রাজনৈতিক দলে কোটা পূরণে বাকি চার বছর-333465 | প্রথম পাতা | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

শুক্রবার । ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১৫ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৭ জিলহজ ১৪৩৭


রাজনৈতিক দলে কোটা পূরণে বাকি চার বছর

কাজী হাফিজ   

৮ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য ২০২০ সালের মধ্যে তাদের কেন্দ্রীয়সহ সব কমিটিতে কমপক্ষে ৩৩ শতাংশ সদস্য পদ নারীদের মাধ্যমে পূরণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। অর্থাৎ আগামী চার বছরের মধ্যেই দলগুলোকে একাজ সম্পন্ন করতে হবে। এ বিষয়ে অগ্রগতি ও আইনি বাধ্যবাধকতার বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিতে নির্বাচন কমিশন দলগুলোকে চিঠি দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

গত রবিবার এবারের নারী দিবস উপলক্ষে একটি সেমিনার থেকে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের কর্মকর্তারা এ বিষয়ে তাগিদ পাওয়ার পর এই প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

ইসি সচিব সিরাজুল ইসলাম এ বিষয়ে গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে রাজনৈতিক  দলগুলোতে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়টি বাধ্যতামূলক। কমিশন এই বাধ্যবাধকতার বিষয়টি দলগুলোকে স্মরণ করিয়ে দিতে পারে। এ-বিষয়ক একটি প্রস্তাবনা নির্বাচন কমিশনারদের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০০৮ সালে ড. এ টি এম শামসুল হুদার নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোতে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর জন্য গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে (আরপিও) কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন অধ্যায়ে এ বিষয়ে শর্ত আরোপের প্রস্তাব করে। ওই প্রস্তাব অনুসারে আরপিওর ৯০-এর খ-তে এই বিধান রাখা হয় যে, ‘কেন্দ্রীয় কমিটিসহ সব পর্যায়ের কমিটিতে ন্যূনপক্ষে ৩৩ শতাংশ সদস্যপদ নারী সদস্যদের জন্য সংরক্ষণের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য এবং এই লক্ষ্যমাত্রা পর্যায়ক্রমে আগামী ২০২০ সাল নাগাদ অর্জন করতে হবে।

এ ছাড়া আরপিওতে এ বিধান প্রতিপালন না করলে নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাতিল করতে পারবে।

এ বিষয়ে ইসি সচিবালয় সূত্র জানায়, প্রসংগত, ২০০৮ সালে দেশে নারী ভোটার ছিল চার কোটি ১২ লাখ ৩৬ হাজার ৫৪৯ জন এবং পুরুষ ভোটার ছিল তিন কোটি ৯৮ লাখ ২২ হাজার ১৪৯ জন। অর্থাৎ সাত বছর আগে পুরুষ ভোটারের চেয়ে নারী ভোটার ১৪ লাখ ১৪ হাজার ৪০০ জন বেশি ছিল। বিষয়টি তখন বিভিন্ন সংবাদপত্রে গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হয়। এতে সে সময় বিভিন্ন মহল থেকে এই প্রশ্ন ওঠে যে, দেশের জনসংখ্যার বেশির ভাগ যেখানে নারী সেখানে রাজনৈতিক দলগুলোতে নারীর অংশগ্রহণ কেন বাড়ানো হবে না।

তবে ২০০৮ সালের পর থেকে ভোটার হালনাগাদে নারী ভোটার ক্রমশ কমতে কমতে এখন পুরুষের সংখ্যা বেশি হয়ে গেছে। বর্তমান তালিকায় দেশের ভোটারসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯ কোটি ৯৮ লাখ ৯৮ হাজার ৫৫৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার পাঁচ কোটি তিন লাখ ২০ হাজার ৩৬২ জন ও নারী ভোটার চার কোটি ৯৫ লাখ ৭৮ হাজার ১৯১ জন। অর্থাৎ পুরুষের তুলনায় নারী ভোটার সাত লাখ ৪২ হাজার ১৭১ জন কম। মোট ভোটারের মধ্যে পুরুষ ৫০.৩২ শতাংশ ও নারী ৪৯.৫৮ শতাংশ। এ অবস্থা দেশের জনসংখ্যায় নারী-পুরুষের অবস্থান সংগতিপূর্ণ নয় বলে অনেকের ধারণা।

এদিকে নারী দিবসবিষয়ক ওই সেমিনার সম্পর্কে ইসি সচিবালয়ের যুগ্ম সচিব জেসমিন টুলি এ প্রতিবেদককে বলেন, ইউএসএইড ও ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশন ফর ইলেকটোরাল সিস্টেমের আয়োজনে ওই সেমিনারে দেশের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দল এবং সুধীসমাজের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।

জেসমিন টুলি আরো বলেন, ‘সেমিনারে আলোচিত আরো কয়েকটি বিষয়ের মধ্যে রাজনৈতিক দলে নারীদের অংশগ্রহণের বিষয়টি ছিল অন্যতম। এ ছাড়া আট বছর আগে দলগুলোকে তাদের সব কমিটিতে ৩৩ শতাংশ নারীদের অন্তর্ভুক্তির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।  সেই লক্ষ্যমাত্রা কতটুকু পূরণ হয়েছে সেটাও আমাদের জানা দরকার।’

নির্বাচন কমিশন নিজেই নারীশূন্য : এদিকে রাজনৈতিক দলে নারী সদস্য বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হলেও নির্বাচন কমিশন নিজেই নারীশূন্য। স্বাধীনতার পর ৪৫ বছর ধরে এই অবস্থা চলছে। সর্বশেষ ২০১২ সালে রাষ্ট্রপতি একজন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি)-সহ যে পাঁচজন নির্বাচন কমিশনারকে নিয়োগ দিয়েছেন তাঁদের মধ্যে একজনও নারী নেই। আগের নির্বাচন কমিশনের প্রস্তাব ছিল একজন নারী কমিশনারসহ নির্বাচন কমিশন গঠনের। কিন্তু সে প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়নি। ওই প্রস্তাবের পরে সংবিধান সংশোধন করে সর্বোচ্চ পাঁচজন কমিশনার নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠনের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু কোনো নারী সদস্য নিয়োগের বাধ্যবাধকতা উল্লেখ করা হয়নি।

 

মন্তব্য