২৫ বছর পর চিড়িয়াখানার জমি উদ্ধার-333474 | প্রথম পাতা | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১৪ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৬ জিলহজ ১৪৩৭


২৫ বছর পর চিড়িয়াখানার জমি উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৮ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



অবশেষে ঢাকার মিরপুরে জাতীয় চিড়িয়াখানার শত কোটি টাকা মূল্যের পৌনে দুই একর জমি উদ্ধার করেছে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ। ২৫ বছর পর গত ২ ও ৩ মার্চ এই জমি উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া চিড়িয়াখানার আরো প্রায় সোয়া দুই একর জমি বেদখলে রয়েছে, যা উদ্ধারের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। গতকাল সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ ছায়েদুল হক এ তথ্য জানান।

অভিযোগ আছে, জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ ভুল দাগ নম্বর উল্লেখ করে এই জমি কতিপয় ব্যক্তিকে বরাদ্দ দিলে তা হাতছাড়া হয় চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের। চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ যতবারই সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করার চেষ্টা করেছিল, ততবারই দখলদাররা তা ভেঙে দিয়ে চিড়িয়াখানাকে দীর্ঘদিন অরক্ষিত ও অনিরাপদ করে রেখেছিল।

গতকাল মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ১ দশমিক ৮১ একর জমি স্থানীয় দখলদারের নিয়ন্ত্রণে ছিল। সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টা ও প্রশাসনের সহায়তায় বেদখল হওয়া জমি উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি বলেন, এই জমি অতীতের কোনো সরকারই দখলমুক্ত করতে পারেনি। কিন্তু বর্তমান সরকার গডফাদারদের শুধু উচ্ছেদই নয়, তাদের আইনের আওতায়ও এনেছে। তিনি জানান, উচ্ছেদ কার্যক্রমের মাধ্যমে যেমন শত কোটি টাকার সম্পত্তি উদ্ধার হয়েছে তেমনি চিড়িয়াখানার অরক্ষিত হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পত্তিও নিরাপত্তার আওতায় এসেছে। উদ্ধারকৃত জমিতে এখন নিরাপত্তা দেয়াল নির্মাণের কাজ চলছে। 

এই ঘোষণা দেওয়ার আগে জাতীয় চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ মিরপুরে সাংবাদিকদের উদ্ধার হওয়া জমি ঘুরে দেখান। পরে জাতীয় চিড়িয়াখানার কিউরেটর ডা. এস এম নজরুল ইসলাম বলেন, মিরপুর শাহ আলী থানাধীন বিশিল মৌজায় সিএস ১৫ নম্বর দাগে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ ১.৭৫ কাঠার আটটি প্লট বরাদ্দ দেয়। কিন্তু প্লট মালিকরা আরো এক একর জমি দখল করে নেন। অথচ জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের প্রকৃত সিএস দাগ নম্বর ১৭। সিএস ১৫ নম্বর দাগের জমিগুলোর প্রকৃত মালিক মিরপুর জাতীয় চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ। তবে গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ তা দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের দাবি করে অন্যদের অনুকূলে বরাদ্দ দিয়েছিল। এ নিয়ে নানা চিঠি চালাচালির একপর্যায়ে ঢাকা ডিসি অফিস ডিজিটাল (টোটাল স্টেশন) পদ্ধতিতে সীমানা চিহ্নিত করে চিড়িয়াখানাকে তাদের জমির সপক্ষে প্রতিবেদন দেয়। তবু অস্বীকার করে আসছিল গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ। এ জন্য দখলদাররাও সক্রিয় ছিলেন।

এ অবস্থায় গত ২১ জানুয়ারি চিড়িয়াখানার সীমানাপ্রাচীর নির্মাণকাজ দেখতে যান প্রাণিসম্পদমন্ত্রী ও সচিব। এ সময় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ডিজি ও চিড়িয়াখানা কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁরা মতবিনিময় করেন। এ সভাতে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাহী প্রকৌশলীরাও অংশ নেন। সভায় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ তাদের বরাদ্দ দেওয়া আটটি প্লটের দালিলিক প্রমাণ উপস্থাপনে ব্যর্থ হয়। পরে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি চিড়িয়াখানার কর্মকর্তারা সীমানাপ্রাচীর নির্মাণকাজ দেখতে গেলে স্থানীয় দখলদার বাবুল তালুকদার, জাহিদ ও রইস ওরফে উকিল নামধারী ব্যক্তিরা হামলা চালায়। এতে আট কর্মকর্তা ও ২৩ জন কর্মচারী আহত হন। এ ঘটনায় শাহ আলী থানায় ২৮ ফেব্রুয়ারি একটি মামলা দায়ের করে কর্তৃপক্ষ। ইতিমধ্যে পুলিশ এজাহারভুক্ত একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে।

এদিকে উদ্ধার হওয়া জমি দেখতে গেলে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ থেকে বরাদ্দ পাওয়া প্লটের মালিক আবুল কাশেম সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের বরাদ্দ দেওয়া ১.৭৫ কাঠার সরকারি প্লট কিনেছি। এখন দেখছি সেই প্লটের মালিক চিড়িয়াখানা।’ তিনি বলেন, ‘আমার প্লটের প্রায় এক কাঠা জমি চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ দখলে নিয়েছে।’ তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এই জমি যদি চিড়িয়াখানার হয় তাহলে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষকে আমাদের জমি বুঝিয়ে দিতে হবে।’

মন্তব্য