞ্চের অন্য সদস্যরা হলেন বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী, বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার ও বিচারপতি মোহাম্মদ বজলুর রহমান। আদালত সর্বসম্মতভাবে এ রায় দেন। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এটি সপ্তম আপিলের রায়।

নিয়ম অনুযায়ী এ আপিলের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হলে আসামিপক্ষ এর কপি পাওয়ার পর ১৫ দিন সময় পাবে রিভিউ বা পুনর্বিবেচনার আবেদন করার। আসামি রিভিউ আবেদন করলে তা নিষ্পত্তি হওয়ার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সরকার। রিভিউ আবেদন করা হলে এবং তা খারিজ হলে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চেয়ে আবেদন করার সুযোগ পাবেন মীর কাসেম আলী। রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা না করলে সরকার আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইন অনুযায়ী তাঁর দণ্ড কার্যকর করতে পারবে। আর রিভিউ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সর্বোচ্চ আদালত সাজা পরিবর্তন করলে বা অন্য কোনো সিদ্ধান্ত দিলে সে অনুযায়ী সরকার ব্যবস্থা নেবে।

গতকাল সকাল ৯টা ৪২ মিনিটে চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেন প্রধান বিচারপতি। ট্রাইব্যুনালে প্রমাণিত ১০টি অভিযোগের মধ্যে আপিল বিভাগ ৭টিতে সাজা বহাল রাখেন এবং ৩টিতে খালাস দেন। আপিল বিভাগের দেওয়া  সংক্ষিপ্ত রায়ে বলা হয়, ‘মীর কাসেম আলীর আপিল আংশিক মঞ্জুর করা হলো। তাঁকে ৪, ৬ ও ১২ নম্বর অভিযোগ থেকে খালাস দেওয়া হলো। আর ২, ৩, ৭, ৯, ১০, ১১ ও ১৪ নম্বর অভিযোগের বিষয়ে তাঁর আপিল খারিজ করা হলো। তাঁকে ২, ৩, ৭, ৯, ১০, ১১ ও ১৪ নম্বর অভিযোগে দেওয়া সাজা বহাল রাখা হলো।’ট্রাইব্যুনাল ২০১৪ সালের ২ নভেম্বর মীর কাসেম আলীকে দুটি অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড এবং আটটি অভিযোগে বিভিন্ন মেয়াদে মোট ৭২ বছর কারাদণ্ড দিয়েছিলেন। তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আনা মোট ১৪টি অভিযোগের মধ্যে বাকি চারটি নির্যাতনের অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ওই সব অভিযোগ থেকে তাঁকে খালাস দেওয়া হয়েছিল ট্রাইব্যুনালের রায়ে। এ রায়ের বিরুদ্ধে একই বছরের ৩০ নভেম্বর নিজেকে নির্দোষ দাবি করে খালাস চেয়ে আপিল করেন মীর কাসেম। আপিল বিভাগে এ মামলার শুনানি শুরু হয় গত ৯ ফেব্রুয়ারি। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি শুনানি শেষ হলে আদালত রায়ের জন্য ৮ মার্চ দিন ধার্য করেন। মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় ২০১২ সালের ১৭ জুন মীর কাসেমকে গ্রেপ্তার করা হয়। তখন থেকেই তিনি কারাগারে।

আপিলে যেসব অভিযোগ প্রমাণিত : মীর কাসেমকে ১১ ও ১২ নম্বর অভিযোগে আলাদাভাবে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন ট্রাইব্যুনাল। এ ছাড়া ২ নম্বর অভিযোগে ২০ বছর এবং ৩, ৪, ৬, ৭, ৯ ও ১০ নম্বর অভিযোগে ৭ বছর করে এবং ১৪ নম্বর অভিযোগে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আপিলের ওপর শুনানি শেষে রায়ে আপিল বিভাগ একটিতে (১১ নম্বর) মৃত্যুদণ্ড এবং ছয়টিতে (২, ৩, ৭, ৯, ১০, ও ১৪ নম্বর) ট্রাইব্যুনালের দেওয়া ৫৮ বছরের কারাদণ্ড বহাল রেখেছেন। বাকি তিনটিতে (অভিযোগ নম্বর ৪, ৬ ও ১২) তাঁকে খালাস দেওয়া হয়।

মুক্তিযোদ্ধা জসিম হত্যার অভিযোগে (১১ নম্বর) মৃত্যুদণ্ড বহাল : একাত্তরে ঈদুল ফিতরের দিনে কিশোর মুক্তিযোদ্ধা জসিম উদ্দিনকে অপহরণ করে ডালিম হোটেলে নিয়ে নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়। সেখানে আরো পাঁচজনকে হত্যা করে মুক্তিযোদ্ধা জসিমের লাশের সঙ্গে তাদের লাশও গুম করে মীর কাসেম আলীর নেতৃতে আলবদর বাহিনী। এই অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় মীর কাসেমকে মৃত্যুদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল। আপিল বিভাগ এ সাজা বহাল রেখেছেন।

ফারুককে নির্যাতনের অভিযোগ (২ নম্বর) : মীর কাসেমের নেতৃত্বে একাত্তরের ১৯ নভেম্বর চাকতাই থেকে লুত্ফর রহমান ফারুক ও সিরাজকে অপহরণ করে পাকিস্তানি সেনাদের নিয়ন্ত্রিত বাকলি পুলিশ স্টেশনে নেওয়া হয়। সেখান থেকে ডালিম হোটেলে নিয়ে নির্যাতন করা হয় এবং তাঁদের বাড়িঘরে আগুন দেওয়া হয়। ফারুককে দুই-তিন দিন ডালিম হোটেলে নির্যাতনের পর চট্টগ্রাম কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। ১৬ ডিসেম্বর ফারুক মুক্তি পান। এই অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় মীর কাসেম আলীকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল। এ সাজা বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ।

জাহাঙ্গীর আলমকে ধরে নিয়ে নির্যাতন (অভিযোগ নম্বর ৩) : মীর কাসেমের নেতৃত্বে ২২ বা ২৩ নভেম্বর সকালে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীকে বাসা থেকে ধরে ডবলমুরিং থানায় নেওয়া হয়। সেখান থেকে ডালিম হোটেলে নিয়ে নির্যাতন করে আলবদর বাহিনী। স্বাধীনতার পর জাহাঙ্গীর আলম মুক্ত হন ডালিম হোটেল থেকে। এ অভিযোগে কাসেমকে ট্রাইব্যুনালের দেওয়া সাত বছরের কারাদণ্ড বহাল রয়েছে আপিলের রায়ে।

সানাউল্লাহ চৌধুরীসহ তিনজনকে নির্যাতন (অভিযোগ নম্বর ৭) : সে বছরের ২৭ নভেম্বর চট্টগ্রামের ডবলমুরিং থানা এলাকার সানাউল্লাহ চৌধুরী, হাবিবুর রহমান ও ইলিয়াসকে ধরে ডালিম হোটেলে নিয়ে নির্যাতন করা হয়। ডালিম হোটেল থেকে তাঁরা ৬ ও ৯ ডিসেম্বর মুক্তি পান। এ অভিযোগে আসামিকে দেওয়া সাত বছর কারাদণ্ড বহাল রয়েছে।

সৈয়দ ওসমানসহ ছয়জনকে নির্যাতন (অভিযোগ নম্বর ৯) : একই বছরের ২৯ নভেম্বর সৈয়দ ওসমান, সৈয়দ জামাল উদ্দিন, সৈয়দ কামাল উদ্দিন, সৈয়দ সরোয়ার উদ্দিন, সৈয়দ গোলাম কিবরিয়া ও সৈয়দ গোলাম রহমানকে অপহরণ করে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডালিম হোটেলে নির্যাতন করা হয়। এই অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আসামিকে ট্রাইব্যুনালের দেওয়া সাত বছর কারাদণ্ড আপিল বিভাগ বহাল রেখেছেন।

জাকারিয়াসহ চারজনকে নির্যাতন (অভিযোগ নং ১০) : একাত্তরের ২৯ নভেম্বর চট্টগ্রামের নাজিরবাড়ি এলাকা থেকে মো. জাকারিয়া সালাউদ্দিন, চুট্টু মিয়া, ইস্কান্দার আলম চৌধুরী ও নাজিম উদ্দিনকে অপহরণ করে ডালিম হোটেলে নিয়ে নির্যাতন করা হয়। এ অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আসামিকে সাত বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। আপিলের রায়ে এ সাজা বহাল রয়েছে।

নাসির উদ্দিন চৌধুরীকে নির্যাতন (অভিযোগ নং ১৪) : কোতোয়ালি থানা এলাকা থেকে নাসির উদ্দিন চৌধুরীকে অপহরণ করে ডালিম হোটেলে নেওয়া হয়। সেখানে আলবদর বাহিনীর সদস্যরা তাঁকে নির্যাতন করে। ১৬ ডিসেম্বর নাসির উদ্দিনসহ আরো এক-দেড় শ স্থানীয় ব্যক্তি মুক্তি পান ডালিম হোটেল থেকে। এ অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আসামিকে ১০ বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আপিল বিভাগে এ সাজা বহাল রয়েছে।

যেসব অভিযোগ থেকে খালাস : আপিল বিভাগ যে তিনটি অভিযোগ থেকে মীর কাসেম আলীকে খালাস দিয়েছেন সেগুলো হলো সাইফ উদ্দিন খানকে নির্যাতন (নং ৪), হারুন-অর রশিদকে নির্যাতন (নং ৬) এবং রনজিত দাস ও টুনটু সেনকে হত্যার অভিযোগ (নং ১২)।

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, প্রত্যাশিত ফল পেয়েছি : রায়ের পর নিজ কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় চট্টগ্রামের আলবদর কমান্ডার মীর কাসেম আলী যে অপরাধ করেছেন তাতে তাঁর সর্বোচ্চ শাস্তিই প্রাপ্য ছিল। আদালত তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। তিনি দণ্ডিত না হলে ন্যায়বিচারের ধারাবাহিকতা ক্ষুণ্ন হতো। তাই আমরা প্রত্যাশিত ফল পেয়েছি।’

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘কিছু কিছু সংস্থা, সংগঠন বা ব্যক্তি এমন ভাব দেখাচ্ছে যে তারাই বিচারের সব করছে। কিন্তু তাদের এই ধারণা ভুল। জননেত্রী শেখ হাসিনা দৃঢ় না থাকলে এ বিচার হতো না।’ তিনি বলেন, ‘যাঁরা নানা রকম মিটিং করেন, আদালত সম্পর্কে নানা রকম বক্তব্য দেন, তাঁদের সব সময় মনে রাখা উচিত—রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে এ বিচার হচ্ছে। আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে যুদ্ধাপরাধের বিচারের অঙ্গীকারের কথা বলা হয়। আওয়ামী লীগ যদি ক্ষমতায় না আসত তাহলে এ বিচার কোনো দিনই শুরু হতো না।’

খন্দকার মাহবুব বলেন, সর্বোচ্চ আদালতের রায় আমাকে মানতেই হবে : রায়ের পর মীর কাসেম আলীর প্রধান আইনজীবী অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘দেশের সর্বোচ্চ আদালত যে রায় দিয়েছেন, একজন আইনজীবী হিসেবে তা আমাকে মানতেই হবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘এ মামলা চলাকালে সাক্ষ্যগ্রহণ ও মামলার অবস্থান সম্পর্কে প্রধান বিচারপতি ও অ্যাটর্নি জেনারেল যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা আপনারা জানেন। তাই বলি ভবিষ্য ইতিহাস এ রায় পর্যালোচনা করবে।’ তিনি বলেন, ‘পূর্ণাঙ্গ রায় পাওয়ার পর আমরা রিভিউর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।’ 

মীর কাসেমের স্ত্রীর বিবৃতি : রায় ঘোষণার পর মীর কাসেম আলীর স্ত্রী খন্দকার আয়েশা খানম এক লিখিত বিবৃতি সাংবাদিকদের হাতে তুলে দেন। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে আদালতে যে সাক্ষ্য-প্রমাণ আনা হয়েছে, তা কোনোভাবেই অপরাধ প্রমাণে যথেষ্ট নয়। এ মামলার যুক্তিতর্ক চলার সময়ে প্রধান বিচারপতির বিভিন্ন মন্তব্য থেকে প্রতীয়মান হয়, মীর কাসেম আলীর মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখার মতো আইনগত ভিত্তি নেই।’ তিনি বলেন, ‘আমরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছি, পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর রিভিউ আবেদন করব।’

রায়ের আগেই কাসেমের আইনজীবীদের আদালত কক্ষ ত্যাগ : রায় শোনার জন্য গতকাল উপস্থিত হন উভয় পক্ষের আইনজীবীরা। সকাল ৯টা ৫ মিনিটে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার নেতৃত্বে আপিল বিভাগের ৯ জন বিচারপতি এজলাসে বসেন। আদালত বসার পর বেঞ্চ কর্মকর্তা কার্যতালিকা থেকে এক নম্বর মামলা (দুই মন্ত্রীর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ) ডাকেন। এরপর অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমকে ডেকে প্রধান বিচারপতি দুই মন্ত্রীর বিষয়ে কিছু কথা বলেন এবং তাঁদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করেন। পরে বিচারকরা এজলাস থেকে নেমে যান। ৯টা ১৭ মিনিটে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে পাঁচ বিচারপতি এজলাসে বসেন। ওই সময় বেঞ্চ কর্মকর্তা একের পর এক মামলা ডাকতে থাকেন। যখন কার্যতালিকার ৬ নম্বর মামলা ডাকা হয় তখন খন্দকার মাহবুব হোসেনের নেতৃত্বে মীর কাসেম আলীর আইনজীবীরা আদালত কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান। এ পরিস্থিতিতে অ্যাটর্নি জেনারেলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে খন্দকার মাহবুবকে ডাকতে বলেন প্রধান বিচারপতি। অ্যাটর্নি জেনারেল খন্দকার মাহবুবকে ডাকতে ছুটে যান। তখন প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘খন্দকার মাহবুব হোসেন বেরিয়ে গেলেন কেন? রায় হবে তো।’ ওই সময় কোনো এক আইনজীবী জানান, ‘কার্যতালিকায় রায়ের বিষয়টি নেই। আর একের পর এক অন্য মামলা ডাকার কারণে তিনি হয়তো ভেবেছেন রায় হবে না।’ 

অ্যাটর্নি জেনারেল আদালত কক্ষের প্রধান ফটকের কাছাকাছি যেতেই খন্দকার মাহবুব আবার আদালত কক্ষে ফিরে আসেন। তখন প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘রায় হবে। আমাদের অফিসের ভুল হয়েছে। তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল আদালত অবমাননার বিষয়টি কার্যতালিকার এক নম্বরে থাকবে। আর রায়েরটি থাকবে ১(এ) হিসেবে। কিন্তু অফিস ভুলে ১(এ) নম্বরটি কার্যতালিকায় তোলেনি।’ এরপর প্রধান বিচারপতি আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ডেকে পাঠান। দুই কর্মকর্তা উপস্থিত হলে প্রধান বিচারপতি তাঁদের উদ্দেশে বলেন, ‘এটা খুব খারাপ। এত বড় ভুল হলো কেন?’ এরপর তিনি দ্রুত সম্পূরক কার্যতালিকা প্রকাশের নির্দেশ দেন।

কাশিমপুর কারাগারে রায় জানলেন মীর কাসেম : গাজীপুর থেকে আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, ফাঁসির দণ্ড বহাল রেখে সর্বোচ্চ আদালতের দেওয়া রায়ের কথা কাশিমপুর কারাগারে আটক মীর কাসেম আলীকে অনানুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। সাজা বহাল থাকার কথা শুনে তিনি স্বাভাবিক আছেন। নিয়মমাফিক খাবারও খেয়েছেন। মীর কাসেম আলী গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার পার্ট-২-এর ৪০ নম্বর কনডেম সেলে বন্দি আছেন।

কাশিমপুর কারাগার পার্ট-২-এর জেল সুপার প্রশান্ত কুমার বণিক জানান, কাসেম আলীর সেলে টেলিভিশন বা রেডিও নেই। তাই রায়ের খবরটি তিনি সঙ্গে সঙ্গে জানতে পারেননি। দুপুর ১২টার দিকে তিনি সেলে গিয়ে সাজা বহাল থাকার খবরটি তাঁকে জানান। রায় শোনার পর তাঁর মধ্যে তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।

মন্তব্য