kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


স্বাধীনতা পদক পাচ্ছেন ১৪ ব্যক্তি ও নৌবাহিনী

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৮ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



স্বাধীনতা পদক পাচ্ছেন ১৪ ব্যক্তি ও নৌবাহিনী

জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এবার দুই মন্ত্রীসহ ১৪ বিশিষ্ট ব্যক্তি ও এক প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনতা পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, পাটের জিন রহস্য আবিষ্কারক প্রয়াত অধ্যাপক ড. মাকসুদুল আলম, রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা এবং বাংলাদেশ নৌবাহিনী এ তালিকায় রয়েছে।

গতকাল সোমবার এক তথ্যবিবরণীতে এ কথা জানানো হয়।

বিবরণীতে বলা হয়, ১৯৭১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পাকিস্তান দূতাবাসে কর্মরত থাকা অবস্থায় বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে প্রবাসে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত সংগঠক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতকে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ ক্ষেত্রে এই পদক দেওয়া হবে।  

মুক্তিযুদ্ধ সংগঠক ও মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ১৯৭১ সালে ভারতের মুক্তিযোদ্ধা ট্রেনিং ক্যাম্প, অপারেশন ক্যাম্প ও শরণার্থী ক্যাম্পে দায়িত্ব পালনের স্বীকৃতি হিসেবে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী মুহা. ইমাজ উদ্দিন প্রামাণিকও পাচ্ছেন এই পুরস্কার।

স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ ক্ষেত্রে পদকের জন্য মনোনীত হয়েছেন সফল রাজনীতিবিদ, মুক্তিযোদ্ধা এবং বিশিষ্ট সমাজসেবক মরহুম মৌলভী আচমত আলী খান।

সুপারসনিক এয়ারক্রাফট এফ-৬-এর পাইলট এবং মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ এয়ার ফোর্স গঠন

 প্রক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালনকারী স্কোয়াড্রন লিডার (অব.) বদরুল আলম বীর-উত্তম পদকের জন্য মনোনীত হয়েছেন।

পদক পাচ্ছেন ১৯৭১ সালে রাজশাহী জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে কর্মরত থাকা অবস্থায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর রাজশাহী পুলিশ লাইনস আক্রমণ প্রতিরোধে পুলিশ ফোর্স সংগঠনে নেতৃত্বদানকারী শহিদ শাহ্ আব্দুল মজিদ।

রাঙামাটিতে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ সংঘটনে নেতৃত্বদানের জন্য পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে শাহাদাতবরণকারী রাঙামাটির তৎকালীন মহকুমা প্রশাসক এম আবদুল আলীও এবার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাচ্ছেন।

১৯৭১ সালে পাকিস্তান হাইকমিশন, লন্ডনে কর্মরত থাকা অবস্থায় বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আনুগত্য প্রকাশকারী এবং বাংলাদেশের প্রথম সংবিধান স্বহস্তে লেখক মরহুম এ কে এম আবদুর রউফও এবারের সম্মাননার জন্য মনোনীত হয়েছেন।

১৯৭১ সালে দিল্লিতে পাকিস্তান হাইকমিশনে কর্মরত থাকাকালে পাকিস্তানের পক্ষ ত্যাগ করে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আনুগত্য প্রকাশকারী এবং দিল্লিতে বাংলাদেশের প্রথম মিশন স্থাপনকারী কে এম শিহাব উদ্দিনও পাচ্ছেন এই পদক।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে স্বাধীনতার পক্ষে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করার স্বীকৃতি হিসেবে এবার স্বাধীনতা পদক পাচ্ছেন সৈয়দ হাসান ইমাম।

একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি আদায়ে অগ্রণী ভূমিকা পালনকারী মরহুম রফিকুল ইসলাম এবং আবদুস সালাম মাতৃভাষা ক্ষেত্রে স্বাধীনতা পদক পাচ্ছেন।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য কৃষি গবেষক এবং তোষা পাট ও দেশি পাটের জীবন রহস্য আবিষ্কারক মরহুম অধ্যাপক ড. মাকসুদুল আলম রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি হিসেবে এই পদক পাচ্ছেন।

প্রথিতযশা শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. মোহাম্মদ রফি খান (এম আর খান) চিকিত্সাবিদ্যায় এবার পদকের জন্য মনোনীত হয়েছেন।  

রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী এবং রবীন্দ্রসংগীত গবেষক অধ্যাপক রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা সংস্কৃতি ক্ষেত্রে এবার এ পদক পাচ্ছেন।  

এ ছাড়া মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে অসামান্য অবদান এবং দেশের জলসীমায় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নিরলস দায়িত্ব পালনরত বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে এবার স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীত করেছে সরকার।  

আগামী ২৪ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ২০১৬ সালের স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্তদের হাতে পুরস্কার তুলে দেবেন বলে তথ্যবিবরণীতে জানানো হয়েছে। সূত্র : বাসস।


মন্তব্য